kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

করোনা লক্ষণ নিয়ে আরো ১০ জনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



করোনা লক্ষণ নিয়ে আরো ১০ জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা পাঁচ রোগী রয়েছেন। তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আব্দুল জলিল (২৩) ও রানী বেগম (২৪) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আব্দুল জলিল বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের নেংটিহারা গ্রামের মইজ উদ্দিনের ছেলে ও রানী বেগম সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আকবরের স্ত্রী।

সদর হাসপাতালের আরএমও রাকিবুল আলম জানান, জ্বর ও গলা ব্যথা নিয়ে আব্দুল জলিল বুধবার রাতে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনার উপসর্গ থাকায় তাঁকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মারা যান। পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁর দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে রানী বেগম বৃহস্পতিবার সকালে জ্বর সর্দি ও গলা ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনার উপসর্গ থাকায় তাঁকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসা চলা অবস্থায় গতকাল ভোরে তিনি মারা যান।

সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার জানান, আব্দুল জলিল কিডনি সমস্যা ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। দুজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে রানী বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর শ্বশুরবাড়ি আউলিয়াপুর ইউনিয়ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লাশ দাফনে এলাকাবাসী বাধা দেয়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনের হস্তক্ষেপে বাবার বাড়ি একই উপজেলার আকচা ইউনিয়নে দাফন করা হয়।

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে নওগাঁর ধামইরহাটে এক গার্মেন্টকর্মী মারা গেছেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাতেই তাঁকে দাফন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ওই পরিবারের ৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের রূপনারায়ণপুর খাঠাপাড়া গ্রামের আইনুল হক (৪৯) ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। প্রায় ১৮ দিন আগে তিন বাড়িতে আসার পর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। গত ২৬ মে স্বাস্থ্য বিভাগ তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য। সেই নমুনার রিপোর্ট আসার আগেই গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বৃহস্পতিবার রাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের একজন গহিরা ইউনিয়নের দলইনগর গ্রামে, আরেকজন চট্টগ্রাম নগরীর হামজারবাগ এলাকায় মারা যান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল নিজ নিজ বাড়িতে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, ছেলের মৃত্যুর তিন দিনের ব্যবধানে করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর মারা যান দলইনগর গ্রামের নুর মিয়া। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তাঁর ছেলে আরাফাত হোসেন (৩৩)। তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন।  এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর হামজারবাগ এলাকায় মারা যান রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ নাছের (৫১)।

মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা ঢাকাফেরত এক ব্যক্তি গতকাল দুপুরে মারা গেছেন। তাঁর নাম তাজিমুল হোসেন (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের হাসউদী গ্রামের হাবিবুর রহমান চৌকিদারের ছেলে। এ নিয়ে জেলায় মোট তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অখিল সরকার জানান, তাজিমুল ঈদের আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে জ্বর-কাশি নিয়ে মাদারীপুরের নিজ গ্রামের বাড়ি আসেন। গত বুধবার জ্বর, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়লে তিনি সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে  ভর্তি হন। তাঁর নমুনা বৃহস্পতিবার সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। মধ্যরাত থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকলে গতকাল দুপুরে তিনি মারা যান। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকরাম হোসেন বলেন, ‘ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যাও ছিল।’ সিভিল সার্জন ডা. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মারা যাওয়া রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের টেকনাফে করোনা উপসর্গ নিয়ে নুরুল আমিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তি হ্নীলা বাজারের একজন ব্যবসায়ী। এক সপ্তাহ আগে জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হলে তিনি স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উখিয়ায় এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটি চন্দ্র শীল বলেন, ‘উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার খবর শুনেছি। তবে তাঁর জানাজা ও দাফন করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মতো করা হয়েছে। নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।’

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকা থেকে ফেরার তিন দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইলের লোহাগড়ার মাকড়াইল গ্রামে রেজাউল করিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, রেজাউল ঢাকার একটি সিকিউরিটি কম্পানিতে চাকরি করতেন। থাকতেন আজিমপুর এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে মারা যাওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে। ইউএনও মুকুল কুমার মৈত্র করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বৃহস্পতিবার রাতেই মৃতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ কারণে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি। তবে পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে বারিউজ্জামান লিটু (৫২) নামে ঢাকাফেরত এক ব্যক্তি মারা গেছেন। সদর উপজেলার কোলা গ্রামের তাহের আলীর ছেলে লিটু ঈদের আগের দিন ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসেন। গত বুধবার তিনি জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল সকালে সদর জেনারেল হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতালের আরএমও মোখলেসুর রহমান জানান, নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। আর আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় করোনা আক্রান্ত হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লাশ দাফন করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নুরুল ইসলাম (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তিনি মারা যান। তাঁর বাড়ি উপজেলার কাঞ্চন এলাকায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ফয়সাল আহমেদ জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে নুরুল ইসলাম গত বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যেই গতকাল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা