kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

আলোচনায় আগ্রহের আভাস ইরানের

‘জবাব’ আদায় করেই ছাড়বেন ট্রুডো

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলোচনায় আগ্রহের আভাস ইরানের

ছবি: ইন্টারনেট

মার্কিন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেলের মৃত্যু এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে যাত্রীবাহী বিমানের ১৭৬ আরোহীর প্রাণহানি—এই দুই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা চলছে, তা এখনো প্রশমিত হয়নি। তবে ১০ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো ইরান বলেছে, ওয়াশিংটন-তেহরানের বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে অস্থিরতা কমানোই ‘একমাত্র সমাধান’।

এদিকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় তেহরানের ওপর ঘরে-বাইরে চাপ আরো বাড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি শুরুতে অস্বীকার করায় গতকালও তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিহত বিমানযাত্রীদের স্বজনদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন, তিনি এ বিষয়ে তেহরানের কাছ থেকে ‘জবাব’ আদায় করেই ছাড়বেন।

ওয়াশিংটন-তেহরানের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে গত ৩ জানুয়ারি। ওই দিন মার্কিন হামলায় নিহত হন ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ৮ জানুয়ারি ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। প্রায় একই সময় তেহরান থেকে উড্ডয়নের পর ইউক্রেনের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ আরোহীর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ইরান ও কানাডার শতাধিক নাগরিক ছিল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি রাষ্ট্র অভিযোগ তোলে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। শুরুতে অস্বীকার করলেও গত রবিবার অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে ইরান জানায়, অনিচ্ছাকৃতভাবে ও ‘মানবত্রুটির’ কারণে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস দেয় তেহরান।

কিন্তু শুরুতে ‘মিথ্যাচারের’ কারণে ইরানের ওপর ঘরে-বাইরে নতুন করে চাপ তৈরি হয়, যা এখনো অব্যাহত আছে। গতকালও তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, চলমান বিক্ষোভে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো উসকানি দিচ্ছে। এই অভিযোগে গত রবিবার ইরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখে তেহরান।

কানাডার নিহত ৫৭ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আলবার্টার এডমন্টন শহরে একটি অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ বানানো হয়েছে। গতকাল সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে যান দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পরে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই এই দুর্ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ইরানকে এর জবাব দিতেই হবে। তাদের কাছ থেকে জবাব আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্ষান্ত হব না।’

মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল তেহরানে বৈঠকে বসেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। বৈঠকের পর শেখ তামিম বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষই একমত যে ওয়াশিংটন ও তেহরান শান্ত না হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ রুহানি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় আমরা আরো সহযোগিতা ও পরামর্শ বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সোলাইমানিকে হত্যার পর শর্ত ছাড়া ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে ইরান বলেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে আরো জোরালো সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

সোলাইমানির মৃত্যুর পর বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘনের ঘোষণা দেয় ইরান। গত রবিবার ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন চুক্তি থেকে সরে না দাঁড়ায়। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা