kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সমুদ্রকন্যা কক্সবাজারে সৈকত সংস্কৃতি উৎসব

নওশাদ জামিল, কক্সবাজার থেকে   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সমুদ্রকন্যা কক্সবাজারে সৈকত সংস্কৃতি উৎসব

একদিকে সমুদ্রের ঢেউ, অন্যপাশে বালুতটে উন্মুক্ত মঞ্চে নাচের ছন্দ। শুধু নাচ নয়, ভিন্নমাত্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্ট জমকালো আয়োজনে শুরু হলো দুই দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও  পার্বত্য তিন জেলাসহ দেশে পাঁচ শর বেশি শিল্পী তাঁদের পরিবেশনা নিয়ে এসে হাজির হন। সৈকত সাংস্কৃতিক উৎসব নামের এ আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।  শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এ উৎসবের সহযোগিতায় রয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

উৎসব মঞ্চের পাশেই মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৩ ফিট দীর্ঘ ও ৩২ ফিট প্রস্থের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে লাবনী পয়েন্টের প্রবেশ মুখে। চারুশিল্পী সংসদের শিল্পীদের সহযোগিতায় এ প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। ‘শিল্পসংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সারা দেশে কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সৈকত সাংস্কৃতিক উৎসব শুধু বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেই নয়, কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও ছড়িয়ে দিয়েছে উৎসবের আমেজ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কক্সবাজার শহর প্রদক্ষিণ করে। এরপর প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আদিবুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আফসার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, কক্সবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত পাল বিশু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সুদিপ্তা চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎসবের উদ্বোধন করে লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতির প্রবাহকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই। তৃণমূলে পৌঁছে দিতে চাই সংস্কৃতির আলো। সারা দেশের লাখ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসে। যাঁরা রাজধানীর বাসিন্দা নন। তাঁদের কাছে দেশের শিল্পীদের আন্তর্জাতিকমানের পরিবেশনা তুলে ধরা এ আয়োজনের লক্ষ্য। এমনিভাবে দেশজুড়েই এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।’

শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক শিল্পীদের পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। তাঁরা একে একে প্রদর্শন করেন মার্শাল আর্ট, রিং খেলাসহ নানা শারীরিক কসরত, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর ঝরনা থেকে পানি তোলার নাচ দেখান পাহাড়ি শিল্পীরা। স্বাগত নৃত্য পরিবেশন করেন বান্দরবানের বম সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। মানসী বড়ুয়া গেয়ে শোনান ‘ভালোবেসে সখি নিভৃতে যতনে’, মীনা মল্লিক গেয়ে শোনান ‘ওরে বাঁক খালির মাঝি রে’, শিশুশিল্পী মেহরিন রহমান শোনান ‘প্রেম রসিকা হব কেমনে’। ময়ূর নৃত্য প্রদর্শন করেন বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। নববর্ষের নাচ দেখান আদিবাসী নৃত্যশিল্পীরা। বিজু নৃত্য পরিবেশন করেন চাকমা সমপ্রদায়ের শিল্পীরা। একক সংগীত পরিবেশন করেন পপি, রূপসা, জাহিদ, রাফি প্রমুখ। এ ছাড়া রাখাইন সম্প্রদায়ের শিল্পীরাও নৃত্য পরিবেশন করেন। ছাতা নৃত্য পরিবেশন করে মারমা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। বোতল নাচ দেখান ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদল ও বাউলদলের লোকগানের পরিবেশনা।

শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ বলেন, ‘পর্যটনকেন্দ্রিক একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর—কক্সবাজার। শিল্প-সংস্কৃতির যে চর্চা আমরা করছি, সেটাকে আরো ব্যাপকভাবে প্রচার এবং প্রসারের জন্যই আমরা এই আয়োজনগুলো করছি। এখন যেহেতু পর্যটনের একটা মৌসুম—এই সময়টাতে কক্সবাজারে সব অঞ্চলের মানুষের উপস্থিতি রয়েছে। তাই ওইখানে আমরা যদি আমাদের বিভিন্ন আঞ্চলিক যে সংস্কৃতিটা রয়েছে, সেটাকে তুলে ধরি, তাহলে পর্যটকদের কাছে বিনোদন এবং পরিচিতি দুটিই হবে। তাই এই আয়োজন।’

উৎসবে শুধু কক্সবাজারের মানুষ নয়, ছিল হাজার হাজার পর্যটকের উজ্জ্বল উপস্থিতি। দর্শকদের মধ্যে অনেক বিদেশি পর্যটকও দেখা যায়। আজ শনিবার বিকেল ৪টায় শুরু হবে সমাপনী দিনের উৎসব। একটানা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা