kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

সিপিডির সংলাপ

করোনাকালে কাজ হারান ৬২% মানুষ

সংসদে বাজেট আলোচনা ‘নাটক’ : রেহমান সোবহান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাকালে কাজ হারান ৬২% মানুষ

করোনার কারণে দেশে এক বছরে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে কাজ ফিরে পেলেও তাঁদের আয় কমেছে। এসব নতুন দরিদ্রের জন্য বাজেটে কিছু নেই। বরং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেখানো হয়। গরিবরা যে অনুপাতে পাওয়ার কথা সে অনুপাতে সামাজিক নিরাপত্তা খাত থেকে সুবিধা পাচ্ছে না। এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষার আওতায় অভীষ্ট মানুষেরা বাদ পড়ে যাচ্ছে, অন্যরা ঢুকে পড়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফাম আয়োজিত ‘কভিডকালের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের জন্য কী আছে’ শীর্ষক যৌথ ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনাকে ‘এক ধরনের নাটক’ বলে অভিহিত করেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। আরো বক্তব্য দেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশাল শাখার নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৬ জেলার দুই হাজার ৬০০ খানার ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, করোনার কারণে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাঁরা গড়ে ৯৫ দিনের মতো কাজ পাননি। পরে যাঁরা কাজ পেয়েছেন, তাঁদের আয় কমেছে। এমন মানুষের পরিমাণ গড়ে ১২ শতাংশ। করোনার কারণে সেবা খাতে চাকরি কমেছে। তবে কৃষিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শুভংকরের ফাঁকি উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এখানে তিনটি শুভংকরের ফাঁকি আছে। প্রথম ফাঁকি হলো বরাদ্দ। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যা নয় তার চেয়ে বেশি করে বরাদ্দ বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ফাঁকি হলো, গরিবদের যে অনুপাতে পাওয়ার কথা সেই অনুপাতে পাচ্ছে না। আর তৃতীয় ফাঁকি হলো, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যা দেওয়া হয় সেটি যাদের পাওয়া উচিত, তারা পায় না। বলা হয়, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। তাহলে তাতে গরিবদের হিস্যা কেন বাড়বে না?

রেহমান সোবহান বলেন, সামাজিক সুরক্ষার আওতায় অভীষ্ট মানুষেরা বাদ পড়ে যাচ্ছে, অন্যরা ঢুকে পড়েছে। আর কভিডকালে নতুন গরিব বেড়েছে। নতুন গরিব ও পুরনো গরিব এই দারিদ্র্যের পরিসংখ্যান এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি করে। এই পরিসংখ্যানগত বিতর্কে না গিয়ে যারা প্রকৃত গরিব তাদের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। এখানে কাঠামোগত ও বিতরণে সমস্যা আছে। এ সময় তিনি গরিব মানুষ ও দরিদ্রপ্রবণ এলাকা বিবেচনায় গরিব মানুষের জন্য বীমা সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলেন।

সংসদে বাজেট আলোচনা সম্পর্কে রেহমান সোবহান বলেন, বাজেট আলোচনা এক ধরনের নাটক। সংসদ সদস্যরা নিজেদের এলাকার প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন। প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংসদ সদস্যরা সংসদে কথা বলেন। রেহমান সোবহান বক্তব্যের এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ও আলী আশরাফের কাছে সংসদে বাজেট আলোচনায় কত মিনিট সময় পান জানতে চান। জবাবে রাশেদ খান মেনন জানান, ১০ মিনিটের মতো। উত্তর পেয়ে রেহমান সোবহান বলেন, বাজেট আলোচনায় একজন সংসদ সদস্যের জন্য গড়ে ১০ মিনিট সময় দেওয়ার কোনো মানে নেই।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনা অর্থহীন। আলোচনা করতে হয় বলেই করি। ১০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকলে কী হয়, একটি পয়েন্ট আলোচনা করতেই ১০ মিনিট চলে যায়।

সংসদ সদস্য আলী আশরাফ মনে করেন, তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা করেই বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত। বাজেট যদি আমলানির্ভর হয় তাহলে তা ভালো লক্ষণ নয়।



সাতদিনের সেরা