গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বহু মতের সহাবস্থানের প্রশ্ন আসে। আর দায়িত্বশীলতার কথা বলতে গেলে আসে জবাবদিহির প্রশ্ন।
জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বহু মতের সহাবস্থানের প্রশ্ন আসে। আর দায়িত্বশীলতার কথা বলতে গেলে আসে জবাবদিহির প্রশ্ন।
জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

ইরান-নিউজিল্যান্ড (সকাল ৭টা)
ফ্রান্স-সেনেগাল (রাত ১টা)
ইরাক-নরওয়ে (কাল ভোর ৪টা)
আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া (কাল সকাল ৭টা)

সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি কমাতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গতিসীমা নির্ধারণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ এবং চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।
সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে সংস্কার কাজের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাইন-সিগন্যাল স্থাপন, স্পিডব্রেকার নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং ও রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপনের কাজ চলছে।
চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে শেখ রবিউল আলম জানান, পেশাজীবী পরিবহন চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আগে বাধ্যতামূলক রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকদের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা কমাতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো জানান, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর আলোকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৭ মে ‘মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, গতিসীমা কার্যকর করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বিভিন্ন মহাসড়কে স্পিড লিমিট ও ট্রাফিক সাইন স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি রাম্বল স্ট্রিপ, স্পিড কন্ট্রোল জোন, সার্ভিস লেন, মিডিয়ান ও চ্যানেলাইজেশনের মতো ট্রাফিক ক্যামিং ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। মহাসড়কে আইটিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে গতিসীমা লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে বিআরটিএ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে বিআরটিএ নিবন্ধিত বৈধ মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। অবৈধভাবে চলাচলকারী মোটরসাইকেল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে রেলওয়ে মন্ত্রী রেলওয়ের সম্পদের পুনর্ব্যবহার বিষয়ে সরকারের চলমান কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরনো ও অকেজো রেললাইন নিলামে বিক্রি করা হয় না। কারণ এসব রেল পরবর্তীতে বাঁধ সুরক্ষা, রেলফেন্সিং এবং নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে পুনর্ব্যবহার করা হয়। এতে রেলওয়ের উল্লেখযোগ্য ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলে। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমানের আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফর, সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে দেশটির হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) হ্যারি থমসন ও অ্যানা পিটারসন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি, মারজিয়া আক্তার এমপি, মারদিয়া মমতাজ এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা দলের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমানের আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গণতন্ত্রকে আরো কার্যকর ও অর্থবহ করে তোলার ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করে যে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর ও প্রাণবন্ত হতে পারে না। এ সময় ঘোষিত জাতীয় বাজেট এবং বিরোধী দলের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেট নিয়েও মতবিনিময় হয়।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরো এগিয়ে নেওয়ার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়েও মতবিনিময় করে দুই পক্ষ। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে বৈঠক শেষ হয়।