kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নতুন পেঁয়াজের চাপে ঝাঁজ কমছে দামে

আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারিতে কেজি ১০০ টাকার নিচে, দেশি নতুন পেঁয়াজ পাইকারিতে ১০০

রফিকুল ইসলাম   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন পেঁয়াজের চাপে ঝাঁজ কমছে দামে

উত্তাপ কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দামে। কিছুটা বিলম্বে হলেও হঠাৎ অভিজাত হয়ে ওঠা পণ্যটির দাম কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি বন্ধের অজুহাতে প্রায় আড়াই মাস দেশের পেঁয়াজ বাজার বেসামাল। বাড়তি দাম গুনতে ক্রেতার নাভিশ্বাস উঠলেও মুনাফা লুটে নেন ব্যবসায়ীরা। ৩০-৩৫ টাকা কেজির দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়ে ৫০০ শতাংশ। ঘাটতির কারণে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তড়িঘড়ি বিদেশ থেকে আকাশপথে

পেঁয়াজ আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। দেশে মৌসুমের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় দামের নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ১০০ টাকার বেশি। যে পেঁয়াজ এত দিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে, এখন মানভেদে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারিতে ভালো মানের দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি।

দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কমতে শুরু করলেও পুরনো পেঁয়াজের ঝাঁজ ততটা কমেনি। প্রতি কেজি দেশি পুরনো পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা। অবশ্য খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে পুরনো দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যায়নি। খুচরা বাজার আমদানি করা চীন, মিসর ও দেশি নতুন পেঁয়াজে ভরপুর।

গতকাল শনিবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কমার দিক থেকে আমদানি করা বিদেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে অনেক। চীনের আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, খুচরায় ৭০-৮০ টাকা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ পাইকারিতে ১২৫-১৩০ টাকা, খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা। মিসর থেকে আনা পেঁয়াজ পাইকারিতে ৮০ টাকা, খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা কেজি।

খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পেঁয়াজের জোগান বেড়েছে। দেশি নতুন পেঁয়াজের জোগান আগের সপ্তাহের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। চীন ও মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের জোগানও যথেষ্ট। ফলে দামেও সস্তা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজারে কয়েকটি আড়তে পুরনো দেশি পেঁয়াজ সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। দাম টাঙিয়ে বিক্রেতারা বসে আছেন ক্রেতার খোঁজে। কিন্তু দেশি পুরনো পেঁয়াজের ক্রেতা খুব কম। আড়তে আধাঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করে পুরনো দেশি পেঁয়াজের একজন ক্রেতাও দেখা যায়নি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা পেঁয়াজের জোগান বেশি হওয়ায় পুরনো দেশি পেঁয়াজে আগ্রহ কমে গেছে। এ ছাড়া নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে চলে আসায় দাম কমছে। একজন ব্যবসায়ী জানান, এক বস্তা পুরনো দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে দিন পার। দাম কম হওয়ায় চীন ও মিসরের পেঁয়াজে ক্রেতার আগ্রহ বেশি। নতুন দেশি পেঁয়াজও কিনছে ক্রেতারা।

রাজধানীর গুদারাঘাট মোবারক স্টোরের বিক্রেতা বলেন, ‘পেঁয়াজের দামে স্বস্তি ফিরছে। পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতার নাভিশ্বাস কাটতে শুরু করেছে। দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম আরো কমবে। পাইকারি বাজার থেকে আমরা খুচরা বিক্রেতারা যে দামে কিনি, তার চেয়ে ১০-২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।’

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে কারসাজিগোষ্ঠী বাজারকে অস্থিতিশীল করেছিল। তবে নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসায় স্বাভাবিক হওয়ার পথে। বাজারে জোগান বাড়ছে, সরবরাহ বাড়ায় দাম আরো কমে যাবে। ভোগ্য পণ্যের দাম নাগালে রাখতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা