kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মেধায় চাকরি ১৫% বাকি সব কোটায়

সজিব ঘোষ   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মেধায় চাকরি ১৫% বাকি সব কোটায়

জনবলসংকটে ভুগতে থাকা বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রায় তিন বছর পর এসেছে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। আগামী তিন বছরে বিভিন্ন পদে ১৫ হাজার লোক নিয়োগ দেবে রেল। এমন পরিকল্পনা থেকেই সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে ২৩৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে জানিয়ে এরই মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রেলওয়ের মার্কেটিং ও করপোরেট প্ল্যানিং বিভাগ। তবে ১৫তম গ্রেডের এই চাকরির ৮৫ শতাংশ নিয়োগ হবে কোটার ভিত্তিতে। বাকি ১৫ শতাংশ চাকরি মিলবে মেধার জোরে। সেই হিসাবে ২৩৫ জনের মধ্যে ২০০ জনের চাকরি হবে কোটায় আর ৩৫ জনের চাকরি হবে মেধায়।

সহকারী স্টেশন মাস্টার পদের এই নিয়োগে মোট আট ধরনের কোটায় আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সূত্রের তথ্য বলছে, পোষ্য (রেলের স্থায়ী পদে অন্তত ২০ বছর চাকরি করেছেন এমন ব্যক্তির সন্তান) কোটা ৪০ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ও এতিম ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ২.৫ শতাংশ, আনসার ও ভিডিপি ৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা (বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে-মেয়ে বা নাতি-নাতনি) ১৫ শতাংশ, জেলা ৫ শতাংশ ও নারী কোটায় বরাদ্দ থাকছে ৭.৫ শতাংশ চাকরি।

এরই মধ্যে রেলওয়েতে নিয়োগসংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিনিধি যুক্ত করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এমঅ্যান্ডসিপি) এ কে এম আব্দুল্লাহ আল বাকী। এই কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই চলমান এই নিয়োগের সব ধাপ আগাবে।

রেলওয়ের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, রেলে নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরেই নিয়োগ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে বর্তমানে জনবলসংকটে ভুগতে হচ্ছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া আরো আগেই শুরু করা হতো কিন্তু করোনা মহামারির জন্য তা সম্ভব হয়নি। এখনো যে সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে নিয়োগ সময়মতো শেষ হবে, তা বলা যাচ্ছে না। বিপুলসংখ্যক আগ্রহী প্রার্থী আবেদন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, নিয়োগ বাণিজ্য, পরীক্ষায় জালিয়াতি ও নানা মহলের তদবির ঠেকাতে পরীক্ষার ধরন ও নিয়োগ কমিটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবারই প্রথম রেলের নিয়োগ কমিটিতে পিএসসির প্রতিনিধি যুক্ত করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় বর্ণনামূলক উত্তর চাওয়া হবে না। প্রশ্নের সঙ্গে উত্তরের ছক দেওয়া থাকবে। সেখানে উত্তরের মধ্যে অনেকগুলো শূন্যস্থান থাকবে, যা লিখে পূরণ করতে হবে। এভাবেই প্রতিটি শূন্যস্থানের বিপরীতে লেখা উত্তরের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হবে। এই উত্তরপত্র দেখা হবে যন্ত্রের মাধ্যমে। ফলে কাউকে বেশি বা কম নম্বর দেওয়ার সুযোগ নেই। আর পিএসসিকে যুক্ত করার ফলে মন্ত্রণালয়ে নানামুখী চাকরির তদবিরের চাপ কম আসবে।

এদিকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদের চাকরি থেকে কোটা পদ্ধতি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিগুলোতে কোটার প্রচলন রয়ে গেছে। এই দুই শ্রেণির চাকরির বেশির ভাগ পদই কোটায় চলে যাচ্ছে। এ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের ভাবনা জানতে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কালের কণ্ঠ’র কথা হয়।

মাঈনুদ্দিন আহমেদ ঢাকা কলেজের দর্শনের ছাত্র। তিনি স্নাতক শেষ করেছেন। সরকারি প্রথম শ্রেণির চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে করোনায় চাকরির বাজার খারাপ হয়ে পড়ায় এই ১৫তম গ্রেডের চাকরিতেও আবেদন করবেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় শতভাগ আসনেই কোটায় নিয়োগ হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে পোষ্য কোটা সবচেয়ে বেশি। এতে তো প্রমাণ হচ্ছে, বাবার সরকারি চাকরি থাকলে ছেলের চাকরি এমনিতেই হবে।’

ইসলামের ইতিহাসে স্নাতক পাস করেছেন হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিসিএস থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণি—সব ধরনের চাকরিতেই আবেদন করছি। আমাদের অবস্থা বোঝার কেউ নেই। কোটা থাকুক, কোটারও দরকার আছে। তাই বলে কি কোনো চাকরিতে ৯০ শতাংশ কোটা থাকতে পারে? এমন কোটা থাকাটা নিশ্চয়ই অন্যায়।’

গত ২৮ আগস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ঝালকাঠি জেলা ছাড়া সব জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস হতে হবে। কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি থাকতে হবে। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বছরের ১ সেপ্টেম্বরে যাঁদের বয়স ১৮ পূর্ণ হবে, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া গত বছরের ২৫ মার্চ যাঁদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা একই দিনে ৩২ বছর গ্রহণযোগ্য। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

 



সাতদিনের সেরা