kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

পুলিশ দম্পতির পাল্টাপাল্টি মামলা

স্বামীর পর এবার স্ত্রীও বরখাস্ত হচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বামীর পর এবার স্ত্রীও বরখাস্ত হচ্ছেন

পারিবারিক কলহের জের ধরে পুলিশ দম্পতির পরস্পরের বিরুদ্ধে করা মামলায় স্বামী ওবায়দুল কবির সুমন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এখন তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া বেগম লাকিকেও বরখাস্ত করা হচ্ছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জেসমিন বেগম গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুমাইয়ার মামলার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমরা যখন জানতে পারব তাঁর নামে মামলা হয়েছে এবং তিনি আদালতে হাজির হয়েছেন, সেই দিন থেকেই তিনি সাসপেন্ড হবেন। আমরা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদালত থেকে জামিন নিয়ে চাকরিতে বহাল আছেন সুমাইয়া। সুমন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ১ জুন বরখাস্ত করে ডিএমপি। অন্যদিকে

তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া বর্তমানে সিআইডি রাজশাহী মেট্রোতে উপপরিদর্শক পদে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে স্বামীর কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।

মামলায় ওবায়দুল কবির অভিযোগ করেছেন, ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে সুমাইয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে চার বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে স্ত্রী সুমাইয়া বেগম লাকি উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন আর পরকীয়ায় লিপ্ত হন। ছেলেকে বাসায় রেখে তিনি কাউকে কিছু না বলে ফোন বন্ধ করে বেরিয়ে যেতেন ইচ্ছামতো। ফেরার পর কিছু জিজ্ঞাসা করলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতেন এবং নারী নির্যাতনের মামলা করে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিতেন। অনেক বুঝানোর পরও সুমাইয়ার আচরণ দিনের পর দিন খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে সুমাইয়া তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা ডিপোজিটসহ তাঁর মায়ের বাড়ি করার জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে উপায় না পেয়ে ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। যৌতুক নিরোধ আইনে করা ওই মামলায় সুমাইয়া বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর গত ২৭ জানুয়ারি জামিন নেন সুমাইয়া। মামলাটি বিচারাধীন।

ওবায়দুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই মামলার পর ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুমাইয়া বেগমকে তালাক দেন তিনি। তালাকের নোটিশ পেয়ে সুমাইয়া ছয়-সাতজন লোক নিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে বাড়ির সামনে আক্রমণ করেন। এ ঘটনায় তিনি ঢাকা মহানগর নির্বাহী হাকিমের আদালতে সুমাইয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১০৭/১১৭ ধারায় আরেকটি মামলা করেন। এই মামলাটিও বিচারাধীন।

এদিকে ওবায়দুল কবিরের মামলার পর স্ত্রী সুমাইয়া ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) রাজপাড়া থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা ওই মামলায় একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে জামিন নেন ওবায়দুল কবির। এ মামলায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওবায়দুল কবির বলছেন, স্ত্রীর করা মামলার জেরে তিনি বরখাস্ত হলেন। অথচ স্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর করা যৌতুক ও ফৌজদারি আইনে দুটি মামলা থাকার পরও সুমাইয়া চাকরিতে বহাল আছেন।

এই ব্যাপারে আরএমপি সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুমাইয়া বেগম লাকীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়ে আমরা অফিশিয়ালি কোনো কাগজ পাইনি। এ ছাড়া এসব ঘটনায় সাসপেন্ড করার মতো বিষয়টি সিআইডি সদর দপ্তরের প্রশাসন দেখে। সদর দপ্তরের প্রশাসন সুমাইয়ার বিষয়ে কিছু জানে কি না তা আমার জানা নেই। তারা জানার পর যে ব্যবস্থা নেবে, সেই নির্দেশনা আমরা পালন করব।’