kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ডাক বিভাগে দুর্নীতির খবরে তোলপাড়

বিদায় নিশ্চিত জেনে ডিজি পদে নিজের ‘লোক’ চান সুধাংশু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডাক বিভাগে দুর্নীতির খবরে তোলপাড়

ডাক বিভাগের প্রায় ৫৪১ কোটি টাকার ‘পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি’ নামের প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পদ রক্ষা সম্ভব হবে না এটা নিশ্চিত জেনে অনিয়ম ও লুটপাটের জন্য দায়ী প্রকল্পটির পরিচালক ও বর্তমানে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) সুধাংশু শেখর ভদ্র (এস এস ভদ্র) নিজের আস্থাভাজন একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক পদে বসানোর অপচেষ্টা শুরু করেছেন।

গত বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নানা দুর্নীতির দায়ে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখরকে অপসারণের সুপারিশ করে।

যদিও গত বৃহস্পতিবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুধাংশু শেখর ভদ্রকে অপসারণের সংসদীয় কমিটির সুপারিশকে মন্ত্রণালয় শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখে। তবে এই সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি আইনানুগ হতে হবে। ডাক বিভাগের মহাপরিচালকের পদ থেকে কাউকে অপসারণের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তের কার্যপত্র এখনো আমাদের কাছে পৌঁছয়নি।’

গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠে “ডাকের ডিজির ‘ডাকাতি’” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর অনেকেই ডিজিসহ ডাক বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মুসলেহ উদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হওয়ায় ডাক বিভাগের ডিজিটাইজেশনের বিষয়গুলোর দুর্নীতি কিছুটা প্রকাশ হয়। তবে ডিজি সুধাংশু শেখরের সময় নানা কাজে অনিয়মের ঘটনা এখনো সামনে আসেনি। এ অবস্থায় নতুন মহাপরিচালক বাছাইসহ ডাক বিভাগের সার্বিক বিষয় নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে বৈঠক আহ্বান করা হয়। কিন্তু মন্ত্রী না থাকায় সচিবও সে বৈঠকে যোগ দেননি। ফলে মন্ত্রী-সচিবের অনুপস্থিতিতে কিছু আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আবারও বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এ অবস্থায় ডিজি সুধাংশু শেখর মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ডাক ক্যাডারের ১৩তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক পদে বসানোর চেষ্টা করছেন। ওই কর্মকর্তা ডিজির বিভিন্ন কাজে জড়িত ছিলেন। সুধাংশু শেখর বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে ওই কর্মকর্তাকে দিয়েই তাঁর কাজের বড় অংশ করিয়ে নিয়েছেন। তাই তাঁকে মহাপরিচালক করতে পারলে সুধাংশু শেখরের জন্য ঝামেলা তুলনামূলক কম হবে। এ ধরনের অপচেষ্টার খবর নিয়ে ডাক বিভাগে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে কখনো মহাপরিচালক নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। এবারও ঘটবে—এমন আশঙ্কা এখনো তাঁদের নেই। তাঁরা আশা করছেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী ও সচিব বিষয়টি নিয়ে বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

জানা গেছে, ডাক বিভাগে অতিরিক্তি মহাপরিচালক এবং এই পদের সমমর্যাদার পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে বর্তমানে ১২ জন কর্মরত। এর মধ্যে সবার জ্যেষ্ঠ হচ্ছেন জায়েদা সাত্তার। তিনি সপ্তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তাঁর চাকরির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। এর পরে রয়েছেন অষ্টম ব্যাচের মো. সিরাজ উদ্দিন ও বাহিজা আক্তার, নবম ব্যাচের মো. ফয়জুল আজিম ও মনসুর রহমান মোল্লা, একাদশ ব্যাচের মো. জামাল পাশা ও মো. শামসুল আলম, ১৩তম ব্যাচের মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, এস এম শাহবুদ্দিন, হারুন অর রশীদ, তরুণ কান্তি সিকদার ও কাজী আসাদুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পোস্টমাস্টার জেনারেল, পোস্টাল একাডেমির অধ্যক্ষ ও জিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা