kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

খাদ্য দানের প্রতিদান জান্নাত

আতাউর রহমান খসরু   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খাদ্য দানের প্রতিদান জান্নাত

করোনাভাইরাসের কারণে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ও পণ্যের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তাদের ভেতর। এমন পরিস্থিতিতে ইসলাম দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সেসব মানুষের প্রশংসা করেছেন যারা নিজেদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অন্যকে আহার করায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘খাবারের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বে তারা অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিদের খাবার দান করে এবং বলে, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা তোমাদের খাবার দান করি। আমরা তোমাদের কাছ থেকে প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়।’ (সুরা দাহর, আয়াত : ৮-৯)

কী কী দেব?

যেহেতু খাবার মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন তাই কোরআন ও হাদিসে খাবারের কথাই বেশি বর্ণিত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, অসহায় মানুষকে দান করা হবে খাবার ও এমন সব বস্তু যার প্রতি তারা মুখাপেক্ষী। এমনকি কোথাও যদি বিশুদ্ধ পানির অভাব থাকে তবে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহও দান বা সদকা হিসেবে গণ্য হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘পানি থেকে বেশি পুণ্যবান কোনো দান নেই।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৩১০৬)

কারা সহযোগিতা লাভ করবে

সাধারণভাবে সব অভাবগ্রস্ত মানুষই সাহায্য লাভের অধিকার রাখে। যেমনটি ইরশাদ হয়েছে, ‘খাবারের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বে তারা অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিদের খাবার দান করে।’ (সুরা দাহর, আয়াত : ৮)

তবে কোরআন ও হাদিসের ভাষ্য থেকে বোঝা যায় নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী ও এতিমরা যদি অভাবগ্রস্ত হয় তবে তারা অন্যদের সাহায্য লাভের বেশি অধিকার রাখে। নতুবা সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ভেতর তাদের অসহায়ত্বের অনুপাতে দান সহযোগিতা লাভ করবে। দুর্ভিক্ষের দিনে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণির ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে তো বন্ধুর গিরিপথে প্রবেশ করেনি। তুমি কি জানো বন্ধুর গিরিপথ কী? তা হলো দাস মুক্ত করা অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে খাবার দান করা এতিম আত্মীয়কে অথবা দারিদ্র্য-নিষ্পেষিত নিঃস্বকে।’ (সুরা বালাদ, আয়াত : ১১-১৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সে ব্যক্তি আমার প্রতি (যথাযথভাবে) বিশ্বাস স্থাপন করেনি, যে পরিতৃপ্ত হয়ে ঘুমায় এবং তার প্রতিবেশী তার পাশে ক্ষুধার্ত থাকে—অথচ সে তার সম্পর্কে জানে।’ (মুজামুল কাবির, হাদিস : ৭৫১)

খাদ্য দানের মর্যাদা পুরস্কার

কোরআন ও হাদিসে খাদ্য দানের বহু মর্যাদা ও পুরস্কারের বর্ণনা এসেছে তার কয়েকটি হলো—

এক. জান্নাত লাভ : আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা মানুষকে আহার করাও, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করো আর মানুষ যখন ঘুমিয়ে যায়, তখন নামাজ আদায় করো; অতঃপর জান্নাতে প্রবেশ করো। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৮৫৪)

দুই. জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ : আদি ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকো একটি খেজুরের বিনিময়ে হলেও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪১৭)

তিন. উত্তম আমল : আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ইসলামের কোন আমলটি উত্তম? তিনি বলেন, ‘তুমি মানুষকে আহার করাবে এবং যাকে চেন বা চেন না উভয়কে সালাম দেবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১২)

চার. আল্লাহর পছন্দনীয় কাজ : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো, কোনো মুসলিমকে খুশি করা বা তার থেকে কষ্ট দূর করা বা তার ঋণ পরিশোধ করা বা তার ক্ষুধা নিবারণ করা।’ (মুজামুল আউসাত, হাদিস : ৬০২৬)

পাঁচ. ভালো মানুষের বৈশিষ্ট্য : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই যে আহার করায় এবং সালামের উত্তর দেয়।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৩৯২৬)

ছয়. আল্লাহর ভাণ্ডারে জমা : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তারা একটি বকরি জবাই করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞাসা করেন, (দানের পর) কি অবশিষ্ট আছে। তিনি বলেন, শুধু একটি বাহু। রাসুল (সা.) বলেন, বাহু ছাড়া বাকি সব (আল্লাহর ভাণ্ডারে) অবশিষ্ট আছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪৭০)

সাত. কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পরিণামে আল্লাহ তাদের (খাদ্য দানকারী) রক্ষা করবেন সে দিনের অনিষ্ট থেকে এবং তাদের দেবেন উত্ফুল্লতা ও আনন্দ।’ (সুরা দাহর, আয়াত : ৮-১১)

 

খাদ্য দান না করার শাস্তি

সামর্থ্য থাকার পরও কেউ যদি খাদ্য দান না করে তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং পরকালে তারা শাস্তির মুখোমুখি হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি কি তাকে (তার পরিণতি) দেখেছেন? যে দ্বিন অস্বীকার করে। সে তো এতিমদের রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয় এবং সে অভাবগ্রস্তদের খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না।’ (সুরা মাউন, আয়াত : ১-৩)

হাদিসে কুদসিতে এসেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ বান্দাকে বলবেন— ‘... হে আদম সন্তান আমি তোমার কাছে আহার চেয়েছিলাম তুমি আমাকে আহার করাওনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক আমি আপনাকে কিভাবে আহার করাব অথচ আপনি জগত্গুলোর প্রতিপালক! আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে আহার চেয়েছিল তুমি তাকে আহার করাওনি। তুমি কি জানতে না! যদি তুমি তাকে আহার করাতে তবে তার কাছে আমাকে পেতে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৯)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা