kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

চর্বির লোভে শুশুকটি কেটে টুকরা টুকরা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চর্বির লোভে শুশুকটি কেটে টুকরা টুকরা

ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ধরা পড়া এই শুশুকটি কেটে টুকরা টুকরা করে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের চরনওপাড়া গ্রামের লোকজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের রাজীবপুর ইউনিয়নের যাদুয়ার চর। উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চরটি বেশ নির্জন। এই এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা মাছ শিকার। কোনো কোনো সময় জেলেদের জালে বড়সড় মাছ ধরা পড়লে মানুষের মধ্যে হৈচৈ পড়ে যায়। এর মধ্যে ঘটল নতুন ঘটনা। গত মঙ্গলবার জেলেদের জালে ধরা পড়ে বড় একটি শুশুক। এটি ধরা পড়ার পরই যাদুয়ার চরে উত্সুক মানুষের ভিড় জমে যায়। কেউ কেউ ছবি তোলে। তবে স্থানীয়রা শুশুকটির গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। তারা শুশুকটি গ্রামে নিয়ে যায়। আর পরদিন বুধবার গ্রামবাসী শুশুকটি টুকরা টুকরা করে কাটে চর্বি সংগ্রহের লোভে। বিষয়টি জানাজানি হয় গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক ডলফিন দিবসে।

মূলত যাদুয়ার চর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে এক জেলের জালে ধরা পড়ে শুশুকটি। চার দিন আগে শুশুকটি ধরা পড়লেও এলাকায় তা জানাজানি হয়নি। কিন্তু গতকাল ফেসবুকে শুশুকটি টুকরা টুকরা করার ছবি ভাইরাল হলে ওই এলাকায় ছুটে যান প্রাণী, মৎস্য ও বন বিভাগের লোকজন।

স্থানীয়রা জানায়, শুশুকটি ধরা পড়ার পর প্রচার করা হয়, এর চর্বি বেশ মূল্যবান। এই চর্বি বিভিন্ন রোগের মহৌষধ। আর এতে স্থানীয়রা সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে কিনে নেয় শুশুকটির চর্বি। মূলত লোভে পড়েই জেলেরা গ্রামবাসীর সহযোগিতায় শুশুকটি কেটে চর্বি বের করে নেয়। গতকাল শুশুকটির কাটাকাটির দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে অনেককে আফসোস করতে দেখা যায়। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার তথ্য এলাকার কেউ এখন আর বলছে না।

গতকাল রাজীবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম মোদাব্বিরুল ইসলাম বন বিভাগের একজন কর্মকর্তাকে নিয়ে শুশুকটি সম্পর্কে জানতে যাদুয়ারচরে যান। চেয়ারম্যান জানান, এলাকার লোকজন না জেনেই শুশুকটি কেটে ফেলেছে। এখন থেকে ওই স্থানে কঠোর নজর রাখা হবে, যাতে শুশুক ধরা পড়লে কেউ ক্ষতি করতে না পারে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা