kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

কুষ্টিয়ায় ২৬১ চালকল কালো তালিকাভুক্ত

জামানত বাজেয়াপ্ত প্রণোদনা বাতিল করে দুই বছর সরকারকে চাল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্টিয়ায় ২৬১ চালকল কালো তালিকাভুক্ত

চুক্তি করেও সদ্য শেষ হওয়া বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ না করায় কুষ্টিয়া জেলার ২৬১টি চালকলকে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য বিভাগ থেকে এসব চালকলের প্রণোদনা বাতিল করে আগামী দুই বছর সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অটো ও হাসকিংসহ কুষ্টিয়া জেলায় চালকল রয়েছে ৫৩৫টি। এর মধ্যে অটো চালকল ৪৯টি। জেলায় এ বছর ৫৩৫টি চালকল সরকারের সঙ্গে চুক্তি করলেও এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদরে ১৪৪টি, মিরপুরে ৬৭টি ও দৌলতপুরের ৪৭টি চালকল কোনো চাল সরবরাহ করেনি। এই ২৬১টি চালকলের মধ্যে ২৫৮টি হাসকিং ও তিনটি অটো চালকল রয়েছে। এর বাইরে আংশিক সরবরাহ করেছে ১২টি চালকল। আর ২৬৫টি কল চুক্তির পুরো চাল সরবরাহ করেছে।

জেলা খাদ্য অফিস জানায়, কুষ্টিয়া জেলায় এবার (২৪ এপ্রিল-১৫ সেপ্টেম্বর) বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ হাজার টন। সেখানে সময় বাড়িয়েও সংগ্রহ হয়েছে ২২ হাজার টনের কিছু বেশি। এর মধ্যে বড় অংশ সরবরাহ হয়েছে সদর উপজেলার বড় বাজার ও জগতি গুদামে। এদিকে কিছুটা লোকসান মেনেও যাঁরা চাল দিয়েছেন তাঁদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার।

চালকল মালিকরা বলছেন, বোরো মৌসুমে ধানের দাম বেড়ে যাওয়া, চাল উৎপাদন খরচসহ অন্যান্য হিসাব মিলিয়ে সরকারি দামের চেয়ে খরচ বেশি পড়ছিল। এ কারণে অনেক মিল মালিক চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। যাঁরা সরবরাহ করেছেন তাঁরাও লোকসান গুনেছেন। চুক্তির প্রথম দিকে যাঁরা চাল সরবরাহ করেছেন তাঁদের কোনো লোকসান হয়নি, তবে পরে যাঁরা চাল সরবরাহ করেছেন তাঁদের কেজিতে তিন টাকার বেশি লোকসান গুনতে হয়েছে। আর ছোট চালকল মালিকরা এমনিতেই লোকসানে আছেন। এ কারণে তাঁরা চাল দিতে পারেননি।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন সাধু বলেন, এ বছর দেশে প্রচুর ধান উৎপাদন হলেও ধানের দাম বেড়ে যায়। আর বোরো মৌসুমে মোটা ধানের উৎপাদন হয়েছে কম। এ কারণে ধান কিনে চাল তৈরি করতে সরকার নির্ধারিত ৩৬ টাকা দরের বেশি খরচ পড়েছে। তবু চালকল মালিকরা কেজিতে তিন থেকে চার টাকা লোকসান দিয়ে চাল সরবরাহ করেছেন। এ অবস্থায় যাঁরা চুক্তি করে চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ভাবা দরকার ছিল। আর ছোট চালকল মালিকরা এমনিতেই দেউলিয়া হয়ে গেছেন। কড়া পদক্ষেপ নিলে তাঁরা আর উঠে দাঁড়াতে পারবেন না।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, যাঁরা লোকসানে চাল দিয়েছেন তাঁদের আগামীতে বাড়তি সুবিধা দিতে হবে। যাঁরা শুধু লাভের সময় চাল দেবেন আর লোকসানের সময় দেবেন না, তাঁদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা সরকারের বিষয়।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তাহসিনুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, চুক্তি করেও চাল সরবরাহ না করা চালকলগুলোর তালিকা করা হয়েছে। নেপথ্যের কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী এসব চালকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা লোকসানে চাল দিয়েছেন তাঁদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা