kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

হেফাজতে এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

পুলিশের দাবি আত্মহত্যা স্বজনরা বলছেন হত্যাকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হেফাজতে এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হেফাজতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। এফডিসির ফ্লোর ইনচার্জ আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুকে (৪৫) গত শনিবার রাতে আটক করে পুলিশ। গতকাল রবিবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে এটি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হলেও পুলিশ বলছে ‘আত্মহত্যা’।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ শনিবার সন্ধ্যার পর বাবুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রোকসান আক্তার মায়া নামে এক নারী তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। গতকাল ভোরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) ইফতেখার ইসলাম অচেতন অবস্থায় বাবুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা বলছেন, বাবুর গলায় কালো দাগ ও শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

বাবুর বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ থানার বালিয়াকান্দিতে। তিনি মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন। বাবুর স্ত্রী আলেয়া ফেরদৌসী বলেন, ‘শনিবার তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে বাবুকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ওই সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন। গতকাল পুলিশ জানায়, বাবু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। হাসপাতালে এসে তাঁর মরদেহ দেখতে পাই।’

আলেয়া আরো বলেন, ‘মায়া নামে এক নারীর সঙ্গে বাবুর সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে ঝগড়ার পর থেকে আমরা আলাদা থাকতাম। আমার স্বামীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ তাঁকে ধরলেও আমাদের কিছু জানায়নি। আমার স্বামী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি ছিলেন না। পুলিশ তাঁকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

এফডিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার রাত পৌনে ৮টায় ফোনে পুলিশ বাবুর সম্পর্কে জানতে চায়। এ সময় বাবু এফডিসিতে চাকরি করেন বলে জানাই। পুলিশ বলে বাবু নামে একজনকে আইসিটি আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে শুনেছি পুলিশ হেফাজতে তিনি মারা গেছেন। গ্রেপ্তারের পর একজন  আসামি কিভাবে আত্মহত্যা করতে পারে তা বুঝতে পারছি না।’

বাবুর সহকর্মী ক্যামেরাম্যান জি এম আবু সাঈদ বলেন, ‘বাবু আত্মহত্যা করার মতো ছেলে নয়। তার মৃত্যুর জন্য পুলিশই দায়ী। আমরা এর বিচার চাই।’

বাবুর শ্বশুর আব্দুল আলী বলেন, ‘মায়া নামে এক মেয়ে বাবুর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। মায়া তার স্বামী আক্তারের জন্য বাবুর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকাও নিয়েছে। ওই পাওনা টাকা চাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে বাবুর বিরুদ্ধে ওই মেয়ে মামলা করেছে। পুলিশ বলছে, বাবু আত্মহত্যা করেছে। তাদের হেফাজতে থেকে কিভাবে সে আত্মহত্যা করবে?’

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) এম এম মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বাবু এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। তাঁর নামে নারী নির্যাতন ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হয়েছিল। আটক করে থানায় আনার পর তিনি আত্মহত্যা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে আত্মহত্যার বিষয়টি দৃশ্যমান।’

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘ওই আসামি হাজতের গ্রিলের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ওই সময় হাজতে অন্য আসামি থাকলেও তারা কেউ টের পায়নি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা