kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সেই শম্পা ও তার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জামালপুর প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেই শম্পা ও তার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে প্রায় পাঁচ বছর ধরে ঘরে পড়ে আছেন ভ্যানচালক বাবা। তাঁর চিকিৎসার টাকা জোগাড় ও সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি ভ্যান চালানো শুরু করে ১০ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী শম্পা খাতুন। আর শম্পার মা শুরু করেন সবজি বিক্রি। দুজনের কষ্টে উপার্জিত অর্থে কোনোমতে চলছিল সংসার ও চিকিৎসা। এ নিয়ে একটি সংবাদ নজরে পড়ায় শম্পা ও তার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জামালপুরের জেলা প্রশাসক শম্পাদের বাড়ি গিয়ে তার বাবাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া এ পরিবারের থাকার জন্য পাকা ঘর তৈরির কাজও শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘বাবার চিকিৎসার জন্য ভ্যান চালায় শিশু শম্পা’ শিরোনামে একটি সংবাদ নজরে এলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

শম্পা খাতুন জামালপুর সদর উপজেলার নাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাকাটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওরফে ভাসানীর দুই মেয়ের মধ্যে ছোট সে। কয়েক বছর আগে বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। শফিকুল আগে ভ্যান চালাতেন। পাঁচ বছর আগে জামালপুর শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় তাঁর এক পা ভেঙে যায়। পরিবারের  প্রায় সব কিছু বিক্রি করে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও তাঁর পা ভালো হয়নি। ফলে ঘরে পড়ে আছেন শফিকুল।

তাই বাবার ওষুধের টাকাসহ অভাবের সংসারের হাল ধরতে দেড় বছর আগে ভ্যান চালানো শুরু করে ছোট্ট শিশু শম্পা। এ নিয়ে খবর প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে গত সোমবার সকালে শম্পাদের বাড়িতে যান জেলা প্রশাসক। শম্পাদের পরিবারের পরিস্থিতি জেনে ওই দিনই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে গতকাল সকালে তিনি আবারও শম্পাদের বাড়িতে যান এবং শফিকুলকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায়ই শফিকুলের চিকিৎসা হবে।’

শম্পাদের থাকার জন্য একটি পাকা ঘর তৈরির কাজও উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিশু শম্পার লেখাপড়াসহ পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতে অর্থাৎ পরিবারটির আয়ের উৎস হিসেবে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করতে যা যা প্রয়োজন তাই করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন ও কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মনজুসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সহায়তা পাওয়ায় শম্পা ও তার মা-বাবা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এত কিছু সহায়তা পেয়ে আনন্দের মুহূর্তে শম্পা ও তার মা-বাবার কান্না থামাতে পারছিল না কেউ। এ সময় শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ছোট মেয়েটার কষ্ট দূর করে দিলেন। আমাদের একটা ঘর দিলেন। আমার চিকিৎসা করাবেন। এত কিছু পামু তা কল্পনাও করি নাই। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রীরে মেলা দিন বাঁচায়ে রাখুক, আমি সেই দোয়াই করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিশু শম্পা বলে, ‘আমি আর ভ্যান চালাব না। এখন আমি লেখাপড়া করব। এখন আর আমার চিন্তা নাই। চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে বিগত দিনের কষ্টের কথা মনে পড়ে যায় শম্পার মা নেবুজা বেগমের। তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে কোনো ঈদে শম্পার মুখে সেমাই তুলে দিতে পারি নাই। ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন, সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন, নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছেন, পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন, আমি এতই আনন্দিত হয়েছি যে এখন কথা বলতে পারছি না। কিভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’

তাঁদের জন্য পাকা ঘর বানাতে এরই মধ্যে নির্মাণসামগ্রী পৌঁছেছে উঠানে। সেসব দেখিয়ে নেবুজা বেগম বলেন, ‘বাড়িতে ইট, বালি, সিমেন্ট আসছে। বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যা আমি জীবনেও কল্পনা করিনি। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুক। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই দেশের অসহায় পরিবারগুলো ভালো আছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা