kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর জন্য মায়ের আত্মত্যাগ

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর জন্য মায়ের আত্মত্যাগ

ইমাম শাফেয়ি (রহ.) জাদুঘর, মিসর

ইমাম শাফেয়ি (রহ.) শৈশবে তাঁর পিতাকে হারান এবং মায়ের কাছেই তিনি প্রতিপালিত হন। মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম, সাধনা ও দোয়ায় এতিম শিশু মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফেয়ি জগদ্বিখ্যাত ইমাম হন। বেশির ভাগ ঐতিহাসিক এ বিষয়ে একমত যে ইমাম শাফেয়ি (রহ.) শামের (বর্তমান ফিলিস্তিন) গাজা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বয়স দুই বছর হলে তাঁর মা ফাতেমা বিনতে আবদুল্লাহ তাঁকে মক্কায় নিয়ে আসেন এবং সাত বছর বয়সে তিনি কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শিখতে ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-কে গ্রামে পাঠানো হয়। শৈশবেই তাঁর কাছ থেকে সত্যনিষ্ঠ জীবনযাপনের অঙ্গীকার গ্রহণ করেন।

ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় মায়ের হাতেই। তিনি শৈশবেই সন্তানকে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী করে তোলেন। আর তিনি নিজেই ছিলেন একজন বিদ্বান ও বুদ্ধিমতী নারী। ঐতিহাসিকরা উল্লেখ করেন, ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মা ও অপর একজন নারী একজন পুরুষের বিপক্ষে সাক্ষী দিতে আদালতে উপস্থিত হন। তখন বিচারক তাঁদের উভয়কে আলাদা করে দিতে চাইল। ফাতেমা বিনতে আবদুল্লাহ তখন বিচারকের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন এবং বিচারককে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করেন। তিনি তিলাওয়াত করেন, ‘স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুল করলে তাদের একজন অপরজনকে স্মরণ করিয়ে দেবে। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮২)

ইমাম শাফেয়ি (রহ.) তাঁর শৈশবের ব্যাপারে বলেন, ‘আমি ছিলাম আমার মায়ের এতিম সন্তান। শিক্ষকের সম্মানী পরিশোধের সামর্থ্য তাঁর ছিল না। শেষ পর্যন্ত শিক্ষক সম্মত হন যে, অন্য শিশুরা চলে যাওয়ার পর বা তাদের ভিড় কমলে আমাকে পাঠদান করবেন। আমি সাত বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করি এবং ১০ বছর বয়সে মুয়াত্তা। কোরআন হিফজ করার পর আমি মসজিদে যাই এবং তাদের দরসে অংশগ্রহণ করি। তাদের কাছ থেকে হাদিস ও মাসআলা শিখি। আমাদের বাড়ি ছিল শিআবুল হাইফে। আমার কাছে কাগজ কেনার মতো অর্থ ছিল না। ফলে চামড়া সংগ্রহ করে তাতে লিখতাম। কখনো কেউ লেখা কাগজ দিলে তার উল্টো পিঠে লিখতাম। ’

ইমাম শাফেয়ি (রহ.) যখন উচ্চতর শিক্ষার জন্য ইয়েমেনে যান, তখন তাঁর মা নিজের বসতবাড়ি বন্ধক রেখে তাঁকে অর্থ দেন। কেননা তাঁর কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তিনি তাঁর মাকে স্মরণ করে বলতেন, ‘হে মা! আপনি আমাকে জ্ঞানের জন্য বিনয়ী হতে এবং শিক্ষককে সম্মান করতে শিখিয়েছেন। ’

কিসসাতুল ইসলাম ও আলুকা ডটকম অবলম্বনে



সাতদিনের সেরা