kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

আরেক জাহালমকাণ্ড

নোয়াখালীর কামরুল এবার দুদকের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নোয়াখালীর কামরুল এবার দুদকের শিকার

বহুল আলোচিত পাটকল শ্রমিক জাহালমের পর এবার দুদকের ভুল তদন্তের শিকার হয়েছেন নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের সহকারী মো. কামরুল ইসলাম। শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির মামলায় ১৫ বছরের সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ব্যক্তি। এই ঘটনায় এরই মধ্যে হাইকোর্টের কাছে ভুল স্বীকার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অবস্থায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ পরবর্তী শুনানি ও রায়ের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন।

জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে সরল বিশ্বাসে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে।

আর মো. কামরুল ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেছেন, দুদক কর্মকর্তা আসামির ভুল ঠিকানা ও বাবার নাম ভুল দেওয়ায় হয়রানির মুখে পড়েছেন নোয়াখালীর পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের মো. কামরুল ইসলাম।

যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই আসামির বাড়ি পশ্চিম রাজারামপুর। প্রকৃত আসামি যে কলেজে ভর্তি হন, সেখানে তাঁর ছবি ছিল। ঠিকানা পশ্চিম রাজারামপুর লেখা ছিল। এর পরও দুদকের কর্মকর্তারা ভুল ঠিকানা ব্যবহার করেন। এই কারণে তিনি রিট আবেদন করেছেন।

জানা যায়, প্রকৃত আসামি ও ভুক্তভোগী দুজনেরই নাম কামরুল ইসলাম। প্রকৃত আসামির জন্ম ১৯৭৭ সালে। তিনি ১৯৯৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে কলেজে সনদ দাখিল করেন। তাঁর বাড়ি নোয়াখালী সদরের পশ্চিম রাজারামপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. আবুল খায়ের, মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। আর নির্দোষ কামরুল ইসলামের জন্ম ১৯৯০ সালে। এসএসসি পাস করেন ২০০৬ সালে। তাঁর বাড়ি পূর্ব রাজারামপুর গ্রামে। বাবার নাম আবুল খায়ের। মায়ের নাম রওশন আরা বেগম।

জানা যায়, এসএসসির সনদ জালিয়াতি করে নোয়াখালীর মাইজদি পাবলিক কলেজে ভর্তির অভিযোগে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক মো. শহীদুল আলম ২০০৩ সালের ২৭ জানুয়ারি কুমিল্লায় মামলা করেন। কামরুল ইসলামের সনদে গ্রামের নাম পশ্চিম রাজারামপুর, বাবা আবুল খায়ের থাকলেও মামলার বাদী দুদকের পরিদর্শক ঠিকানা বদলে পূর্ব রাজারামপুর লিখে দেন। একই সঙ্গে বাবার নামের আগে ‘মো.’ বাদ দেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর যে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, তাতেও এফআইআর অনুযায়ী আসামির নাম-ঠিকানা লেখা হয়। এই মামলায় বিচার শেষে নোয়াখালীর আদালত ২০১৪ সালে রায় দেন। রায়ে তিনটি ধারায় পাঁচ বছর করে মোট ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ে বলা হয়, সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। এরপর আসামির বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই আদেশ পেয়ে নোয়াখালীর পুলিশ আসামিকে ধরতে গেলে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর নির্দোষ কামরুল ইসলাম আইজীবীর শরণাপন্ন হন। পুরো বিষয় জেনে গত বছর হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। রিট আবেদনে কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়। এই রিট আবেদনে হাইকোর্ট গত বছর ৫ নভেম্বর রুল জারি করেন। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চান। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ভুল স্বীকার করে আদালতে প্রতিবেদন দেন। সেখানে এফআইআর ও অভিযোগপত্রে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়। গত সোমবার এই প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন দুদকের আইনজীবী।

নির্দোষ কামরুল ইসলাম জানান, বাবার চাকরির সুবাদে ১৯৯৪ সালে সপরিবারে পৈতৃক ঠিকানা ছেড়ে লক্ষ্মীপুরে চলে যান। ২০০৮ সালে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের সহকারী হিসেবে চাকরি পান কামরুল। পরে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি নোয়াখালীতে বদলি হন। তিনি সেখানেই কর্মরত। তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরে থাকার সময় নোয়াখালীর পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের ঠিকানায় দু-একবার পুলিশ যাওয়ার খবর পেলেও সেটাকে তাঁরা গুরুত্ব দেননি। তবে করোনা সংক্রমণের আগে গত বছরের শুরুতে পুলিশের তত্পরতা বেড়ে যায়। তখনই থানায় খোঁজ নিয়ে আদালতের সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর আইনজীবীর শরণাপন্ন হন তিনি।

 

মন্তব্য