• ই-পেপার

ডাব্লিউইউআরআই র‌্যাংকিং

বিশ্বের শীর্ষ ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউল্যাব

সমঝোতা চুক্তি ঝুলছে ইরানিরা চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সমঝোতা চুক্তি ঝুলছে ইরানিরা চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, রবিবারই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি হবে। পাকিস্তান, কাতার, মিসর ও তুর্কি কূটনীতিকরা ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে চুক্তি সম্পাদনে বেশ তৎপরতা দেখালেও ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বরং ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চুক্তি শিগগিরই হচ্ছে না। ইরান অবশ্য শনিবারই জানিয়ে দিয়েছিল, রবিবার চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হচ্ছে না। অন্যদিকে সমঝোতা তৎপরতার মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পূরণের সদিচ্ছা অথবা সক্ষমতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থাকে সবুজ সংকেত দিয়ে কোনো ছাড় আদায় করা যাবে না। ভালো পুলিশ ও খারাপ পুলিশের খেলা এখন সেকেলে হয়ে গেছে। নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণের সদিচ্ছা ও সামর্থ্য না থাকলে, সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা ঠিক নয়। উল্লেখ্য, দক্ষিণ বৈরুতের একটি ভবনে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার পর গালিবাফ এক্সে এই মন্তব্য করেন।

এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের সুপ্রিম কমান্ডের সদস্যরা ভার্চুয়াল বৈঠকও এড়িয়ে চলছেন। তাই তাঁদের সম্মতি আদায় করে নেওয়াটাও মূলত সময়ের ব্যাপার। বিশেষত দেশটির কট্টরপন্থীরা হরমুজ প্রণালিতে ইরানি কর্তৃত্বে ছাড় দিতে নারাজ। অস্ট্রিয়া সরকারের সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে পুশতাই বলেন, জব্দকৃত সম্পদ ইরানের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইরানের এটি প্রয়োজন, এটি অর্থনীতির জন্য অক্সিজেনের মতো। হরমুজ এমন একটি হাতিয়ার, যা ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্র, এই অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্র এবং অবশ্যই পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ব্যবহার করতে পারে। তারা এটা ছাড়তে চায় না। এমনকি যদি তারা এখনই বলে, হ্যাঁ, আমরা চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে কোনো অর্থ না নিয়েই প্রণালিটি সবার জন্য খুলে দেব, তার মানে এই নয় যে তারা ভবিষ্যতেও এই কথা রাখবে। তিনি আরো বলেন, এই সংঘাতে আমরা আমেরিকান, ইরানি এবং ইসরায়েলিতিনটি পক্ষেই দেখেছি, কেউ কিছু বললেই তার মানে এই নয় যে আগামীকালও ঠিক সেভাবেই ঘটবে। তবে এই মুহূর্তে ইরানের রাজধানীতে এমন ধারণা প্রচলিত আছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি দেননি। শুধু ধারণা দিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে এটি দূর থেকেই সম্পন্ন হতে পারে। এদিকে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করার ঘটনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের রাজধানীতে উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময় এবং কূটনৈতিক পথ এখনো পুরোদমে সক্রিয় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পক্ষই সমঝোতা স্মারকে যা আছে তার সঙ্গে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যগুলো গুলিয়ে ফেলছে। কারণ উভয় পক্ষই বিষয়টি জনসাধারণের কাছে এবং সম্ভবত আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে। অথচ সমঝোতা স্মারকটি কেবল প্রথম ধাপ এবং এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

চুক্তির কিছু অমীমাংসিত বিষয় : কয়েক দশক ধরে চলা বৈরিতার পরও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিবাদের প্রধান বিষয় হয়ে রয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন টাইমসের প্রতিবেদক টিম কনস্ট্যান্টাইন বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন প্রতিরোধকারী যেকোনো চুক্তিকেই ট্রাম্প বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। আর যদি তিনি দেখাতে পারেন যে এটি একটি চূড়ান্ত বা পরিমাপযোগ্য এবং বলবেযাগ্য বিষয়, তাহলে তিনি বিজয় দাবি করতে পারেন। এবং আমি মনে করি মার্কিন জনগণ তা মেনে নিতে ইচ্ছুক হবে।

