ব্রাদার্স ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসেবে এক নামে পরিচিত আমের খান। ২০০৩ থেকে একটানা ব্রাদার্সে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শুরুটা হয়েছিল তার আগের বছর থেকেই। ওই বছর তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ বছর। ব্রাদার্সেই খেলোয়াড় কাম ম্যানেজার হিসেবে তখন দায়িত্ব পান। দেশের ফুটবলে ব্রাদার্স বড় নাম। সেই তুলনায় একেবারে নবীন হিসেবে সাংগঠনিকভাবে আমের খানের জড়িয়ে পড়াটা ছিল দারুণ চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জটা তিনি আরো দারুণভাবে উতরেছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমেই ঢাকার ফুটবল লিগ ইতিহাসে প্রথম শিরোপা পায় ব্রাদার্স এবং পরপর দুই বছর তাদের এই সাফল্য। মাঝখানে তারা জিতে একটা জাতীয় লিগ, আসামে গিয়ে দলের মুকুটে যোগ হয় আরো একটি পালক- বরদলুই ট্রফির শিরোপা। ২০০৪ সালের ওই কৃতিত্বে আমের খান অংশীদার বরং অনেকখানি। কারণ ওই আসরে ব্রাদার্সের কোচই ছিল না। লিগ শিরোপা জিতিয়ে সৈয়দ নইমুদ্দিন ফিরে গিয়েছিলেন দেশে, আবু নোমান নান্নু দায়িত্ব ছেড়েছেন তো তার আগেই। আরমান মিয়া, আলফাজদের দলটি সব দায়িত্ব এসে পড়েছিল তাই ম্যানেজার আমেরের কাঁধেই। টুর্নামেন্টে কোচের ভূমিকাটা নিতে হয়েছিল তাঁকেই। সেখান থেকে শিরোপা জিতে ফেরাটা আমেরের কাছে এখনো তাই স্বপ্নময়। প্রতিবছর প্রাক মৌসুম তাঁকে সবচয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। কারণ তখন দল গোছানোর চ্যালেঞ্জ। ২০০৩-০৪ প্রথম সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়েই দলে ভিড়িয়েছিলেন আলফাজ, আরমানদের মতো তখনকার সেরাদের। পরের বছর আলফাজরাও তখন দল ছাড়লেন তখন এই আমেরই তুলনামূলক সিনিয়র খেলোয়াড় জুয়েল রানা, মাসুদ রানাদের দলে টেনে আবার পেয়েছেন সাফল্য। পেশাদার লিগ শুরুর কাজটা আরো কঠিন হয়ে গেছে বলেই মানেন, 'সমস্যাটা হলো আমাদের ক্লাবের স্থায়ী কোনো আয় নেই। রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে চলতে হয় ডোনেশনের ওপর। তাই পেশাদার কোনো ম্যানেজারও নিয়োগ দিতে পারি না। সেটা হলে আমার কাজটা অনেক সহজ হয়ে যেত। এখন দেখা যায় আমার একারই করতে হয় সব কিছু। ডোনারদের কাছে গিয়ে বসেও থাকতে হয় আবার এদিকে সব সময় যোগাযোগ রাখতে হয় দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গেও।' বিদেশি খেলোয়াড় সংগ্রহে আমের যে বেশ এগিয়ে, ২০১০-১১ মৌসুমে সেটা তিনি দেখিয়েছেন। ট্রায়ালের জন্য ব্রাদার্সে প্রায় হাট বসিয়েছিলেন তিনি বিদেশি খেলোয়াড়দের। তাঁদের মধ্যেই দুই ব্রাজিলিয়ান এভার্টন সুজা ও ডেনিলোকে নিয়ে বেশ সাড়াও ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। ব্রাদার্স ছাড়াও দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবের সঙ্গেও জড়িত আমের, সেটি লিটল- এই দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকও হয়েছেন। পারিবারিকভাবেও তাঁর খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্তটা অনেকখানি। তাঁর আপন বড় ভাই আমির খান ব্রাদার্সে ক্রিকেট দলের ম্যানেজার। দুজন একসঙ্গেই একসময় মাঠে নেমেছেন ব্রাদার্স ফুটবল দলের জার্সি গায়ে। * শাহজাহান কবির