kalerkantho

সোমবার । ৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হবে ফের

প্যারোল বা সাজা স্থগিতের আবেদন আপাতত নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হবে ফের

ফাইল ছবি

সরকারের দিক থেকে ‘সবুজ সংকেত’ না আসায় আপাতত প্যারোল বা সাজা স্থগিতের আবেদন কোনোটাই করছে না বিএনপি। এর বদলে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও মানবিক দিক বিবেচনার উল্লেখ করে পুনরায় উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন জানানো হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় জামিনের আবেদন জানানো হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিএনপির সিনিয়র আইনজীবী ও স্থায়ী কমিটির নেতাদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে নেতারা মত দেন, সরকারের দিক থেকে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত না পাওয়া গেলে আবেদন করা উচিত হবে না। একতরফা আবেদন নাকচ হলে নেত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। নেতারা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গতকালের বক্তব্য এবং খালেদা জিয়ার পরিবারের কথাবার্তারও উল্লেখ করেন। নেতারা বলেন, বিগত কয়েক দিন ধরে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে সরকার সাড়া দেয়নি।

গতকালের বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে ফোনালাপের প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। ফখরুল উপস্থিত নেতাদের জানান, গণমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে এসেছে সেভাবে তিনি কিছু বলেননি।

প্রসঙ্গত, গতকাল দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমার সঙ্গে ফোনে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের এই আবেদনটা জানাতে বলেছেন মৌখিকভাবে। আমি সেটা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আমি এটুকু বলতে পারি, এ ছাড়া কোনো লেনদেন বা এ নিয়ে কোনো কথাবার্তা আমাদের সঙ্গে হয়নি। তলে তলে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলে কালকে টক শোতে শুনলাম। আমার মনে হয় বাস্তবে বিষয়টা তেমন কিছু নয়।’

গতকাল বৈঠক শেষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ওই ধরনের কথা বলেননি বলে বৈঠকে জানিয়েছেন। আমরা মানবিক গ্রাউন্ডে আবারও খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘সরকার কোনো ইঙ্গিত দিলে তো আমরা প্যারোল বা অন্য কিছুর সিদ্ধান্ত নেব। সরকার তো সেদিকে যাচ্ছে না। রাজনীতি করছে। ফলে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘প্যারোল ও সাজা স্থগিতের কোনো আবেদনই আমরা আপাতত করব না। আইনি লড়াই চালিয়ে যাব এবং আবারও জামিনের আবেদন জানাব।’

আইনজীবী জয়নূল আবদীন বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছেন যে দরকার হলে তিনি মরে যাবেন, তবু প্যারোল নেবেন না। খালেদা জিয়া খুবই শক্ত। আর সাজা স্থগিত তো সরকারের হাতে। তারা চাইলে সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে। সরকার বিষয়টি অন্যভাবে নিতে চাচ্ছে।’

কয়েক মাস ধরেই খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদন করা হতে পারে বলে রাজনীতির অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে। তাঁর পরিবার এ বিষয়ে আবেদন করেছে বলেও গুঞ্জন ছিল। অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাজা স্থগিতের বিষয়টি সামনে আনলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, আবেদন করলে সরকার বিবেচনা করবে। এমন পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্যের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ভাই একটি আবেদন করেছেন বলে খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিমা ইসলাম জানান। এ অবস্থায় গতকাল বিএনপি নেতারা বসে এই সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের অন্য কোনো রাজনীতি না করে মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া উচিত।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের বিষয়ে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি আরো বলেন, ‘উনি (ওবায়দুল কাদের) কী বলেছেন তা ওনাকে জিজ্ঞাসা করলেই বেটার হবে। এখন কথা একটাই, ট্রিটমেন্টের জন্য দ্রুত নেত্রীকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে তাঁর পরিবার থেকেই আবেদন জানানো হয়েছে।’

বৈঠকের পর অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আবার ম্যাডামের জামিনের দরখাস্ত করব। আমরা বিশ্বাস করি, হাইকোর্ট দেশের জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে আমরা এবার জামিন লাভ করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘সিনিয়র লইয়ারদের সঙ্গে আলাপ করে যত দ্রুত সম্ভব, হয়তো আগামী সপ্তাহেই আমরা জামিনের আবেদন করব।’

লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে ফখরুল ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নূল আবদীন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা