kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গোড়ায় গলদ, বেড়ায় ক্ষেত খায়, ঢেলে দে মা চেটেপুটে খাই—বহু পুরনো এসব প্রবাদ-প্রবচনের ঐতিহ্য ধরে রাখাই যেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব। নইলে দেশ ও জনগণের জন্য নেওয়া সরকারের উন্নয়ন বাজেট তথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি—এডিপির এই হাল কেন? এডিপির প্রকল্পগুলো নেওয়া হয় যাদের জরিপ-শুমারির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে, সেই বিবিএসে কাজের নামে চলছে দুর্নীতি-গাফিলতি। প্রকল্পকাজে নৈতিকতা দেখভালের দায়িত্ব যাদের, সেই আইএমইডি নীতি-আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে আজ হন্যে শুধু টাকা লুটপাটে। আর প্রকল্পে মাঠের কাজে সরাসরি জড়িত যারা, তাদের ধ্যানজ্ঞান একটাই—একের পর এক প্রকল্প আসুক, মেয়াদের পর মেয়াদ বাড়ুক, সরকার কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালুক, আমরা চেটেপুটে খাই আর উন্নয়ন পড়ে থাক কাগজে-কলমে; কারো কিচ্ছু যায়-আসে না। টানা কয়েক মাসের অনুসন্ধানে এই চিত্রই উঠে এসেছে কালের কণ্ঠ’র ভাণ্ডারে

উন্নয়নের গোড়ায় জরিপ গলদ

আরিফুর রহমান   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৮ মিনিটে



উন্নয়নের গোড়ায় জরিপ গলদ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে ঢুকতেই চোখে পড়ে বড় হরফে লেখা একটা স্লোগান—

‘থাকবে না কেউ উন্নয়নের আড়ালে আবডালে/বিবিএস সব আনবে তুলে পরিসংখ্যানের জালে’।

সুদৃশ্য ১০ তলা ভবনটিতে গত ২৪ জুন দুপুরবেলা ঢুকেই এমন স্লোগানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শরীর-মনে কেমন একটা প্রত্যয়-জাগানিয়া শিহরণ বয়ে যায়। পরিসংখ্যানের জাল ফেলে সবাইকে তুলে আনা হবে উন্নয়নের আলোয়—কথাটার মাঝে চিন্তার খোরাকও মেলে কিছুটা। পরিসংখ্যানের সঙ্গে তাহলে উন্নয়নের সম্পর্ক আছে?

কানে বাজল নতুন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কিছু বক্তব্য। সভা-সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, একটি দেশে যদি সঠিক পরিসংখ্যান না থাকে, সে দেশ কখনো এগোতে পারে না। সঠিক ও নির্ভুল তথ্য না থাকলে কোনো পরিকল্পনা নেওয়া কঠিন। ভুল তথ্যের ওপর কোনো পরিকল্পনা নিলে সেটি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হয় না। তাই তাঁর মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র (বিবিএস) প্রতি মন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে সব সময় নির্ভুল জরিপ-শুমারির মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করার। কিন্তু বিবিএস করছেটা কী? আসুন, কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানী হাত ধরে জেনে নেওয়া যাক অতি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের জাতীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব জরিপ-শুমারির হাঁড়ির খবর।

প্রায় চার মাস ধরে অনুসন্ধান করা হয়েছে বিবিএসের করা খানা আয়-ব্যয় জরিপ, কৃষিশুমারি, জাতীয় খানা ডাটাবেইস জরিপ (এনএইচডি) ও অর্থনৈতিক শুমারি—এই চারটি জরিপ-শুমারির ভিতর-বাহির। অনুসন্ধানের ফল এক কথায় ভয়াবহ। রাষ্ট্রের মৌলিক তথ্য-উপাত্ত বের করার প্রকল্পগুলোয় চলছে বেশুমার দুর্নীতি, লুটপাট আর অনিয়ম; সঙ্গে নজিরবিহীন ফাঁকিবাজি, গাফিলতি আর খামখেয়ালি। এর অনিবার্য পরিণতিতে বেরিয়ে আসছে ভুলভাল, জোড়াতালি আর গোঁজামিলে ভরা ফল। আর তার ভিত্তিতে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনায় থেকে যাচ্ছে বড় রকমের গলদ ও ঝুঁকি। অনুসন্ধানকালে অন্তত আটজন বিশেষজ্ঞও কালের কণ্ঠ’র কাছে এ রকম মতামত ব্যক্ত করেছেন।

আজ আমরা ছাপলাম বিবিএসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ‘খানা আয়-ব্যয় জরিপ’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

ফল নিয়ে সংশয় : বিবিএস ১৮ কোটি টাকা খরচ করে ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে পরের বছর ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক বছর ধরে দেশজুড়ে সর্বশেষ খানা জরিপটি করে। দুই হাজার ৩০৪টি নমুনা এলাকার ৪৬ হাজার ৮০টি খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করে বিবিএস। খানা জরিপকাজের দুই বছর দুই মাস পর গত মে মাসে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলটি সংগ্রহ করে অনুসন্ধানে নামে কালের কণ্ঠ। দেখা গেল, জরিপফলে বলা হয়েছে, দেশবাসীর দৈনিক মাথাপিছু ভাত গ্রহণের পরিমাণ ২০১০ সালের ৪১৬.০১ গ্রাম থেকে ২০১৬ সালে ৩৬৭.১৯ গ্রামে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দৈনিক মাথাপিছু রুটি খাওয়ার পরিমাণ ২০১০ সালের ২৬.০৯ গ্রাম থেকে কমে ২০১৬ সালে ১৯.৮৩ গ্রামে নেমে এসেছে। একইভাবে ফল খাওয়ার পরিমাণ ৪৪.৭০ গ্রাম থেকে কমে ২০১৬ সালে ৩৫.৭৮ গ্রামে নেমেছে।

মনে প্রশ্ন জাগে, মানুষ ভাত খাওয়া কমালে তো রুটি খাওয়া বাড়ানোর কথা, কিন্তু রুটিও কমবে কেন? আর যদি ভাত, রুটি, ফল—তিনটিই খাওয়া কমিয়েই দেয়, তাহলে তো নিশ্চয় অন্য কিছু খাওয়া বাড়িয়েছে অথবা খাদ্যতালিকায় নতুন কিছু যোগ করেছে দেশবাসী। কী সেটা?

জরিপফল ঘেঁটে দেখা গেল, দেশবাসীর সবজি খাওয়ার পরিমাণ ২০১০ সালের চেয়ে ২০১৬ সালে বেড়ে দৈনিক মাথাপিছু ১৬৬.০৮ গ্রাম থেকে ১৬৭.৩০ গ্রাম হয়েছে। একইভাবে মাছ খাওয়া বেড়ে ৪৯.৫০ গ্রাম থেকে হয়েছে ৬২.৫৮ গ্রাম; মাংস খাওয়া বেড়ে ১৯.০৭ থেকে হয়েছে ২৫.৪২ গ্রাম; ডিম খাওয়া বেড়ে ৭.২৫ গ্রাম থেকে হয়েছে ১৩.৫৮ গ্রাম। তবে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণ কমে হয়ে ৩৩.৭২ গ্রাম থেকে হয়েছে ২৭.৩১ গ্রাম। 

মনের খটকা নিয়ে বিবিএসের ওই জরিপফলসহ গত ২৭ আগস্ট ছুটলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে। বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের শরণাপন্ন হলে তিনি বললেন, ‘২০১২ সালে দেশের মানুষের খাদ্যভ্যাস নিয়ে আমরা একটি জরিপ করেছিলাম। তখন মানুষের খাদ্য গ্রহণের যে হার দেখেছি, সেটার সঙ্গে বিবিএসের তথ্যের পার্থক্য বিস্তর।’ ফল খাওয়ার হার যেটা দেখানো হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে তাঁর মত। তবে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে অনেকের মাঝে স্বাস্থ্যসচেতনতা বেড়েছে; অনেকেই ভাত-রুটি কমিয়ে মাছ, মাংস, ডাল, শাকসবজি খাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছে—এটা ঠিক। সে কারণে ভাত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে, তবে এতটা বেশি নয়। মনে রাখতে হবে, দেশের ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। তাদের পক্ষে ভাত কমিয়ে ডাল-সবজি, মাছ-মাংস কিনে বেশি বেশি খাওয়া সম্ভব নয়। ’

এই পুষ্টিবিদ আরো বললেন, গণনাকারী যখন মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান, তাঁর সেই কাজে অনেক দুর্বলতা থাকে। এখানেও সে রকম কিছু হতে পারে। যেকোনো জরিপ শুরুর আগে ভালো গণনাকারী নির্বাচন করতে হয়, তাঁদের ভালো করে প্রশিক্ষণ দিতে হয়, কাজের কৌশল শেখাতে হয়। এসব না করে যদি কাউকে তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠে পাঠানো হয়, তাঁর পক্ষে সঠিক তথ্য নিয়ে আসা কঠিন।

পরদিন আবার ছুটলাম আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিআইডিএস)। এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এস এম জুলফিকার আলীর সামনে বিবিএসের সর্বশেষ জরিপফলটি মেলে ধরলে তিনিও দেখলেন সেখানে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে দিনে একজন মানুষ দুই হাজার ৩১৮ কিলোক্যালরি গ্রহণ করত। ২০১৬ সালের জরিপে সেটা কমে এসেছে দুই হাজার ২১০ কিলোক্যালরি। তিনি বললেন, ‘জরিপেই বলা হচ্ছে, দেশে দারিদ্র্যের হার কমছে; মাথাপিছু আয় বাড়ছে। আয় বাড়লে তো ব্যয়ও বাড়ে। তাহলে তো মানুষের দৈনিক ক্যালরি নেওয়ার হারও বাড়ার কথা।’ তিনি বলেন, দেশবাসীর খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু কিলোক্যালরি গ্রহণ কমে যাওয়া কিছুতেই যুক্তিসংগত হতে পারে না। জরিপের ফলেই বলা হচ্ছে, দেশবাসীর মাছ, মাংস, ডিম খাওয়ার হার বেড়েছে। এতে তো কিলোক্যালরি বাড়ার কথা। উল্টো কমেছে কেন?

বিবিএসের জরিপ-শুমারির ফল নিয়ে বরাবরই সমালোচনামুখর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব মনসুর। গত ৩১ আগস্ট কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন নীতি-কৌশল তৈরির জন্য বিবিএসের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করতে গিয়ে তাঁরাও খটকার মধ্যে পড়েছেন। বিবিএসের হিসেবে দেশে এখন দারিদ্র্যের হার ২১.৮ শতাংশ। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলছে, এ হার আরো বেশি। তিনি বলেন, তাই বিবিএসের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দরিদ্রদের জন্য সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা কঠিন। জরিপের তথ্য যদি ভুল হয়, সরকারের পরিকল্পনাও ভুল দিকেই যাবে।

আহসান মনসুর আরো বলেন, বিবিএসের তথ্যের ভিত্তিতেই সরকার জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশের কথা বলছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বিনিয়োগ পরিস্থিতির মিল পাওয়া যাচ্ছে না। জিডিপির অনুপাতে কর্মসংস্থানও তেমন হয়নি। রাজস্ব আদায়ও বাড়েনি। তাই এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

খানা জরিপে মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটির সঙ্গেও বাস্তবতার মিল নেই বলে আহসান মনসুরের মত।

একই মন্তব্য ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনেরও। ওই দিন তিনিও বললেন, ‘জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লে রাজস্ব আদায়ের হারও বাড়ে। কিন্তু এনবিআরের তথ্য বলছে, এটা বাড়ছে তো না-ই, বরং কমছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম রাজস্ব আদায় বাংলাদেশে; অথচ জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে দক্ষিণ এশিয়ায় নাকি আমরাই সবার চেয়ে এগিয়ে।’

অফিসে বসে জরিপ : তাহলে মানুষ কী বেশি খাচ্ছে—এই তথ্য বের করতে গিয়ে বেরিয়ে এলো থলের বেড়াল—মাঠ পর্যায়ে যখন খানা আয়-ব্যয় জরিপের কাজ চলছিল তখন প্রকল্প পরিচালক উপসচিব ড. দিপংকর রায়, উপপরিচালক আবদুল লতিফ, উপসচিব মীর হোসেনসহ (বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কর্মরত) প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেউ নিয়মমতো তদারকিতে যাননি। এই সুযোগে ৬৪ জেলার পরিসংখ্যান কর্মকর্তারাও গণনাকারীদের কাছে যাননি। ফলে গণনাকারীরাও বাড়ি বাড়ি না গিয়েই নিজেদের খেয়ালখুশিমতো তথ্য জুড়ে দিয়েছেন ফরমে। আর সেই মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতেই সরকারের উন্নয়ন নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণের ভিত্তির মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ প্রতিবেদনটি তৈরির নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ড. দিপংকর রায়।

গত ১১ অক্টোবর উপসচিব মীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ওই জরিপের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাই এ বিষয়ে তাঁর কোনো দায়ভার নেই। একই দিন কথা হয় উপপরিচালক আব্দুল লতিফের সঙ্গে। তিনি অবলীলায় জানালেন, জরিপ চলার সময় মীর হোসেনও ছিলেন। বললেন, ‘আমরা একটা টিম হয়ে খানা আয়-ব্যয় জরিপের কাজটি করেছি। প্রকল্প পরিচালক দিপংকর রায় সরেজমিন দেখতে গেছেন দুইবার। আমি পাঁচবারের মতো গেছি। মীর হোসেনও গেছেন।’

বিবিএসের জরিপ প্রতিবেদনে গোপালগঞ্জ সদর পৌরসভার সব অর্থাৎ ১৪ হাজার খানায় জরিপ চালানো হয়েছে বলে লেখা আছে। ওই পৌরসভার জুনিয়র পরিসংখ্যান কর্মকর্তা প্রভাষ সন্ন্যাসী গত ২৬ আগস্ট এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি ৪৮ জন গণনাকারী দিয়ে এই পৌরসভার সব খানায় জরিপ চালিয়েছি।’ কিন্তু ওই দিন সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠ’র গোপালগঞ্জ প্রতিনিধির মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হয় পৌরসভার দুটি ওয়ার্ডে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২৯০ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মলয় কুমার ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খানা আয়-ব্যয় জরিপের কেউ আমার বাড়িতে আসেনি।’ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩৮ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা বলরাম দাসও একই কথা বলেন।

এই তথ্য গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রভাষ সন্ন্যাসীকে জানালে এবার তিনি বলেন, ‘এই পৌরসভায় হাজার পাঁচেক ভাড়াটিয়া বসবাস করে, যারা আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। এ কারণে তাদের কেউ বাদ পড়তে পারে।’

অথচ আমাদের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি যে মলয় কুমার ও বলরাম দাসের খবর নেন, তাঁরা ভাড়াটিয়া হলেও প্রথমজন প্রায় এক যুগ আর দ্বিতীয়জন সাত বছর ধরে এখানেই বসবাস করছেন; এমনকি তাঁরা এখানকারই ভোটার।

আবার ফোন করে প্রভাষ সন্ন্যাসীকে ধরা গেল ২২ সেপ্টেম্বর; জানানো হলো মলয় কুমার ও বলরাম দাসের কথা। এবার তিনি নিজেই বের করলেন থলের বেড়াল; বললেন, ‘আমরা করবটা কী? গণনাকারী নিয়োগেও চেয়ারম্যান-মেম্বাররা নিজের লোক ঢুকিয়ে দেন। ওরা সব আনাড়ি, পরিসংখ্যানের কাজ কিচ্ছু জানে না, বোঝে না। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এ রকম এক গণনাকারীর দায়িত্ব ছিল ২৫০টি খানার তথ্য সংগ্রহের। কিন্তু এক সপ্তাহ সে কোনো কাজই করেনি। আমি আমার বসকে জানালে ওকে বাদ দেওয়া হয়। এভাবে রাজনৈতিক নিয়োগের লোকজন দিয়ে কোনো দিন সঠিক তথ্য-উপাত্ত মিলবে না।’

জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী কালের কণ্ঠ’র বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি গতকাল রবিবার সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলীকে জিজ্ঞেস করলে জবাব পান, ‘এ রকম জরিপের জন্য ওই বছর কেউ এসেছিল কি না আমার মনে পড়ে না।’

