• ই-পেপার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ, মৃত্যু ১৮

  • ► ৭৭ উপজেলায় ৫৮৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা প্লাবিত
  • ► চিকিৎসাসেবা দিতে ৭০টি মেডিক্যাল টিম চালু
  • ► বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি কমায় পরিস্থিতি উন্নতির দিকে
  • ► আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৩,৫২৭টি

উক্তি

উক্তি

শহীদ জিয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম

ব্রিটেনবাসী পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ব্রিটেনবাসী পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রথম ভাষণে বলেন, ব্রিটেনের মানুষ পরিবর্তন, স্থিতিশীলতা এবং নতুন আশার প্রত্যাশা করছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন পেছনে ফেলে দেশের মানুষের আস্থা পুনর্গঠন, অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বার্নহ্যাম বলেন, দেশের উন্নয়ন কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক হতে পারে না; যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দিয়েই এগিয়ে নিতে হবে।

কিয়ার স্টারমারের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের পর রাজা চার্লস অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। চার বছরের মধ্যে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম তাঁর নতুন দায়িত্বে প্রথম ভাষণ দেওয়ার জন্য ডাউনিং স্ট্রিটের দিকে ছুটে যান। যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী ও গত এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্রিটেনের মসনদে বসা বার্নহ্যামকে তাঁর আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব ও উত্তর ইংল্যান্ডের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ভূমিকার জন্য কিং অব দ্য নর্থ নামে ডাকা হয়। এর আগে কিয়ার স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে বিদায়ি ভাষণে তিনি নিজের সরকারের অর্জন, ব্রিটিশ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্টারমারের বিদায়ের পর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছান। সেখানে রাজা তাঁকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আহবান জানান। সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হন। বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে জানায়, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে চান তিনি। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবেলা, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে একটি ১০ বছরের জাতীয় পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণাও দেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে গৃহহীনতা কমানো, আরো বেশি সরকারি আবাসন নির্মাণ এবং জনসেবার উন্নয়ন। তিনি জানান, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরো দায়িত্বশীল ও স্থিতিশীল করে তোলাই হবে তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এদিকে বিদায়ি ভাষণের শেষে স্টারমার লেবার নেতা হিসেবে তাঁর উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ এক দশক আগে লন্ডনের মূলধারার রাজনীতি বা ওয়েস্টমিনস্টার ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একটি উপনির্বাচনে জিতে তিনি পুনরায় সংসদে ফিরে আসেন। কেয়ার স্টারমারের আকস্মিক পদত্যাগের পর লেবার পার্টির এমপিরা বার্নহ্যামের পেছনে জোরালো অবস্থান নেন। দলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয়সংখ্যক এমপির সমর্থন পেয়ে এবং অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেননি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আভাস অনুযায়ী, তাঁর মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার দৌড়ে বেশ কিছু পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ আলোচনায় রয়েছেন।  লুসি পাওয়েল : দলের ডেপুটি লিডার এবং বার্নহ্যামের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে মন্ত্রিসভায় তাঁর বড় কোনো পদে থাকা নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।  লুইস হেইগ : সাবেক পরিবহনমন্ত্রী লুইস হেইগও বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন।  র‌্যাচেল রিভস : লেবার পার্টির এই প্রভাবশালী নেত্রীকে মন্ত্রিসভায় রেখে দলের ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা হতে পারে, সম্ভবত তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ওয়েস স্ট্রিটিং : তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। ইভেট কুপার ও ব্রিজেট ফিলিপসন : অভিজ্ঞ এবং নিরপেক্ষ মুখ হিসেবে তাঁরাও বার্নহ্যামের নতুন সরকারে জায়গা করে নিতে পারেন। শাবানা মাহমুদ, এড মিলিব্যান্ড, ডেভিড মিলিব্যান্ড : এই নামগুলো নিয়েও মন্ত্রিসভার বিভিন্ন পদের জন্য চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তাঁর মন্ত্রিসভায় লন্ডনের একক আধিপত্য কমিয়ে উত্তর ইংল্যান্ডের নেতাদের বেশি প্রাধান্য দিতে পারেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি তাঁর নতুন ক্যাবিনেট বা মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করবেন। সূত্র : সিএনএন, স্কাই নিউজ

প্রধান বিচারপতি

পেশার প্রতি জমির উদ্দিন সরকারের ছিল অসীম ডেডিকেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
পেশার প্রতি জমির উদ্দিন সরকারের ছিল অসীম ডেডিকেশন
জুবায়ের রহমান চৌধুরী

প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী গুণের অধিকারী। জেন্টলম্যান ফর এক্সিলেন্স (শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক)। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক স্মরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বিচার বিভাগের প্রধান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এই স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর দুটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। একটি হলো আইন পেশার প্রতি তাঁর ছিল অসীম ডেডিকেশন (নিবেদন)। অন্যটি হলোকমিটমেন্ট টু দ্য কেস (মামলার প্রতি দায়বদ্ধতা), যা বর্তমানে বেশির ভাগ আইনজীবীর মধ্যেই দুটি বৈশিষ্ট্যেরই অভাব রয়েছে।

আইনজীবীদের উদ্দেশে জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, বিচারপ্রার্থীরা আল্লাহর পরে আইনজীবীদের ওপরই ভরসা করেন। তাই মামলার ফল যাই হোক না কেন, মামলাটি সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করা আইনজীবীদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।

স্মরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। জমির উদ্দিন সরকারের রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব। এক-এগারো সরকারের সময় তিনি তাঁর সাহসিকতা দেখিয়েছেন। তাঁর আচরণ অন্য আট-দশজন রাজনীতিকের মতো ছিল না। রাজনীতির প্রতিটা ধাপে তিনি পেশাদারি বজায় রেখেছেন।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আইনাঙ্গনের সবার একজন ছিলেন জমির উদ্দিন সরকার। তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে আইনজীবী সমিতি বা বার কাউন্সিলের নির্বাচন থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কোর্টে যে আরগুমেন্ট করতেন, তা এখন আইনের রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর পেশাগত নৈতিকতা সব আইনজীবীর জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, তিনি আইনজীবীদের জন্য অনুকরণীয়। কখনো কোনো এজলাসে উত্তেজিত হতেন না। কোর্ট কোনো আদেশ দিলে মাথা পেতে নিতেন। বর্তমানে অনেক আইনজীবীর মধ্যে এসব বিষয়ে শূন্যতা রয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ও জমির উদ্দিন সরকারের মেয়ে নিলুফার আখতার জমিরসহ অনেকে।

প্রধানমন্ত্রী

উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে তথ্য যাচাই-বাছাইয় এবং এর নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। এ ছাড়া  প্রধানমন্ত্রী এক সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালককে জানিয়েছেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এর সম্প্রসারণের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় ধাপে ধাপে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে : গতকাল এক সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হোংবো তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির জানান, সাক্ষাতের শুরুতে আইএলও মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরো সুদৃঢ় হয়েছে। এই অবস্থায় আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারি আরো জোরদার করতে আগ্রহী এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। এ অর্জনকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া স্বল্প সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্য বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক আরো বলেন, শ্রম খাতে সরকারের চলমান সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

বৈঠকে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবেলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করে। এ ছাড়া দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বান্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরো এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণ এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও সদর দপ্তর, জেনেভার মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ, মৃত্যু ১৮ | কালের কণ্ঠ