kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সবিশেষ

সমুদ্রের পানি শোধনে উদ্বেগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সমুদ্রের পানি শোধনে উদ্বেগ

এই মুহূর্তে পানির জন্য ওমানের মানুষ নির্ভর করছে ডিস্যালাইনেশন প্লান্টের ওপর, যেখানে সাগরের নোনা জল শোধন করে পানীয় জল তৈরি হয়। ওমান ছাড়া অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকা খটখটে রুক্ষ মরুভূমিতে ভর্তি। ফলে সমুদ্র থেকে সুপেয় পানি পাওয়া প্রায় মশা মারতে কামান দাগার মতো অবস্থা। বিপুল খরচ তো আছেই, পরিবেশের পক্ষেও তা অনুকূল নয়।

মাসকাটের দক্ষিণে সুর শহরের বাসিন্দাদের জন্য এবং বাণিজ্যিক কারণে প্রয়োজনীয় পানি আসছে বিশাল ডিস্যালাইনেশন প্লান্ট থেকে। এই প্লান্ট ছয় লাখ মানুষকে সুপেয় পানির জোগান দিচ্ছে। স্থানীয় এক বয়স্ক বাসিন্দা জানালেন, ‘আগে জীবন ছিল যন্ত্রণার। আমাদের কুয়ো ছিল, কিন্তু সেই কুয়োয় পানি আসত ট্রাকে করে। ১৯৯০ সালের পর থেকে পানি আসছে পাইপের মাধ্যমে। আর আমাদের পানির কোনো রেশনিং করতে হচ্ছে না।’

কিন্তু পানির এই সুবিধা পেতে গিয়ে প্রভূত পরিমাণে কার্বন নির্গমন করতে হচ্ছে, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর বাইরে আরো একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। ডিস্যালাইনেশন প্লান্টগুলো ঘন লবণ পানি (ব্রাইন) উৎপন্ন করছে। এ ব্রাইন আরো একবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সমুদ্রে।

গবেষকরা বলছেন, এমন ১৬ হাজার ডিস্যালাইনেশন প্লান্ট সারা পৃথিবীতে রোজ উৎপন্ন করছে টক্সিক স্লাজ বা বিষাক্ত কাদা। প্রতি এক লিটার স্বচ্ছ পানি পাওয়ার বিনিময়ে সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে দেড় লিটার এমন বিষাক্ত লবণাক্ত কাদা। এই অতিরিক্ত লবণ সমুদ্রতীরবর্তী এলাকার পানির তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে এবং বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর ফলে তৈরি হয় ‘ডেড জোন’ বা মৃত অঞ্চল।

এই অতিরিক্ত লবণাক্ত কাদা আরো বেশি টক্সিক হয়ে পড়ে সমুদ্রের পানিকে লবণহীন করার সময় ব্যবহৃত রাসায়নিকের কারণে। ওমানের প্রতিবেশী দেশগুলো বেশি পরিমাণে ব্রাইন উৎপন্ন করে। সৌদি আরব (২২ শতাংশ), সংযুক্ত আরব আমিরাত (২০ শতাংশ), কুয়েত ও কাতারের পরিমাণ এর চেয়ে কম। এই এলাকার উৎপাদিত সামগ্রিক ব্রাইনের পরিমাণ সারা বিশ্বের ৫৫ শতাংশ। সূত্র : এই সময়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা