kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নব্য জেএমবি সন্দেহে খুবির দুই ছাত্র গ্রেপ্তার

বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ

খুলনা অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নব্য জেএমবি সন্দেহে খুবির দুই ছাত্র গ্রেপ্তার

নব্য জেএমবি সন্দেহে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। নগরের গল্লামারী রোডের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার বিকেলে তাঁদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে দুপুরে তাঁদের খুলনা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নিয়ে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। বিচারক ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন খুবির বিবিএ চতুর্থ বর্ষের ও বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্র নূর মোহাম্মদ অনিক (২৪) এবং পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের ও আহসানউল্লাহ হলের ছাত্র মোজাহিদুল ইসলাম রাফি (২৩)। অনিকের বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মোড়াবাড়ি গ্রামে। রাফির বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জের ঘাগুরদুয়ার গ্রামে। পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থল (তিনতলা বাড়িটির নিচতলা) থেকে দুটি কালো রঙের রিমোট কন্ট্রোল, একটি ল্যাপটপ, ১৪৪ বক্স দিয়াশলাই, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তারসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। নগরের সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মোমতাজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

কেএমপি কমিশনার খন্দকার লুত্ফুল কবির জানান, পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আড়াইটা থেকে গতকাল ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত গল্লামারী রোডের বাড়িটিতে অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন গত ২৩ সেপ্টেম্বর খানজাহান আলী থানার কৃষক লীগ অফিসে ও ৫ ডিসেম্বর আড়ংঘাটা থানার গাড়ির গ্যারেজে বোমার বিস্ফোরণ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁরা নব্য জেএমবির সদস্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁরা উগ্রবাদী মতাদর্শে আকৃষ্ট হন। পরে নব্য জেএমবির আদর্শে প্রভাবিত হয়ে তাতে জড়ান এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করে আইইডি (বোমা) তৈরির কারিগরি জ্ঞান আয়ত্ত করেন। তাঁরা সহজলভ্য উপাদান দিয়ে দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক প্রস্তুত করতেন, যা খানজাহান আলী থানা এলাকায় ও আড়ংঘাটা বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছে। এর এক মাস আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন স্থান নির্বাচনের জন্য রেকি শুরু করেন ও মালামাল সংগ্রহ করে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন ভাড়া বাড়িতে বোমা তৈরির কাজ করে আসছিলেন। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য একজন বোমা স্থাপন ও অন্যজন রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতেন। বোমা স্থাপনকারী নিরাপদ দূরত্বে চলে গেলেই অন্যজন বার্তা পেয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতেন।

খুবির উপাচার্য মো. ফায়েক উজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘নিখোঁজ’ ছিলেন দুজন

খুবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নূর মোহাম্মদ অনিক ও মোজাহিদুল ইসলাম রাফি গত ৮ জানুয়ারি দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ৯ জানুয়ারি রাফির হল থেকে হলের একজন সহকারী প্রোভোস্ট এসে রাফির ল্যাপটপ নিয়ে যান। ১০ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরে গেলে জানানো হয়, রাফি ও অনিককে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে, এতটুকু তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রয়েছে।

এরপর ১০ জানুয়ারি রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনিক এবং রাফির হলের কক্ষে তল্লাশি করেন। তাঁরা রাফির কক্ষ থেকে টাইমার, গ্লাভস, সুইচ, সার্কিট, মোবাইল ফোন ও একটি শপথনামা এবং অনিকের কক্ষ থেকে তিন-চার প্যাকেট সাইকেলের বিয়ারিংয়ের বল উদ্ধার করে নিয়ে যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা