kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুনীরুজ্জামান চলে গেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুনীরুজ্জামান চলে গেলেন

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, খ্যাতিমান সাংবাদিক খন্দকার মুনীরুজ্জামান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ৭৩ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সততা, নিষ্ঠা ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্যের জন্য সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভক্ত-অনুরাগীদের শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নেতারা পৃথক বিবৃতিতে মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মুনীরুজ্জামান ছিলেন নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভীক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। তাঁর মৃত্যু গণমাধ্যমের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মুনীরুজ্জামানের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, পিআইবি, প্রেস কাউন্সিল, ভারতীয় হাইকমিশন, সংবাদ পরিবার, উদীচী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জানাজা শেষে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

গত ৩১ অক্টোবর রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দুই সপ্তাহ আইসিইউতে রাখতে হয়েছিল মুনীরুজ্জামানকে। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কয়েক দিন আগে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু করোনা-পরবর্তী নানা জটিলতায় তিনি মারা যান।

১৯৭০ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র সাপ্তাহিক একতায় মুনীরুজ্জামানের সাংবাদিকতা শুরু। ওই সময় তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি ছিলেন একাত্তরের স্বাধীনতাসংগ্রামের রণাঙ্গনের যোদ্ধা। দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট পার্টির ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকের শেষ দিকে সক্রিয় রাজনীতি বাদ নিয়ে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিন’-এ তাঁর সরেজমিন প্রতিবেদনগুলো তখন সাড়া জাগিয়েছিল। পরে তিনি দৈনিক সংবাদে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। বজলুর রহমানের মৃত্যুর পর সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন তিনি। দেশ টিভিতে তিনি একটি নিয়মিত টক শোর সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক কলামের বাইরে তিনি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, চিত্র সমালোচনা লিখতেন। তাঁর অনূদিত ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস’ এবং ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান’ বই দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

সম্পাদক পরিষদের শোক : দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। খন্দকার মুনীরুজ্জামান সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় বলা হয়, খন্দকার মুনীরুজ্জামানের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষ নেতৃত্বগুণ পরিষদকে স্বাধীন সাংবাদিকতার অবস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। প্রগতিশীল আদর্শের সঙ্গে তাঁর আজীবন সম্পৃক্ততা এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে সমর্থন করে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর নিরলস প্রতিশ্রুতির কারণে তিনি নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা