kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

ব্যবসায়ীরাই বাড়াচ্ছেন পেঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্যবসায়ীরাই বাড়াচ্ছেন পেঁয়াজের দাম

আসছে কোরবানির ঈদ। এই ঈদে বাড়ে পেঁয়াজের চাহিদা। এই সময়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দুইবার বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় এবং বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকির পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুমতি (ইমপোর্ট পারমিট) দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ঈদ সামনে রেখে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন খুচরা বাজারে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে হিলি স্থলবন্দরেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যও পেঁয়াজের দাম বাড়ার কথা জানাচ্ছে। টিসিবির তথ্য মতে, এক সপ্তাহ আগে দেশে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকা। গতকাল বুধবার তা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। দর বেড়েছে ২৯.৩১ শতাংশ। আমদানি করা পেঁয়াজও বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। এই পেঁয়াজের দর বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেঁয়াজের দাম কেজিতে আরো পাঁচ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের পাইকারি ও খুচরা পেঁয়াজ-আলু ব্যবসায়ী মো. আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুচরা পর্যায়ে এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি। পাইকারিতে বিক্রি ৪৯ থেকে ৫০ টাকা কেজি। গত সোমবার ও মঙ্গবার খুচরায় পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৫০ টাকা এবং পাইকারিতে বিক্রি হয় ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজি। ’

আমদানির সুপারিশ

চলমান পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে অধিদপ্তরে মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৫৫ টাকা কেজি হয়েছে। বিভিন্ন মোকামে এখন প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ টাকায়। কয়েক দিন আগেও প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ছিল এক হাজার ২০০ টাকার কম। ঈদে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ে, সেই অজুহাতে ব্যবসায়ীরা মোকামেই প্রতি মণে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে তার প্রভাব পড়বে বাজারে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি হাটবাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম আলী আহাদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোক্তা অধিকারের চিঠি আমরা এখনো পাইনি। তবে বাজার সহনীয় রাখতে মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনায় নেবে। পেঁয়াজের আমদানি কতটা উন্মুক্ত করা যায়, তা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ঠিক করা হবে। ’

শ্যামবাজারে অভিযান

বাজারে পেঁয়াজের সংকট না থাকলেও ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে বিক্রির অভিযোগে গতকাল শ্যামবাজারে অভিযানে নামে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় অনেক আড়তদারই দেখাতে পারেননি পেঁয়াজ কেনার রসিদ। পরে তিনটি প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সূত্র জানায়, কোনো ধরনের ক্রয়মূল্যের রসিদ না থাকায় আড়তদাররা ইচ্ছামতো দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। অবৈধভাবে পেঁয়াজ মজুদও করা হয়েছে।

এর আগেও পেঁয়াজের আড়তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মূল্যবৃদ্ধি খুব একটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

হিলিতেও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকা এবং খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ার কারণে বাড়ছে দেশি পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহ আগে দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমার কারণে দাম বেড়েছে, বলছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা রোজিনা ইয়াসমিন বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। সেই সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশীদ হারুন বলেন, আমদানি বন্ধ থাকায় গত ঈদুল ফিতরের পর বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। এখন দেশি পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়তে শুরু করছে। ঈদুল আজহার আগে দাম আরো বাড়তে পারে। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম আরো কমে আসবে। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছেন।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি। ]



সাতদিনের সেরা