kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভারত হয়ে তিন রুটে আসছে ইয়াবা

► মাদক নিয়ন্ত্রণে ভারত-বাংলাদেশের ৬ সিদ্ধান্ত
► ভার্চুয়াল মুদ্রা ও হুন্ডিতে কুরিয়ারে কারবার

এস এম আজাদ   

২৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ভারত হয়ে তিন রুটে আসছে ইয়াবা

মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার সীমান্ত রুটে ইয়াবা ঢোকার পাশাপাশি ভারতের সীমান্ত দিয়েও ঢুকছে—এমন তথ্য মিলছিল সাম্প্রতিক সময়ে। প্রশাসনের নজর এড়াতে কারবারিরা মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে চোরাচালান করছে বলেও দাবি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর। এবার ভারত সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার করার প্রধান তিনটি রুট শনাক্ত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এগুলো হলো, ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তের কিছু এলাকা, আসামের কিছু অংশ এবং পশ্চিম বাংলার কিছু এলাকা।

ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোকে (এনসিবি) এই তথ্য দিয়ে সহযোগিতা চেয়েছে ডিএনসি। গত বুধবার দুই দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভায় (ভার্চুয়াল) এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সভার আয়োজনসহ ছয়টি বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। সভায় ফেনসিডিলসহ কোডিনজাতীয় মাদক পাচারের তথ্য দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তের পর এখন  উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে গাঁজা পাচার বেড়েছে। সভায় হেরোইন পাচার বেড়েছে বলেও জানানো হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ভারতকে জানান, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ভুয়া ঠিকানায় মাদক পাচার হচ্ছে। অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রা ও হুন্ডির মাধ্যমে মাদক কারবারের আর্থিক লেনদেন হচ্ছে। ভারতের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সভায় বাংলাদেশের ডিএনসির ডিজি আব্দুস সবুর মণ্ডল এবং ভারতের এনসিবির ডিজি রাকেশ আস্থানা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

সভার ব্যাপারে ডিএনসির ডিজি আব্দুস সবুর মণ্ডল বলেন, ‘আগেও ভারত আমাদের সহযোগিতা করেছে। তালিকা অনুযায়ী অনেক ফেনসিডিল কারখানা তারা ধ্বংস করেছে। ভারতের কিছু অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার হয়। সেটিও ভারতকে অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি মাদক পাচারে সমুদ্রপথ ব্যবহার করা হচ্ছে, গুরুত্ব্ব দিয়ে এটা আলোচনা করা হয়েছে। দুই দেশই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ডিএনসির আরেক কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশে কোনো মাদকদ্রব্য তৈরি না হলেও পাচারের কারণে বেশি ক্ষতির মধ্যে পড়ছে। ভারতকে বলা হয়েছে, ‘সুশাসন ও নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় সভা করলে অনেক কিছুরই সমাধান হবে।’ ভারত এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে দুই দেশ। নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। নতুন রুট ও মাদকের কারবারের ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো হবে। কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেল এবং আর্থিক লেনদেনগুলো নিয়ে তদন্তে একমত হন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

সূত্র জানায়, ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তের কিছু অংশ, আসামের কিছু অংশ এবং পশ্চিম বাংলার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসছে। মিয়ানমারের কারবারিরা প্রথমে ভারতে ইয়াবা পাচার করছে। পরবর্তী সময়ে এসব পথে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। এমন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। বেশ কিছু ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করা হলেও বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর দিকের সীমান্ত দিয়ে এখনো ফেনসিডিল পাচার হচ্ছে। এ ছাড়া কোরেক্স, এস্কাফ, এমকে ডিল (কোডিন ফসফেট) এবং কোডোকফ নামের ফেনসিডিলের মতোই কোডিন মিশ্রিত মাদক পাচার হয়ে আসছে। প্লাস্টিক ও কাচের বোতলের পাশাপাশি পলিথিন ও ড্রামে করে আনা হয় এগুলো।

ভারতের কর্মকর্তারা বলেছেন, ফেনসিডিলের ব্যাপারে নজরদারি আছে এবং অনেক কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছে। সভায় আরো জানানো হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার পর এখন উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে গাঁজা পাচার করা হচ্ছে। রাজশাহী এলাকা দিয়ে বেড়েছে হেরোইনের পাচার।



সাতদিনের সেরা