kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

হাসপাতালে সেবা না দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনাভাইরাসে দেশে আরো পাঁচজন আক্রান্ত

► মোট পরীক্ষা ২১১৩ শনাক্ত ৬১, মৃত ৬ সুস্থ ২৬
► ঢাকায় ১০টি এবং ঢাকার বাইরে পাঁচ কেন্দ্রে চলছে পরীক্ষা
► ১৬ হাজার ৩৭৯ জন হোম কোয়ারেন্টিনে, ৭৪ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসে দেশে আরো পাঁচজন আক্রান্ত

দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত কারো মৃত্যু হয়নি এবং কেউ সুস্থও হয়নি। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬১, মৃতের সংখ্যা ছয়। এ ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক ৫২৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ২০৩টির। গতকাল পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে দুই হাজার ১১৩টি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআর সংগ্রহ করেছে ১২৬টি এবং বাকি ১৪টি পরীক্ষাকেন্দ্রে সংগৃহীত হয়েছে ৩৯৭টি। ঢাকায় ১০টি ও ঢাকার বাইরে পাঁচটি কেন্দ্রে নমুনা পরীক্ষা চলছে।

গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিং ও পরে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বক্তব্য দেন। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, আইইডিসিআরের (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালে চিকিসা না দিলে ব্যবস্থা

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সবাইকে ঘরে থেকে সতর্ক ও সচেতন থাকার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যেসব হাসপাতাল রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, এখন আর কিট ও পিপিইর কোনো সংকট নেই। পরীক্ষাকেন্দ্রও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বাড়ানো হয়েছে। ফলে সবাই পরীক্ষা করাতে পারবেন। যাঁরাই পরীক্ষা করানো উচিত বলে মনে করবেন তাঁরাই পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন তিনি কভিড-১৯-এ আক্রান্ত কি না। পরীক্ষা করাতে দোষ বা সামাজিক বাধা নেই। আর পরীক্ষা করালেই করোনাভাইরাসকে চিহ্নিত করে ধীরে ধীরে একে নির্মূল করে যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘দেশে এমনিতেই দিনে আড়াই হাজারের বেশি মানুষের বিভিন্ন রোগে মৃত্যু ঘটে। ফলে কারো মৃত্যু হলেই সেটা করোনাভাইরাসে হয়েছে বলে ভাবা ঠিক না। আমরা সন্দেহজনক সব মৃত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে থাকি।’ মহাপরিচালক জানান, ৬১ জন আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ছয়জন মারা গেছে, ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বাকি ২৯ জনের মধ্যে হাসপাতালে আছে ২২ জন; সাতজন আছে যার যার বাড়িতে আইসোলেশনে।

পিপিই ও কিট

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৩৭৯ জন হোম কোয়ারেন্টিনে ও ৭৪ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে। এ ছাড়া মোট চার লাখ ২৮ হাজার ৬০টি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ-পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০টি বিতরণ করা হয়েছে এবং বাকি ৬৪ হাজার ৪১০টি সংরক্ষণে আছে। এ ছাড়া ৯২ হাজার কিটের মধ্যে ২১ হাজার বিতরণ করা হয়েছে, মজুদ আছে ৭১ হাজার। প্রয়োজনমতো এসব বিতরণ করা হবে।

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের এক সাংবাদিক আক্রান্ত

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক। তারপর ৪৭ জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলেছে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। এই টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম শামসুর রহমান গতকাল শুক্রবার ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের একজন সহকর্মী কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা