kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সম্মেলনে আহমেদ আকবর সোবহান

অপ্রিয় হলেও সত্য প্রকাশ করতে হবে

‘আসছে খেলাধুলাবিষয়ক টেলিভিশন তিতাস’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপ্রিয় হলেও সত্য প্রকাশ করতে হবে

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য দেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। গতকাল ইডাব্লিউএমজিএল কনফারেন্স রুমে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেছেন, ‘একটা সময় সবার ধারণা ছিল যে নেতিবাচক কথা না লিখলে পত্রিকা চলবে না। আমাদের পত্রিকা কিন্তু প্রো-পজিটিভ। আমরা সরকারের সমালোচনা করি এবং সরকারের ভালো দিকগুলোও তুলে ধরি। সরকারের যেসব জিনিস ক্ষতিকর হতে পারে সে ব্যাপারে আমরা আগেই সাবধান করি। ভালো হলে আমরা সেটার প্রশংসা করি। ভালোটা ভালো বলব, মন্দ হলে মন্দ বলব। আলো থাকলে আলো হবে, অন্ধকার হলে অন্ধকার হবে।’ গতকাল বুধবার দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের (ইডাব্লিউএমজিএল) সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ প্রতিদিনের এই প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার আগে সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন। অনেক সময় দেখা যায়, একজনের পক্ষ হয়ে আরেকজনকে আক্রমণ করা হচ্ছে। এটা কখনোই সহ্য করা হবে না। আমি চাই, অপ্রিয় হলেও সত্য প্রকাশ হোক। সত্য যত কঠিন হোক, অপ্রিয় হোক, সেটাই লিখতে হবে। অসত্য ও পক্ষপাতমূলক সংবাদ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এমন অনেক নিউজ হয়েছে যেগুলো কারো পছন্দ হয়নি। কিন্তু নিউজগুলো ছিল বাস্তব এবং সত্য। অনেক পত্রিকা হারিয়ে গেলেও শত বছরের পুরনো পত্রিকাও এখনো টিকে আছে। লন্ডনের টাইমস, ফিন্যানশিয়াল নিউজ, আমেরিকার ওয়াশিংটন টাইমস—এরা আজও সদর্পে দাঁড়িয়ে আছে।’

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘শত শত পত্রিকা হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ, পত্রিকাগুলো সে রকম মনোযোগী হয়নি কিংবা ভেবেছে যে এ রকম হয়তো সারা জীবন যাবে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, বিশেষ করে পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও—এগুলো থ্যাংকলেস জব; যত ভালোই করেন না কেন এক দিন খারাপ হলে ওই খারাপটাই সবাই বলবে, ভালোটা আর কেউ বলবে না। সুতরাং এটা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ব্যাপার।’

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘বিশেষ করে বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে মানুষের আশাটা অনেক বেশি। অনলাইন, টেলিভিশন থাকার পরও প্রিন্ট মিডিয়ার যে একটা আবেদন সেটা কিন্তু এখনো আছে। আমাদের টিকে থাকতে হবে। বাংলাদেশ যত দিন আছে ইনশাআল্লাহ আমরাও টিকে থাকব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের পত্রিকা হবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং। দেশের ভালো খবরগুলো বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালে বসুন্ধরা সিটি নির্মাণের সময় কোরিয়ার একটি পত্রিকায় খবর বের হয়েছিল, ১০ বছরেও এই বিল্ডিং করা সম্ভব না। সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহে আমরা সেই বিল্ডিং এক বছরে করেছিলাম। আমরা মানুষকে দেখিয়েছিলাম। ওই সময়টা নিঃসন্দেহে আকাশচুম্বী একটা স্বপ্নই ছিল।’

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘যাত্রা শুরুর ১০ বছর হতে চলেছে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের। একটা সময় ছিল বাংলাদেশ প্রতিদিন কী লিখল আর লিখল না, তাতে কিছু যেত আসত না, ভাবতও না। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে এখন মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডনেও বাংলাদেশ প্রতিদিন এক নম্বর বাংলা পত্রিকা।’ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ১০ জন জেলা প্রতিনিধি এবং ঢাকা অফিসের ১০ জন প্রতিবেদককে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বসুন্ধরায় যারা কাজ করে সবাই আমরা এক পরিবার। এখানকার প্রতিটা কর্মী প্রতিষ্ঠানকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে। তাই এখন পর্যন্ত বসুন্ধরার কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো সমস্যা হয়নি।’

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা কিছুদিনের মধ্যে খেলাধুলাবিষয়ক নতুন টেলিভিশন তিতাস চালু করতে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমাদের আরো টেলিভিশন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য, শিশুদের জন্য। আরো অনেক কিছুই হয়তো বসুন্ধরা গ্রুপ করার চেষ্টা করবে। সাউথ এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্পোর্টস কমপ্লেক্স বসুন্ধরা করতে যাচ্ছে। বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য এটাও গর্বের ব্যাপার। খাওয়া-পরার পরেই মানুষের স্পোর্টসের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। এখন সুস্থ থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, ‘অনলাইনগুলোর একচেটিয়া দাপট, বিজ্ঞাপনের বাজার সংকুচিত হওয়ায় দেশের প্রিন্ট মিডিয়া কঠিন সময় পার করছে। এই সময়ে একটি পত্রিকা কিভাবে টিকে থাকবে তার জন্য সম্মিলিতভাবে সবাইকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে শুভেচ্ছা জানান কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা