৩৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর
মাতিয়েস কুনিয়াকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল

উক্তি

প্রযুক্তি যেমন মানুষের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
রাখাইনে হামলা চলছেই, সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে এই হামলা চলছে। তবে হামলার ঘটনা ঘটছে রাখাইন রাজ্যের পূর্ব ও উত্তরাংশে। তা নাফ নদ থেকে পূর্বে ২০০ কিলোমিটার দূরে। এ কারণে দুই দিন ধরে টেকনাফ সীমান্তে বিস্ফোরণের শব্দ তেমন শোনা যায়নি। এর আগের তিন দিন হামলার ঘটনা ঘটেছিল নাফ নদ তীরবর্তী এলাকায়। এ জন্য টেকনাফ সীমান্তে ঘরবাড়িতে কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে নাফ নদ তীরবর্তী বন্দর শহর মংডুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর এলাকায় আবারও হামলার শঙ্কায় লোকজন নিরাপদ এলাকায় সরে যাচ্ছে।
এদিকে রাখাইনে সংঘাত পরিস্থিতিতে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কায় রয়েছেন। তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং মাদকের চালান পাচার রোধে মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে ২৭১ কিলোমিটারজুড়ে বিজিবির কঠোর অবস্থান রয়েছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কক্সবাজারের বিজিবির সেক্টর কমান্ডার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাখাইনের চলমান সংঘাতজনিত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচার রোধে মায়ানমার-বাংলাদেশের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোর সরকারি উদ্যোগে স্থানীয়রাও সন্তুষ্ট।
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গত শনিবার টেকনাফ উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে সরকারি কঠোর মনোভাবের বিষয়টি জেনে আমার ইউনিয়নের লোকজন বেশ সন্তুষ্ট। কেননা ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকে আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।’ আবারও যদি রোহিঙ্গা ঢলের সৃষ্টি হয় তাহলে এলাকাবাসীকেই পরবাসী হতে হবে। এ জন্য সরকারি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে এলাকার লোকজনও একাকার হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার-৪ উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মায়ানমার থেকে আর কোনো রোহিঙ্গা আমার সংসদীয় এলাকায় অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গত শনিবার টেকনাফে সরকারের প্রশাসনসহ সব বিভাগের প্রতিনিধি এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা অনুুপ্রবেশ ছাড়াও উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে মাদকের চালান পাচার, অপহরণপূর্বক মুক্তিপণ আদায় এবং মানবপাচারের ঘটনাও রোধ করা হবে কঠোরভাবে।’
এদিকে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাখাইনে অবস্থানরত একজন রোহিঙ্গা কালের কণ্ঠকে জানান, নাফ নদের ওপারে রাখাইনে দুই দিন ধরে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। প্রবল বর্ষণেও জান্তার বিমান হামলা থেমে নেই। আরাকান আর্মিও জান্তার হামলার জবাব দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকার লোকজন মনে করেছিলেন, ভারি বর্ষণজনিত কারণে দুই পক্ষের সংঘাত কিছুটা কমবে। কিন্তু সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। নাফ নদের ওপারের রাখাইন থেকে প্রাপ্ত নানা সূত্র মতে জান্তা বাহিনীর হামলার পর থেকে রাখাইনের রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসা হামলে পড়ছে আরাকান আর্মির ওপর। সব মিলে আরাকান আর্মি এখন দ্বিমুখী হামলার মুখে পড়েছে। বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বেশির ভাগ সদস্য দ্বিমুখী হামলার মুখে পড়ে পেছনে সরে রাখাইন পল্লীগুলোয় আশ্রয় নিচ্ছে। আবার অনেকেই উত্তর আরাকানের পার্বত্য বান্দরবান এলাকার সীমান্তঘেঁষা অরণ্যে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।
মায়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দখল করা রাখাইন পুনর্দখলের উদ্দেশ্যে গত ১ জুলাই থেকে জান্তা সরকারের বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জান্তা বাহিনী রাখাইনের বন্দর শহর মংডু, ভুতিদং, কুমিরখালী ও বলিবাজারে ব্যাপকভাবে হামলা চালিয়েছে। জান্তা বাহিনী এসব এলাকার আরাকান আর্মির ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। হামলায় ব্যাপকভাবে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও প্রচুরসংখ্যক লোকজন হতাহত হন। বেশি ক্ষতি হয়েছে বলিবাজার এলাকায়। সেখানকার আরাকান আর্মির ঘাঁটিটি পুরোটাই ধ্বংস হয়েছে। এমনকি আরাকান আর্মির সদস্য ছাড়াও রোহিঙ্গা এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনও হতাহতের শিকার হয়েছেন।
সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বলা হয়েছে, ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) বা অন্য যেকোনো আঙ্গিকেও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে এসব প্রচারসামগ্রী তৈরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রচারণার পরিবর্তে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য ও বার্তাকে প্রাধান্য দিয়ে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক বিশেষ পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি থ্রিডি বা অন্য যেকোনো আঙ্গিকে ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
পরিপত্রে আরো বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রচারণার চেয়ে অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিতে হবে। এসব প্রচারসামগ্রীতে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, মূল বার্তা ও বিষয়বস্তু জনসাধারণের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে পরিপত্রে বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।
পরিপত্রটির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, সব বিভাগীয় কমিশনার, দেশের সব জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
