kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

মাল্টায় আশ্রয়প্রার্থীদের ৫% বাংলাদেশি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাল্টায় আশ্রয়প্রার্থীদের ৫% বাংলাদেশি

ইউরোপের দেশ মাল্টায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত ৫ শতাংশ বাংলাদেশি অ্যাসাইলাম চেয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) গতকাল শুক্রবার এসংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে। এসব মানুষ সাগরপথে অবৈধভাবে মাল্টায় ঢুকেছিল।

এ ছাড়া ইউএনএইচসিআর গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সাগরপথে মাল্টায় প্রবেশের হিসাব প্রকাশ করেছে।

ইউএনএইচসিআর এ বছরের প্রথম আট মাসে মাল্টায় প্রথমবারের মতো অ্যাসাইলামের জন্য আবেদনের প্রবণতাও পর্যবেক্ষণ করেছে। গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত অ্যাসাইলামের জন্য প্রথমবার আবেদনকারীদের শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় পঞ্চম স্থানে আসে বাংলাদেশ। তালিকায় সবার ওপরে আছে সুদান (১৮ শতাংশ)। এরপর আছে যথাক্রমে সিরিয়া (১৩ শতাংশ), সোমালিয়া (১১ শতাংশ), ইরিত্রিয়া (১০ শতাংশ) ও বাংলাদেশ (৫ শতাংশ)।

ইউএনএইচসিআর জানায়, গত বছর দুই হাজার ২৮১ জন বিদেশি সাগরপথে অবৈধভাবে মাল্টায় ঢুকেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাগরপথে মাল্টায় ঢুকেছে ৪৬৪ জন। এ সংখ্যা আগের বছরের ওই সময়ের তুলনায় ৭৯ শতাংশ কম। এ বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মাল্টায় যাওয়া ৪৬৪ জন বিদেশির মধ্যে ৬৫ জন গেছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে।

মাল্টার বিমানবাহিনী গত এপ্রিল মাসে ১৪ জন, মে মাসে ৬৮ জন, জুন মাসে ৯৭ জন, জুলাই মাসে ১৬৪ জন ও আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে সাগর থেকে উদ্ধার করেছে। গত জানুয়ারি, মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে সাগরপথে অবৈধভাবে কেউ মাল্টায় ঢুকতে পারেনি।

সাগরপথে মাল্টায় পৌঁছানো আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা দিয়েছে ইউএনএইচিআর প্রতিনিধিদল। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সাগরপথে মাল্টায় পৌঁছানো ব্যক্তিদের মধ্যে শীর্ষ আছে সিরিয়ানরা (২৩ শতাংশ)। এর পরই আছে সুদান (১৮ শতাংশ), ইরিত্রিয়া (১৮ শতাংশ) ও মিসরের (৮ শতাংশ) নাগরিকরা। বাকি ৩১ শতাংশের মধ্যে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের নাগরিকরা আছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লিবিয়া বা তার আশপাশের দেশগুলো থেকে অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছার অর্থ স্থায়ীভাবে আশ্রয় নয়। তারা সাময়িকভাবে আশ্রয় পেলেও তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলো আলাদাভাবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’ রয়েছে। গত দেড় বছর কভিড মহামারির কারণে এসওপি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ইইউ ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপের হুমকি দিয়েছে। এরপর বাংলাদেশও ইউরোপে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছেন, জার্মানি থেকে ৮৬০ জন বাংলাদেশিকে ফিরে আসতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী ২৬ অক্টোবর ব্রাসেলসে বাংলাদেশ ও ইইউর পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে বৈঠকেও অবৈধ অভিবাসন এবং অবৈধদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 



সাতদিনের সেরা