উল্লেখ্য, ইরান নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার অবসানের ওপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে ও শর্তসাপেক্ষে তা তুলে নেওয়ার বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে, কিন্তু এটি কিভাবে করা হবে তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিদেশে জব্দ করা শত শত কোটি ডলারের ইরানি তহবিলের ভাগ্য আরেকটি বড় অমীমাংসিত বিষয়। এ ছাড়া লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ ও দখলদারি মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনার একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা এবং তেহরান একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি দক্ষিণ লেবাননে বোমা হামলা বা স্থল অভিযান এক দিনের জন্যও থামাতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান : ইরানের সঙ্গে একটি আসন্ন চুক্তির প্রত্যাশা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের কাছ থেকে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কিছু আইন প্রণেতা তেহরানের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন এবং বলেছেন, দেশটিকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসন বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টি করবে। ডেমোক্রেটিক আইন প্রণেতারাও ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রত্যাশিত শান্তিচুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ এক্সে বলেন, প্রেসিডেন্ট বলছেন যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। আমি আশা করি তিনি ঠিকই বলছেন। কিন্তু আমরা এই কথা আগেও শুনেছি। সেই সঙ্গে একগাদা ভঙ্গ হওয়া প্রতিশ্রুতিও। তিনি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন, কিন্তু খরচ কমাননি। আর তা আমেরিকান জনগণের গভীর ক্ষতি করেছে। এদিকে ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান সেথ মল্টন সম্ভাব্য চুক্তিটিকে মূলত একটি আত্মসমর্পণ দলিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস, আল জাজিরা, আনাদোলু

 

খুলনায় এবার মসজিদে ঢুকে গুলি, দুজন গুলিবিদ্ধ

খুলনা অফিস
খুলনায় এবার মসজিদে ঢুকে গুলি, দুজন গুলিবিদ্ধ

এবার মসজিদে গুলির ঘটনা ঘটল খুলনায়। এতে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারিসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধরা হলেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) ও মুসল্লি আলম মণ্ডল (৫৫)। গতকাল রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে ফজরের নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুরের মৃত আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে ও আলম মণ্ডল একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজের পরপরই কয়েকজন অস্ত্রধারী মসজিদে ঢুকে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই সময় পাশে থাকা আলম মণ্ডলও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিটি লোকমানের মাথায় লাগে। তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁদের দুজনকেই খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

অন্যদিকে আলম মণ্ডলের মাথা, গলার বাঁ পাশ এবং ডান হাতের বাহুতে গুলি লাগে। তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা

দৌলতপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় ১২

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ বাংলাদেশের কয়েকটি সীমান্তপথে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি ও স্থানীয়রা তা ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে। জানা গেছে, বিএসএফ চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে। ছয়জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে কুড়িগ্রাম সীমান্তে। অন্যদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় ১২ জনই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা : চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর চেকপোস্ট সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১১ জনকে পুশ ইন করার সময় বিজিবি ও গ্রামবাসী তা প্রতিহত করে। গত রবিবার ভোররাত ৩টা ৫৫ মিনিটে সীমান্তের ৭৬-৭৭ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবি ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই সময় চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের দর্শনা চেকপোস্ট বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিএসএফের চেষ্টা প্রতিহত করেন। বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ছয়জনকে পুশ ইনের চেষ্টা : কুড়িগ্রাম থেকে আঞ্চলিক প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। গত শনিবার দিবাগত রাতে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্প থেকে তাঁদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুশ ইনের জন্য আনা ওই ছয়জন বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছেন।

বিজিবি সূত্র আরো জানিয়েছে, রৌমারীর ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়েও বাংলা ভাষাভাষী তিনজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর-নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর পুশ ইন-পুশ ব্যাক নাটকীয়তার পর এক বাংলাদেশি শিশুকে ফেরত নিয়েছে বিজিবি। শনিবার দিবাগত রাতে মেইন পিলার ৯৪৩-এর ৩এস সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি গয়টাপাড়া বিওপির সদস্যরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। গয়টাপাড়া বিওপির হাবিলদার মাসুদ রানা বলেন, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় ১২ জনই অসুস্থ : কুষ্টিয়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার শিশুসহ ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে আড়াই বছরের শিশু সামাদসহ চার শিশু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত তাঁরা সীমান্তের শূন্যরেখায় পাটক্ষেতে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি ও গরমের মধ্যে এক কাপড়ে অবস্থান করছিলেন।

নতুন করে আরো তিনটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বিএসএফের বিরুদ্ধে আবারও পুশ ইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে চর বিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে চারজন এবং জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আরো আটজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চল্লিশপাড়া সীমান্তপথে এক ব্যক্তিকে পুশ ইনের চেষ্টা করলে বিজিবি তাঁকে ভারতে ফেরত পাঠায়। বিজিবি জানায়, তাদের কড়া নজরদারি ও টহলের কারণে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

