kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা জাতিসংঘের

‘সামরিক বাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ যুদ্ধাপরাধ করছে’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা জাতিসংঘের

মিয়ানমারে জান্তার বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় গৃহযুদ্ধের বড় ধরনের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। গতকাল বৃহস্পতিবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট। প্রতিবেদনে মিয়ানমারের জনগণের ওপর সামরিক বাহিনীর চলমান নির্যাতন-নিপীড়নকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মানবাধিকার পরিষদকে জানান, সম্ভাব্য আরো বড় সংঘাত-সহিংসতা প্রতিরোধ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা জোরদারের সময় ফুরিয়ে এসেছে।

উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এর পর থেকে দেশটিতে ব্যাপক সংঘাত-রক্তপাত চলছে। এদিকে মিয়ানমারের নির্বাচিত সব দলের জনপ্রতিনিধিরা মিলে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করেছে। ওই সরকার জান্তার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতা বাড়ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেট বলেছেন, সংঘাত ক্রমেই বড় হয়ে ওঠার আগেই তা ঠেকাতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারির বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়ছে মিয়ানমারে। অর্থনীতিতে ধস নামছে। এর পরও মানবিক বিপর্যয় থামার কোনো লক্ষণ নেই।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান ঘটানোর পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গণগ্রেপ্তার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, স্বাধীনতা, ব্যক্তি নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ব্যাপক লঙ্ঘন ঘটছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ও সশস্ত্র প্রতিরোধ দুটিই বেড়েছে।

মিশেল ব্যাশেলেট বলেন, ‘সামরিক খাত সংস্কার ও দায়মুক্তি মোকাবেলায় আগের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন বা মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে সামরিক কর্তৃপক্ষের কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণের লক্ষণ নেই। এটি জোরালোভাবে জবাবদিহির গুরুত্বকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।’

জাতিসংঘ জানায়, গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ৭০ জনেরও বেশি ব্যক্তি ও সাক্ষী, দূর থেকে পর্যবেক্ষণ, উন্মুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-উপাত্ত এবং অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সামরিক বাহিনী আট হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা, বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকরাও আছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে নিরাপত্তা হেফাজতে অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে অব্যাহতভাবে দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন করছে। তাদের খাবার, পানি ও ঘুমাতে দেওয়া হয় না। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে অনেক আন্দোলনকারীও হাতে অস্ত্র তুলে নিতে উৎসাহিত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে এই সংকটের প্রভাব হবে মর্মান্তিক ও ভয়ংকর। আঞ্চলিক প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই সংঘাত প্রতিরোধ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা অবশ্যই জোরদার করা উচিত।’

 



সাতদিনের সেরা