kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

গ্রেপ্তার চার তরুণ

কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে

জন্মদিনের কথা বলে ডেকে নেওয়া হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে

‘হ্যালো ফ্রেন্ডস, আমরা আগামী কালকা হয়তো জেলে থাকতে পারি। না হয় বাড়ির আশেপাশে থাকতে পারবো না। আর আমাদের মনে হয় আমি আর শরীফ দুইজনের থিকা একজন বিয়া করতে।’ ১৫ জানুয়ারি এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর চার তরুণ উল্লাস করে এর ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে এই স্ট্যাটাস দিয়েছিল। শুক্রবার রাতে ওই চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর তাদের মোবাইল ফোন থেকে ভিডিওটি উদ্ধার করে র‌্যাব। এর আগে তাদের উল্লাসের ভিডিও ভাইরাল হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার নৈয়পুরা গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের ছেলে ও গণধর্ষণকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত শরীফ হোসেন (১৮), ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার গোলাভিটা গ্রামের এক তরুণ (১৬), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উজান চন্দ্রপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে ইমরান হাসান সুজন (১৯) ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর গ্রামের সাবাজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে শরিফ উদ্দিন মোল্লা (২০)। তারা নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে নয়নপুর এলাকায় ভাড়া থাকে।

র‌্যাব-১ জানায়, প্রথমে শরীফ হোসেনকে গাজীপুর শহরের রাজবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যে ইমরান হাসান সুজন, শরিফ উদ্দিন মোল্লা ও আহসানকে ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-১-এর গাজীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ১৫ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে এক বান্ধবীর সহায়তায় ওই চার বন্ধু জন্মদিনের কথা বলে কৌশলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর এলাকার একটি বাসায় ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা জন্মদিনের কেক কেটে সবাই মিলে আনন্দ-উল্লাস করে। একপর্যায়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কিশোরীকে নেশাজাতীয় পানীয় পান করিয়ে অজ্ঞান করে পাশের একটি ঝোপের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করে। ইমরান হাসান সুজন মোবাইল ফোনে ওই ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং নিজের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেন। ধর্ষণের পর চার বন্ধু একটি সেলুনে গিয়ে উল্লাস করে এবং ‘হ্যালো ফ্রেন্ডস...জেলে থাকতে পরি’ বলে আরো একটি ভিডিও করে সেটিও ফেসবুকে আপলোড করে। গ্রেপ্তারের পর ভিডিওগুলো তাদের মোবাইলে পাওয়া যায়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন আরো জানান, এ ঘটনার পর কিশোরীর মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছিলেন।

এদিকে ছেলে সুজনকে গ্রেপ্তারের খবরে বাবা লিটন মিয়া বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী কিশোরীর মা। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই মামলা না করতেও তাঁদের বাধা দেয়া হয়েছিল। এখন মামলার আসামি গ্রেপ্তারের পরও তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল সাকিব বলেন, ‘হুমকির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কিশোরীর পরিবারটিকে নিরাপত্তা দিতে আমরা কাজ করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা