kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

মানবপাচারের ৫ মামলায় কারো সাজা হয়নি

এখনো বিচারাধীন ৩৯৮ মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানবপাচারের ৫ মামলায় কারো সাজা হয়নি

কক্সবাজারে দায়ের হওয়া মানবপাচারের মামলাগুলোর মধ্যে যে পাঁচটি মামলা এরই মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলোতে কোনো আসামিরই সাজা হয়নি। এখনো জেলার বিভিন্ন আদালতে ৩৯৮টি মানবপাচার মামলা বিচারাধীন। পুলিশ বলছে, মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার মানবপাচারে জড়াচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আওতাধীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তিনটি আদালতে মামলাগুলোর বিচার চলছে।

নিষ্পত্তি হওয়া পাঁচটি মামলায় কারো সাজা না হওয়ার বিষয়ে এ আদালতগুলোর সদ্যোবিদায়ি সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলাগুলো অত্যন্ত দুর্বল ছিল। বাদী ও সাক্ষীরা আদালতে জোরালো সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। এ ছাড়া বিচারাধীন মামলার সাক্ষীদেরও ঠিকমতো খুঁজে পাওয়া যায় না।’ তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের আইন মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের মানবপাচারের অন্যতম রুট কক্সাবাজার। ২০১২ সাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপকূল দিয়ে মানবপাচারের ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি মানবপাচারের ঘটনা ঘটে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে। একপর্যায়ে মানবপাচার উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়েই ঠেকেছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে দুই বছর ধরে সেটি হ্রাস পেয়েছিল। কিন্তু কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় এলাকার মানবপাচারকারী চক্র হঠাৎ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকার সাতজন তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে ৮৩৪ জন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণত শীতকালে মানবপাচার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এ সময় সাগর থাকে শান্ত। শান্ত সাগরে দুর্ঘটনা কম হয় বলে পাচারকারীরা এ সময়টিকে বেছে নিয়ে থাকে।’

পুলিশ সুপার বলেন, এরই মধ্যে যেসব পাচারকারীকে আটক করা হয়েছিল তারা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আবার একই অপরাধে জড়াচ্ছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় ৪৪৫টি মানবপাচারের মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি দুই হাজার ২২৪ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে ৮৩৪ জন। এ সময়ে উদ্ধার হয়েছে তিন হাজার ৫৫৩ জন ভুক্তভোগী। তাদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যকই রোহিঙ্গা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানবপাচারের ঘটনা ঘটে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে। এ সময়ে ২৮০টি মামলা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মানবপাচারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। গত জানুয়ারি মাসে মাত্র একটি মানবপাচারের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর ও নভেম্বর মাসে নথিভুক্ত হয়েছে দুটি মামলা। তিনি জানান, টেকনাফ উপকূলে গতকালের ঘটনায় জড়িত পাচারকারীচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে এরই মধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আবদুস সালাম নামের অভিযুক্ত এক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা