kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

রাষ্ট্র ইসি আওয়ামী লীগ একাকার

ডা. শাহাদাত, বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাষ্ট্র ইসি আওয়ামী লীগ একাকার

সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আর আওয়ামী লীগ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রের বাইরে আসতে হবে। নির্বাচন এখন নির্যাতনে পরিণত হয়েছে। যাকেই ভোট দিই না কেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতবেন—এমন ভাবনা থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে যান না। মানুষের এই ভোটবিমুখতা দূর করাটা এখন সরকারের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন গতকাল মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম নগর বিএনপির এই সভাপতি কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে নিজের প্রার্থী হওয়া, দেশের বর্তমান নির্বাচনী সংস্কৃতি, চট্টগ্রাম নগর নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। অর্ধশতাধিক মামলা মাথায় নিয়ে তিনি চসিক নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। 

ডা. শাহাদাত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বর্তমান সরকার গত ১০ বছরে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। একসময় নির্বাচন ছিল এ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে উৎসবের মতো। আর বর্তমানে নির্বাচন নির্যাতনে পরিণত হয়েছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যান না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হারই বলে দেয় ভোটারের কেন্দ্রবিমুখতা কোন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বিএনপির এই মেয়র পদপ্রার্থী বলেন, সরকার-রাষ্ট্রযন্ত্র-নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সাধারণ ভোটারদের বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে যে ভোট দিলেই কী আর না দিলেই কী, নৌকার প্রার্থী জয়ী হবেন। এ জন্য ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হয়ে পড়েছেন। ভোটকে উৎসবে পরিণত করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রের বাইরে আসতে হবে। প্রচার থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ যাতে বজায় থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারদলীয় কর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যক্তিগত অস্ত্র জমা নিতে হবে।

ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এজেন্টদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটারদের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রে সেনা সদস্য মোতায়েন করতে হবে, যাতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা ভোট ছিনতাই করতে না পারেন। আর ভোটাররা ভোট দিতে পারলে এই নির্বাচনে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত।

এত সংশয় নিয়ে কেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘আমাদের নেত্রী প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আজ কারাগারে। তাঁর মুক্তি, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন নিয়ে সরকারের এত ষড়যন্ত্রের মধ্যেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।’ তিনি বলেন, বিএনপির প্রায় সব প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকের মাথার ওপর শত শত মামলা ঝুলছে। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানি বন্ধ রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম নগর ঘিরে পরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘চট্টগ্রাম একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক শহর। দেশের প্রধানতম সমুদ্রবন্দর ও বাণিজ্যনগরী। পাহাড়, নদী আর সাগর—প্রকৃতির অফুরান সৌন্দর্য নিয়ে গড়ে উঠা চট্টগ্রাম ঘিরে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটতে পারে। আমার জন্ম শহর চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, সুন্দর, পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যকর এবং একই সঙ্গে নিরাপদ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

প্রসঙ্গত, মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ৩৪ বছরের রাজনৈতিক জীবনে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি বাকলিয়া থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৮৬ সালে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে কারাগারে থেকেই তিনি চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা