kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

প্রধানমন্ত্রী বললেন

পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব জনগণের

বাসস   

৪ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব জনগণের

শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে তাঁর পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, এর সব কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগণের। তিনি বলেন, ‘এভাবে আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণের কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ। তাদের শক্তি (আমার জন্য) সবচেয়ে বড় শক্তি। ’

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সবার উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় সভাপতিত্ব করেন।

শেখ হাসিনা তাঁর মন্ত্রিপরিষদের সহকর্মী ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার উত্তরে বলেন, ‘এই শুভেচ্ছা আমার দেশের জনগণের জন্য। আমার জন্য নয়, বাংলাদেশের মানুষের জন্য। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রমত্তা পদ্মার বুকে সেতু তৈরি করাটাই একটি ইতিহাস। কত অপবাদ, ষড়যন্ত্র এর জন্য মোকাবেলা করতে হয়েছে। আর সবচেয়ে দুঃখজনক যে আরো আগে সেতুর কাজ শুরু করা গেলে আরো আগেই শেষ করা সম্ভব হতো। ’

পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে মানুষের জীবন-জীবিকার আমূল পরিবর্তন ঘটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু তৈরির আগে প্রতিবছরই উত্তর বঙ্গে মঙ্গা দেখা দিত, অথচ এই একটি সেতু নির্মাণের পর সেখানের মঙ্গা আর নেই। সেখানে পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সাপ্লাই চেইন স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইলিশের মৌসুম এসে যাওয়ায় রাজধানীতে বসেই তাজা ইলিশ প্রাপ্তিও সম্ভব হবে। অন্যদিকে জেলেরাও লাভবান হবে, বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি বিরাট মাইলফলক। ’

আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায়

প্রধানমন্ত্রী গতকাল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, তাঁর সরকার দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি, সেটি বাস্তবায়ন করতে চাই। ’ রাজধানীর ওসামানী স্মৃতি মিলনায়তনের মূল অয়োজনে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি দেশের জনগণের জন্য। আমার নির্বাচনে অংশগ্রহণকালে ঘোষণা করা দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কর্মপরিকল্পনা থাকে। ’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে এবং বাজেট প্রণয়ন করেছে, তখন তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারটা সামনে রেখে কতটুকু তার বাস্তবায়ন হয়েছে এবং কতটুকু করতে হবে, তা ধরেই সব সময় কর্মনির্ধারণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে দলের জন্যও পৃথক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁর সরকার আশু, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নির্দিষ্ট করে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনায় করণীয় নির্দিষ্ট করে থাকে।

২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তাঁর সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং করোনাভাইরাসের আগ্রাসনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করেছে। পাশাপাশি জাতির পিতার চালু করে যাওয়া গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের অনুসরণে দেশের সব গৃহহীনকে ‘মুজিববর্ষে’ বিনা মূল্যে একটি ঘর করে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে।

অনুষ্ঠানে বার্ষিক কর্মসম্পাদনে সাফল্য অর্জনকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলো এবং ব্যক্তি বিশেষের মাঝে ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন পুরস্কার ২০২২’ ও ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০২২’ প্রদান করা হয়।

 



সাতদিনের সেরা