kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

‘দলীয় প্রশ্রয় না পেলে এমনটা হবে না’

সৈয়দ আবুল মকসুদ

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘দলীয় প্রশ্রয় না পেলে এমনটা হবে না’

যত ছোট পদের কর্মকর্তাই হোন না কেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নিরাপত্তার প্রতীক। তিনি নিজেই যদি দুর্বৃত্তদের হামলায় আক্রান্ত হন, সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? সব সরকারের আমলে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা দেখা যায়। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হয় না বলেই পুনরাবৃত্তি হয়।

পরিবেশ আন্দোলনসহ বিভিন্ন নাগরিক অধিকার আন্দোলন করার কারণে দেশব্যাপী ঘুরি। যেখানেই যাই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলি। একটা অভিযোগ প্রায় সব জায়গার কর্মকর্তারা করেন। ক্ষমতাসীনদের অন্যায় আবদার পূরণ না করলেই তাঁরা বিরাগভাজন হন, অপমান করেন। অবৈধ বালুমহাল, নদীর পার দখল—এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব ইউএনওদের। এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ ক্ষমতাসীনদের পছন্দ না। কারণ তাদের সব চাই। এটা শুধু এই সরকারের আমলে না। সব সরকারের আমলেই হয়। তবে বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হওয়ার কারণে সরকারি কর্মকর্তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিযোগিতার রাজনীতি থাকলে স্থানীয় পর্যায় থেকে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কোন্দলের খবর আগে আমরা দেখতাম। এখন সে রকম খবর কম। বেশির ভাগ খবরই আসে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল অথবা প্রশাসনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ঝামেলা নিয়ে।

যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, প্রশাসনের ওপর হামলা সেই দলের ছাত্র ও যুবক সংগঠনের লোকেরাই করে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারগুলো কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না।

দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। শুধু ইউএনও নয়, এসি ল্যান্ডসহ আরো অনেক কর্মকর্তা আছেন। অপরাধীরা যদি ঠিকমতো শাস্তি পেত এবং দলীয় প্রশ্রয় না পেত, তাহলে এ রকমটা হতো না। তাদের দলীয় প্রশ্রয় না দিলেই এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে। সাধারণ চোর-ডাকাতরা তো এ ধরনের ঘটনা ঘটায় না। ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। এর পেছনের ঘটনা কী, জানতে হবে।

লেখক : গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বাপার সহসভাপতি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা