kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিলেট আ. লীগের সম্মেলন

‘দলে ত্যাগী ও দুঃসময়ের কর্মী দরকার’

► মহানগর সভাপতি মাসুক ও সম্পাদক জাকির
► জেলা সভাপতি লুত্ফর সম্পাদক নাছির

সিলেট অফিস   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘দলে ত্যাগী ও দুঃসময়ের কর্মী দরকার’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগে কর্মী কমে যাচ্ছে আর নেতার সংখ্যা বেড়ে গেছে। এখন পোস্টার লাগাতে কর্মী পাওয়া যায় না। কিন্তু নেতার অভাব নেই। কত নেতা, নেতার আর শেষ নেই। বড় নেতা, পাতি নেতা, সিকি নেতা, আধুলি নেতা। কিন্তু আওয়ামী লীগের এত নেতার দরকার নেই। দলে ত্যাগী ও দুঃসময়ের কর্মী দরকার।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের  সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে জীবনের জয়গান গায়। ধ্বংস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির পতাকা উড়ায়। আওয়ামী লীগ বীরের রক্ত ছুঁয়ে দুর্যোগের বিরুদ্ধে, অন্ধকারের বিরুদ্ধে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে যায়।

জেলা আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুত্ফুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আজ সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের সেরা দুজন প্রধানমন্ত্রীর একজন। আমাদের নেত্রী বিশ্বের চারজন পরিশ্রমী রাষ্ট্রনায়কের একজন। আমাদের নেত্রী বিশ্বের তিনজন সত্ প্রধানমন্ত্রীর একজন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজ বিশ্বের প্রথম ১০ জন প্রথম সারির নেতার একজন। বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত বিদায়ের পর বাংলাদেশের ৪৪ বছরের সবচেয়ে সত্ রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের গত ৪৪ বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের গত ৪৪ বছরের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের গত ৪৪ বছরের সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের গত ৪৪ বছরের সবচেয়ে জনবান্ধব সরকারের নাম শেখ হাসিনার সরকার। এ মহান নেত্রীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পুষ্পিত পতাকা হাতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। মুক্তিসংগ্রামের আপসহীন কাণ্ডারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে।’

তিনি বলেন, ‘দল যদি করেন দলের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতা হওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের নেতা হতে হবে যোগ্যতা দিয়ে, ত্যাগ-তিতিক্ষা দিয়ে। সুসময়ের সুবিধাবাদীদের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেওয়া যাবে না। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে। মনোনয়ন বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। মনোনয়ন বাণিজ্য আওয়ামী লীগে শুনতে চাই না। মনোনয়ন বাণিজ্য যাঁরা করেছেন, তাঁরা সাবধান হয়ে যান। টেন্ডারবাজরা সাবধান, চাঁদাবাজরা সাবধান, শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান চলছে। মাদক কারবারি, সন্ত্রাসীরা সাবধান। অপকর্মকারীরা সাবধান হয়ে যান। টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের স্থান আওয়ামী লীগে নেই।

কমিটি করতে গিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি করা চলবে না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, পকেট কমিটির লোকেরা সুসময়ে আসে। তাই ত্যাগী কর্মী চাই, পরীক্ষিত নেতা চাই।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমরা শেখ হাসিনার কর্মী। এ জন্য আমরা নিজেরা গর্ববোধ করি। কারণ এ দেশের যা কিছু অর্জন তার সবই হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এ আওয়ামী লীগের ওপর সারা দেশের মানুষের আস্থা, সারা দেশের মানুষের ভরসা।’ হানিফ বলেন, ‘স্লোগান দিয়ে কাউকে নেতা বানানো যাবে না। ওই প্ল্যাকার্ড আর বিলবোর্ড দেখিয়ে কেউ নেতা হতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে কর্মীদের দল, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। আওয়ামী লীগের শক্তি তার নেতাকর্মীরা।’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য সুজিত রায় নন্দী, অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান প্রমুখ।

নেতৃত্ব নির্বাচনে চমক : প্রায় ১৪ বছর সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ও মহানগর কমিটি পেল সিলেট আওয়ামী লীগ। তবে সম্মেলন হলেও কাউন্সিলে ভোট হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে দলীয় প্রধানের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক। পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরে ঘোষণা করা হবে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট লুত্ফুর রহমান আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নাছির উদ্দিন খান। লুত্ফুর রহমান আগের কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং নাছির উদ্দিন খান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আগের জেলা কমিটির সহসভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জেলা ও মহানগরের শীর্ষ চার পদের নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা