সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা না। এখানে কথা বলতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে চলতে হবে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, স্পিকার

সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা না। এখানে কথা বলতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে চলতে হবে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, স্পিকার

সাংবাদিক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বুকে ব্যথা নিয়ে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন মুশফিকুল ফজল আনসারী। পরে তাঁকে দেখতে যান সেনাপ্রধান। এ সময় সিএমএইচের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. সাইয়েদা আলেয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মুশফিকুল ফজল আনসারীর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মৃদু হৃদরোগজনিত জটিলতার (মাইল্ড কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের লক্ষণ) ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এরপর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার আরো বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য সিটি এনজিওগ্রাম করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মুশফিকুল ফজল আনসারীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক ডা. মনোয়ারুল কবির বিটুকে হাসপাতালে পাঠান। তিনি সেখানে গিয়ে আনসারীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

বিদ্যমান সংবিধানে আংশিক সংশোধনের পরিবর্তে সামগ্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি চায় বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার সংবিধান সংস্কার কমিটির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে তবেই বিরোধী দল এতে অংশ নেবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় বিরোধী দলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই সনদ’ সংসদে বাস্তবায়ন করা না হলে তা রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করা হবে। আমরা নরম বিরোধী দলও না, আবার গরম বিরোধী দলও না। জনগণ একটি যৌক্তিক বিরোধী দলের ভূমিকা দেখতে পাবে। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংসদে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, প্রবাসীদের সমস্যা এবং সীমান্তে পুশ ইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, মার্চে উপস্থাপনের কথা থাকলেও জুনে সম্পূরক বাজেট পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে বিপুল অর্থ ব্যয় অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়। অর্থবছর জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারি করলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইন ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল হলেও এ বিষয়ে সংসদে দেওয়া নোটিশ নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। এমনকি এক পর্যায়ে নোটিশটি সংসদের কার্যসূচি থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপ্রয়োজনীয় প্রশংসা বা স্তুতি করে সংসদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। জনগণের পক্ষে কথা বলাই এমপিদের প্রধান দায়িত্ব। অতীতে দেশে একদিকে সরকারনির্ভর বিরোধী দল, অন্যদিকে সংসদ বর্জন ও সংঘাতমুখী বিরোধী দলের চর্চা দেখা গেছে। এ দুই ধারার কোনোটি অনুসরণ করবে না জামায়াতে ইসলামী। জনগণের স্বার্থে যৌক্তিক বিষয়ে সরকারকে সমর্থন দেওয়া হবে, প্রয়োজনে সমালোচনাও করা হবে। আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হব না, আবার এমন আচরণও করব না, যাতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। প্রয়োজনে ওয়াকআউট করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংসদ বর্জনের পথে না যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

শিগগিরই দেশের বাইরে প্রথমবারের মতো অফিস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। আগামী তিন মাসের মধ্যে চীনে এই অফিস স্থাপনের পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
আশিক চৌধুরী বলেন, এই অফিসের মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত হবে। এতে তাদের যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে।
তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগের উৎসগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্ব বিবেচনায় বিডা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষভাবে আলাদা সেবাকাঠামো গড়ে তুলেছে এবং তাদের জন্য পৃথকভাবে কাজ করছে।
আশিক চৌধুরী জানান, গত বছরের শেষ দিকে বিডার অধীনে দেশে একটি বিশেষ ‘চায়না ডেস্ক’ চালু করা হয়। এই ডেস্কে নিয়োজিত কর্মকর্তারা শুধু চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা ও সেবা প্রদানে কাজ করছেন। চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা ফোকাসড সাপোর্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৮০ দিনের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো চীনে বিডার অফিস চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত মার্চে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছিলেন, চীনে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরো দৃশ্যমান করা এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দ্রুত নিরসনের সুযোগ তৈরি করবে এই কার্যালয়। তখন তিনি আগামী ছয় মাসের মধ্যেই অফিসটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। চীনা বিনিয়োগের একটি অংশ বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন জটিলতা উৎস পর্যায়েই সমাধান করা এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এদিকে এই উদ্যোগকে সামনে রেখে অবকাঠামো খাতে বিডা ১৩টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক জোন) বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিডার ধারণা, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বিডার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে বাংলাদেশে বেসরকারি এফডিআইয়ের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের পরই চীনের অবস্থান। এই সময়ে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিনিয়োগ এসেছে ৪.৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং হংকং থেকে বিনিয়োগ এসেছে ১৭৩ মিলিয়ন ডলার। চীনের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের বড় অংশই এসেছে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও বস্ত্র খাতে।
২০২৫ সালে তিনটি চীনা কম্পানি বাংলাদেশের টেক্সটাইল, অ্যাপারেলস ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ৩২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে হংকংভিত্তিক হোন্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ ২৫০ মিলিয়ন ডলার, কিয়াশি গ্রুপ ৪০ মিলিয়ন ডলার ও চায়না ল্যাসো গ্রুপ ৩২.৭৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হংকংসহ চীন থেকে বাংলাদেশে মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৬৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে মোট এফডিআই স্টকের পরিমাণ ১৮.৯৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চীনা এফডিআই স্টকের হার ৮.৪৪ শতাংশ।