 

আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন

নওশাদ জামিল
আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন
বর্ষার ফুল কদম। গতকাল নারায়ণগঞ্জ থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ভাষা ধার করে বলা যায়, এই মনোরম মনোটনাস শহরে আবারও এসেছে সুন্দর বৃষ্টির দিন। গাছের পাতায়, ছাদের রেলিংয়ে, জানালার কাচে কিংবা দূর দিগন্তের খোলা প্রান্তরে ঝমঝমিয়ে ঝরে পড়বে অঝোর ধারার সুরেলা সংগীত। ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধে, মেঘের গর্জনে আর বৃষ্টির ছন্দে প্রকৃতি ফিরে পাবে তার আপন প্রাণ। আজ সোমবার, আষাঢ়ের প্রথম দিন। শুরু হলো বর্ষা ঋতু। আষাঢ়, তোমায় স্বাগত।

বাংলার ছয় ঋতুর মধ্যে বর্ষার আবেদন ভিন্নধর্মী। গ্রীষ্মের তাপদাহ ও রুক্ষতার পর বর্ষা প্রকৃতির বুকে নিয়ে আসে নতুন প্রাণের স্পন্দন। আকাশজুড়ে জমে ওঠা কালো মেঘ, দূরে মেঘের গর্জন, ঝুম বৃষ্টির শব্দ আর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ যেন নতুন করে অনুভব করতে শেখায় জীবন ও প্রকৃতি।

বর্ষাকাল বাংলার প্রকৃতি, কৃষি, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিতে তপ্ত মাটি ফিরে পায় সজীবতা। শুকিয়ে যাওয়া গাছপালা সবুজ হয়ে ওঠে, নদী-খাল-বিল ভরে ওঠে পানিতে। কৃষকের মাঠে জাগে নতুন আশার আলো। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জীবনের সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

বর্ষা বাঙালির সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলারও চিরন্তন অনুষঙ্গ। কদম ফুল, মেঘলা আকাশ, নদীর উচ্ছ্বাস, ব্যাঙের ডাক কিংবা বৃষ্টিভেজা বিকেলসব মিলিয়ে বর্ষা হয়ে ওঠে আবেগময় এক অনন্য অনুভূতি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, জসীমউদ্দীনসহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব বড় কবি-সাহিত্যিক তাঁদের সৃষ্টিতে বর্ষাকে নানা রূপে তুলে ধরেছেন। রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান বৃষ্টির দিনে বাঙালির মনকে আলোড়িত করবেই।

বর্ষা শুধু আনন্দের নয়, কিছু বিড়ম্বনাও নিয়ে আসে জীবনে ও প্রকৃতিতে। বিশেষ করে নগরজীবনে। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোয় ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, যানজট ও ভোগান্তি বেড়ে যায়। আর অতি বৃষ্টি নিয়ে আসে বন্যা, নদীভাঙনের মতো বিপর্যয়।

সবকিছুর পরও বর্ষা বাঙালির অন্যতম প্রিয় ঋতু। কারণ এই ঋতু প্রকৃতিকে নতুন জীবন দেয়, মানুষের মনে জাগায় স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার নতুন আলো।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ষাকে বরণ করে নিতে নেওয়া হয়েছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। গান, কবিতা, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে আষাঢ়স্য প্রথম দিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বর্ষার স্মৃতি, অনুভূতি ও শুভেচ্ছায় মুখর থাকবেন অনেকে।

বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে গত ১৮ বছর ধরে আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় এবারও আয়োজিত হচ্ছে বর্ষা উৎসব-১৪৩৩। আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশের দক্ষিণ পাশের চত্বরে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে শিল্পী মো. মিনহাজুল হাসান ইমনের রাগসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শুভ সূচনা হবে।

বর্ষা কথন পর্বে সভাপতিত্ব করবেন লেখক, গবেষক ও নৃত্যশিল্পী অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা আশরাফুল আলম এবং বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট।

অন্যদিকে আজ সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বর্ষা উৎসব-১৪৩৩। ওস্তাদ জাবীর ইমাম খান শাহী রাগ মিয়া কি মল্লার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে পরিবেশিত হবে বর্ষার গান, কবিতা ও নৃত্যের নানা পর্ব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উদীচীর কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের পাশাপাশি সমবেত সংগীত পরিবেশন করবে উদীচীর উত্তরা ও ডেমরা শাখা।