kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

আদালতের কণ্ঠ

কিছু পুলিশ মনে করে দুর্নীতি করলে কিছু হবে না

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিছু পুলিশ মনে করে দুর্নীতি করলে কিছু হবে না

হাইকোর্ট বলেছেন, ‘কতিপয় পুলিশ সদস্য দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বানিয়ে নিচ্ছে। এদের সংখ্যা কোনোভাবেই ৫ শতাংশের বেশি হবে না। ওই পুলিশ সদস্যরা মনে করে, তারা দুর্নীতি করলে তাদের কিছু হবে না। কতিপয় পুলিশ সদস্যের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই গোটা পুলিশ বাহিনীর বদনাম হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এটা হতে দেওয়া যায় না। দুর্নীতি, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার ওই মন্তব্য করেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা (পূর্ব) থানার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমানসহ কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার অভিযোগ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আইজিপির কাছে করা আবেদন নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখার কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল ও এক নারী কর্মকর্তার করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, উত্তরা থানার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমানসহ কিছু পুলিশ সদস্যের ভূমিকায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আদালত বলেছেন, কিছু পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীর অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা মনে করেন দুর্নীতি করলে তাঁদের কিছুই হয় না।

রিট আবেদনে বলা হয়, ইব্রাহিম খলিল তাঁর এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে উত্তরার ভূতের আড্ডা রেস্টুরেন্ট থেকে গত ২৭ জুন রাতের খাবার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন সময় নামফলকহীন এক পুলিশ কনস্টেবল তাঁদের উত্তরা পূর্ব থানার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে নিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ইব্রাহিমকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে এএসআই মোস্তাফিজ ইব্রাহিমের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে সময় দিতে বলেন। এর প্রতিবাদ করায় ইব্রাহিমকে মারধর করা হয়। এ অবস্থায় তাদের ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ১৪ হাজার টাকা পরিশোধ এবং নারী কর্মকর্তা একান্তে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে সময় দেবেন—এই শর্তে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনা জানিয়ে গত ১ জুলাই আইজি ও ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করেন ইব্রাহিম খলিল। কিন্তু এ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি আইজি। এ অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা