• ই-পেপার

জামায়াত আমির

জনগণের রায় অস্বীকার করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না

আজকের খেলা

আজকের খেলা

ব্রাজিল-হাইতি (সকাল ৬-৩০ মিনিট)

প্যারাগুয়ে-তুরস্ক (সকাল ৯টা)

নেদারল্যান্ডস-সুইডেন (রাত ১১টা)

জার্মানি-আইভরি কোস্ট (রাত ২টা)

ইকুয়েডর-কুরাসাও (কাল সকাল ৬টা)

 

উক্তি

উক্তি

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারলে  আমরাই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেব।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষামন্ত্রী

অন্য জীবন

আলোহীন চোখে অন্তহীন লড়াই

পিন্টু রঞ্জন অর্ক
আলোহীন চোখে অন্তহীন লড়াই
কারো বোঝা হয়ে নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান শারমিন। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

কিছুতেই কান্না থামছিল না শারমিন আক্তারের। চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলছিলেন, ‘আমি তো কারো দয়া চাইনি। নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ চেয়েছি কেবল। কিন্তু সেটাও পেলাম না সিস্টেমের গলদের কারণে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন। তাঁর কান্নার আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর এক বঞ্চনা। সেই গল্পে যাওয়ার আগে ঘুরে আসি সাতক্ষীরা থেকে।

মেধাবী এই তরুণীর বাড়ি জেলার শ্যামনগরের ৫ নম্বর কৈখালী ইউনিয়নে। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাবা আব্দুল মজিদ কারিগর কৃষক। মা মর্জিনা বেগম গৃহিণী। শৈশব থেকে অনটনের সঙ্গে লড়ছেন শারমিন। খুব দুরন্ত ছিলেন। স্কুল থেকে ফিরে বই-খাতা রেখে বেরিয়ে পড়তেন। পাড়া মাতিয়ে ফিরতে ফিরতে বেলা গড়িয়ে যেত। পড়াশোনাও চলত সমানতালে। শৈশবে স্বপ্ন দেখতেন—ডাক্তার হবেন। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় একবার অসুখ হলো। সেরে ওঠার পর খেয়াল করলেন, আগের মতো  সেভাবে পড়তে পারছেন না। খেলতে গেলেও মাঝে-মধ্যে হোঁচট খাচ্ছেন। মা ভেবেছিলেন অসুখ থেকে ওঠায় শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তা আর হলো না। ধীরে ধীরে কমতে থাকল চোখের জ্যোতি। ছোট অক্ষরগুলো পড়তে অসুবিধা হতো বেশি। চোখের একেবারে কাছে নিলে তবেই দেখতেন। স্থানীয় ডাক্তারের কাছে তাঁকে নিয়ে গেলে ডাক্তার বললেন, ‘পুষ্টিকর খাবার খেলে বড় হতে হতে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

হঠাৎ যেন সূর্যগ্রহণ : কিন্তু সময় যত গড়ায় শারমিনের চোখের আলো তত কমে। আব্দুল মজিদ কারিগর সাতক্ষীরা, খুলনার ডাক্তার দেখিয়ে শেষে ঢাকায় নিয়ে এলেন মেয়েকে। ডাক্তাররা বললেন, ‘ওর চোখের শিরাগুলো শুকিয়ে গেছে। এটা ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’

কিন্তু মা-বাবার মন মানল না। তাঁরা জমিজমা বিক্রি করে মেয়েকে নিয়ে গেলেন ভারতে। মাসখানেক ছিলেন। কিন্তু কোনো উন্নতি নেই। ধীরে ধীরে আঁধার হয়ে এলো শারমিনের দুনিয়া। পড়াশোনা বন্ধ। মেয়ের এই করুণ দশা সইতে না পেরে এক পর্যায়ে বাবার হার্ট অ্যাটাক হলো। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলেন ঘরবন্দি। এর পর থেকে পরিবারের ভার শারমিনের বড় ভাই আলমগীরের কাঁধে। তত দিনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। টিউশনি করে চলতেন।

বোঝা হতে চাইলেন না : বছর দুয়েক স্কুলে যেতে পারলেন না শারমিন। বইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তবে শারমিন চাইতেন বইয়ের দুনিয়ায় ফিরতে, অজানাকে জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর। কারো বোঝা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলেন। ছুটিতে বড় ভাই বাড়িতে এলে তাঁকে বললেন, ‘ভাইয়া রে, এভাবে ঘরে থাকতে ভালো লাগে না। আমি আবার পড়তে চাই।’

বড় ভাই খোঁজ নিয়ে জানলেন, ঢাকার ব্যাপটিস্ট মিশনে শারমিনের মতো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ আছে। তিনি শারমিনকে নিয়ে এলেন ঢাকায়। ভর্তি করিয়ে দিলেন মিরপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে। এখানেই ব্রেইলের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সেই সুবাদে আবার বইয়ের সঙ্গে মিতালি।

আবার গ্রামে : প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামে ফেরেন শারমিন। ভর্তি হতে গেলেন কৈখালী এসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু শুরুতে শিক্ষকরা রাজি হননি। দৃষ্টিহীন এই তরুণী কিভাবে পড়াশোনা করবেন? অনুনয়-বিনয় করে শারমিন বললেন, ‘স্যার, আমি পারব। একটা সুযোগ দিন। ফেল করলে দায় আমার।’ অবশেষে সুযোগ হলো। এফডিএ নামের এক সংগঠন তাঁকে ব্রেইল বই দিল।

২০১৫ সালে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৪৪ পেয়ে এসএসসি পাস করলেন শারমিন। আবার ঢাকায় ফিরে ভর্তি হলেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে। এইচএসসিতে  পেলেন জিপিএ ৪.১৭।

আনন্দময় ক্যাম্পাস জীবন : এইচএসসি দিয়ে সহপাঠীরা প্রায় সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং করতে লাগলেন। কিন্তু শারমিনের সে সুযোগ কই? পরে বন্ধুদের শিটগুলো ফটোকপি করে নিতেন। পরিচিতদের মাধ্যমে রেকর্ডকৃত সেই শিট পড়তেন। এভাবে পড়েই ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সুযোগ মিলল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে। ক্যাম্পাসে তাঁর ঠিকানা ১১০ প্রীতিলতা হল। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা আনন্দে কেটেছে তাঁর।

শারমিন বলেন, ‘চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমি চাইনি কারো বোঝা হয়ে থাকতে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য শত প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। ভাইয়া যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে।’

সমমনা কয়েকজনের সঙ্গে মিলে ২০১৯ সালে ক্যাম্পাসে একটি সংগঠনও গড়েন। নাম ‘ডিজেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রিসার্চ অর্গানাইজেশন’। লক্ষ্য—তাঁর মতো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা। ক্যাম্পাস ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে উদ্যোক্তাদের একেকজন একেক দিকে চলে গেছেন। আপাতত স্থগিত সংগঠনটির কার্যক্রম। 

নতুন করে আঁধার : একসময় সব দেখতেন শারমিন। শৈশব ছিল রঙিন, কৈশোর বিবর্ণ। তখন থেকে চোখের আলোয় নয়, তিনি পৃথিবীকে বোঝেন অনুভূতি দিয়ে। কণ্ঠস্বর শুনে মানুষ চেনা, ভাতের হাঁড়ির গন্ধে দুপুর বোঝা, সাদাছড়িতে পথ মাপা। আর আছে ভয়। পায়ের শব্দে বুঝতে পারেন কেউ আসছে। কিন্তু কোনো স্থাপনা বা স্থির বস্তু তো শব্দ করে না। ফলে সেগুলোর সঙ্গে ধাক্কাও খেতে হয়েছে ঢের। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে থেকে সবকিছুর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন।

স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়। এবার জীবিকার লড়াই। হল ছেড়ে তিনি ওঠেন মিরপুরের একটা মেসে। নতুন জায়গা মানেই তাঁর কাছে নতুন অন্ধকার। তবু তিনি হাঁটতে লাগলেন। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির আবেদন করতে থাকেন। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো বসলেন চাকরির পরীক্ষায়। খাদ্য পরিদর্শক পদে। আয়োজকরাই শ্রুতিলেখক জোগাড় করে দিয়েছিল।

সেদিন কেন কাঁদছিলেন : এই প্রশ্নের জবাব পেতে ফিরতে হবে ১৬ মে, ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখানে সেদিন ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী স্টেশন মাস্টার পদের পরীক্ষা। শারমিনও ছিলেন প্রার্থী।

সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রে প্রবেশ করলেন। পরীক্ষা শুরু সকাল ১০টায়। কয়েক মিনিটের মাথায় বেরিয়ে এলেন শারমিন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শ্রুতিলেখকের বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। ফলে শারমিন অন্যান্য পরীক্ষার মতোই একজন শ্রুতিলেখক নিয়ে গেলেন। পরীক্ষার হলে বসে নিজের নাম-ধাম লিখছিলেন। এমন সময় হলে প্রবেশ করলেন এক ভদ্রলোক। নিজেকে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছেন বলে শারমিনের ভাষ্য। ‘শ্রুতিলেখকের অনুমতি নেই’—এই অজুহাতে তিনি শারমিনকে বের করে দিলেন হল থেকে। চোখের জল ফেলতে ফেলতে হল থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা : শারমিন বললেন, ‘ঘরে বাবা অসুস্থ। মায়ের অবস্থা ভালো নেই। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চাকরির আশায় বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করি। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষার সময় শ্রুতিলেখক নিয়ে আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়। আমার অনুমোদিত শ্রুতিলেখককে বাদ দিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আয়োজকরা তাঁদের দেওয়া শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেন। কিন্তু অসুবিধা হলো—বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা আমার বলে দেওয়া উত্তর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখে শেষ করতে পারেন না। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’

এই জটিলতা নিরসনে এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান শারমিন। চান একটা সরকারি চাকরি। বললেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যেন এমন একটা নিদের্শনা দেন, যাতে আমার মতো এই সমস্যায় আর কাউকে ভুগতে না হয়, যাতে প্রতিবন্ধীরা কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।’

 

 

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক স্থগিত

যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক স্থগিত

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠক স্থগিত হয়েছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার দেশটির ‘বুর্গেনস্টক’ রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল তা আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ইরান লেবাবনে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চিয়তা চাওয়ায় এই বৈঠক পিছিয়ে যায় বলে সিএনএন জানিয়েছে।

পরবর্তী বৈঠকের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরে নতুন তথ্য জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে দুই দেশের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে সই করেন।

এদিকে লেবাননে রাতভর তীব্র সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল এবং ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এই চুক্তির রূপরেখা তৈরি করেছেন এবং এতে ইরান সহযোগিতা করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই যুদ্ধবিরতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে গেছে বলে সিএনএন জানিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছে। হিজবুল্লাহর ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে তাদের বেশ কয়েকজন সদস্যকে হত্যার দাবি করে ইসরায়েল। অন্যদিকে এসব হামলায় ইসরায়েলের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলের অবিরাম যুদ্ধংদেহি মনোভাবের জন্য গুরুতর এবং তাৎক্ষণিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দীর্ঘদিনের মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের প্রাথমিক সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করছেন দেশটির কট্টরপন্থীরা। তাঁরা ইরান সরকারের এই কূটনৈতিক বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন। এদিকে ইসরায়েলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের চাপের মুখে পড়েছেন। লেবানন সীমান্তে সামরিক পদক্ষেপের ব্যাপারে ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী নেতারা আরো বেশি আগ্রাসী নীতি চান। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বর্তমান পদক্ষেপকে যথেষ্ট বলে মনে করছেন না।

ইরান কোনো অর্থ পাবে না, দশ সেন্টও নয় : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে আলোচনায় বসিনি। ইরানই নিরুপায় হয়ে আলোচনায় এসেছে। তারা একেবারে শেষ! আমরা পরবর্তী ৬০ দিন এভাবেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। তারা কোনো অর্থ পাবে না, দশ সেন্টও নয়!’

যদিও চুক্তির প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ট্রাম্পও এর আগে বিভিন্ন দেশে ইরানের জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

 

ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ চুক্তি করেছেন : মোজতবা খামেনি

চুক্তির পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মেনে নেওয়ার শামিল হবে না।

তিনি আরো জানান, ব্যক্তিগতভাবে কিছু বিষয়ে আপত্তি থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান তাঁকে নিশ্চিত করেছিলেন, ইরানের জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকবে।

 

‘রেড লাইন’ মেনেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা, জাতীয় স্বার্থে ছাড় নয় : গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় শর্ত মেনেই হতে হবে এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা গতকাল তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে। গালিবাফ বলেন, অতীতের মতো এবারও তেহরান তার শর্তে অটল থাকবে। কেউ সীমা অতিক্রম করলে শক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পিছপা হব না।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর গালিবাফের এই বক্তব্য এলো। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা, সিএনএন