সমালোচনার জবাব কিভাবে দিতে হয়, তা ভালো করেই জানা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচের পর তাঁকে নিয়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল চতুর্দিকে। গত রাতে হিউস্টনে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে সেই জবাব রোনালদো দিয়েছেন জোড়া গোল করে।
ম্যাচের ছয় মিনিটের সময়ই গোলের দেখা পেয়ে যান পর্তুগিজ তারকা। ডান পাশ থেকে জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো বল ধরে গোলটি করেন রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে সেটি ছিল তাঁর ১৪৪তম গোল। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম। তবে আরেকটি জায়গায় ইতিহাসে নাম লেখান রোনালদো। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাতে পেছনে পড়েছে লিওনেল মেসির পাঁচ বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড। বয়সের দিক থেকেও রেকর্ডের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন রোনালদো। ক্যামেরুন কিংবদন্তি রজার মিলারের (৪২ বছর ৩৯ দিন) পর বিশ্বকাপে গোল করা সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলার এখন তিনি। রোনালদো গোল করেছেন ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ গোলহীন ছিলেন তিনি। সমালোচনার তীরে তাই বিদ্ধ হচ্ছিলেন ব্যাপকভাবে। প্রথম গোলের পর রোনালদোর বুনো উল্লাসই বলে দিচ্ছিল, কতটা কাঙ্ক্ষিত ছিল এই গোলটি তাঁর কাছে। রোনালদোর গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় গোলের উল্লাসে মাতে পর্তুগাল। এবার বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ফ্রি কিকে গোল করেন নুনো মেন্দেস। প্রথমার্ধের ১৭ মিনিটের সময় তাঁর নেওয়া শটটি ঠেকানোর কোনো উপায়ই ছিল না উজবেকিস্তান গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভের।
এই সময় অবশ্য ব্যবধান কমিয়েছিল উজবেকিস্তান। বক্সের ২০ গজ দূর থেকে দারুণ এক গোল করেছিলেন আজিজ গানিয়েভ। তবে গোলের ঠিক আগে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলোকে ফাউল করায় ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল হয়। ম্যাচে এগিয়ে থাকা পর্তুগাল তখন আরো গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। সেই ধারাবাহিকতায় পর্তুগালের তৃতীয় আর রোনালদোর দ্বিতীয় গোলটির দেখা মেলে ম্যাচের ৩৯ মিনিটের সময়। ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন রোনালদো। তাতে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলের (১০) মালিকও বনে যান তিনি। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ছাড়িয়ে যান পর্তুগিজ কিংবদন্তি ইউসেবিওকে (৯)। তিন গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া পর্তুগাল প্রথমার্ধের ছন্দ ধরে রেখে দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ চালায়। চতুর্থ গোলটি পেতেও তাই বেশি সময় লাগেনি। তবে আত্মঘাতী গোল ছিল সেটি। ৬০ মিনিটের সময় পর্তুগালের কর্নার কিক থেকে উজবেকিস্তানের ডি-বক্সে জটলা তৈরি হয়, সেখান থেকে গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল। এরপর ৮৭ মিনিটে দলের পঞ্চম গোলটি করেন রাফায়েল লিও। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটির পর এই জয় নিশ্চিতভাবে আত্মবিশ্বাস জোগাবে পর্তুগিজদের।