আর রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি গতকাল জানান, পাইকপাড়া ইউনিয়নের মিরাজ মাতব্বর, সদর ইউনিয়নের চৌয়ারিবাড়ি গ্রামের বিধান বিশ্বাস ও বাজিতপুর ইউনিয়নের চৌরাশি গ্রামের নির্মলানন্দ বিশ্বাস তাঁকে স্পষ্ট বলেছেন, খানা জরিপের কেউ কখনো তাঁদের বাড়িতে যাননি। 

বিবিএস তাদের জরিপের ভুলভ্রান্তি-গাফিলতি ধরতে যে প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়, সেই রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারও গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বিবিএসের ২৫৬ গণনাকারীর মধ্যে ৮০ জন ভালো কাজ করেছেন; বাকি ১৭৬ জনের তথ্য সংগ্রহে ভয়াবহ ঘাটতি ছিল।

তৃতীয় পক্ষ দিয়ে ভুল ধরেও উপেক্ষা : জরিপফল নিয়ে সমালোচনার মুখে দফায় দফায় বৈঠকের পর ভুলত্রুটি-অসংগতিগুলো বের করতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। দরপত্রে অংশ নেওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারকে সাড়ে ৩১ লাখ টাকা বাজেটের কাজটি দেওয়া হয়। তিন মাস কাজ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘কঠোর গোপনীয়’ প্রতিবেদনটি কালের কণ্ঠ’র হাতে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ঢাকায় বিবিএসের সদর দপ্তর থেকে যাঁদের মাঠ পর্যায়ে গিয়ে নজরদারি করার কথা, তাঁরা মাঠে যাননি। গণনাকারীরা জরিপের কাজে না গিয়ে দায়সারাভাবে অন্যকে দিয়ে কাজটি করিয়েছেন। জেলা পর্যায়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তারাও ফাঁকি দিয়েছেন। ফলে জরিপে এমন অস্বাভাবিক তথ্য উঠে এসেছে। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এমদাদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব ছিল গণনাকারী খানায় তথ্য সংগ্রহের জন্য গেছে কি না যাচাই করে দেখা। সে আলোকে আমরা একটি ছক করেছি। তাতে আমরা ভালো কিছু দেখিনি।’

বিস্ময়কর বিষয় হলো, ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ভুলত্রুটি বের করেও তাদের কোনো তথ্য কাজে লাগায়নি বিবিএস। সাধারণত পরিকল্পনামন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে জরিপের ফল ঘোষণা করা হয়। এবারও নিয়মমতো জরিপ শেষে ছয় মাসের মধ্যেই ফল ঘোষণা করা হয় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর। কিন্তু ওই ফলে নানা অসংগতি দেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবসহ বিভিন্ন মহলের ব্যাপক সমালোচনার মুখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়ে যাচাই করানো হয়। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া প্রতিবেদন আমলে না নিয়েই মন্ত্রী-সচিবকে পাশ কাটিয়ে গত ১৩ মে মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েনকে প্রধান অতিথি করে খানা আয়-ব্যয় জরিপের আগের ফলটিকেই চূড়ান্ত ফল হিসেবে প্রকাশ করে বিবিএস।

এ বিষয়ে বিবিএসের উপপরিচালক আব্দুল লতিফকে জিজ্ঞেস করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রতিবেদনটি তো আপনার কাছে যাওয়ার কথা নয়। কিভাবে আপনি পেলেন?’ তাঁর ভাষ্য, ‘ভালোর তো কোনো শেষ নেই। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি জরিপটি ভালো করার জন্য। মাঠ পর্যায়ে ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল এটা ঠিক; তবে সামনে যে খানা আয়-ব্যয় জরিপ করা হবে, সেখানে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রতিবেদনের মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হবে।’

সারা দেশে বিবিএসের জনবল বর্তমানে আছে এক হাজার ৯১৭ জন, শূন্য পদ আছে আরো দুই হাজার ৪১৬ জন, সব মিলিয়ে অনুমোদিত জনবল মোট চার হাজার ৩৩৩ জন। এই জনবলের মধ্যে একজন সচিব, একজন মহাপরিচালক, একজন উপমহাপরিচালক, পরিচালক আছেন সাত জন, যুগ্ম পরিচালক ১৪ জন, উপপরিচালক ৬০ জন, নবম গ্রেডের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আছেন ২০০ জন। এমন একটি শক্ত কাঠামোর প্রতিষ্ঠানে কেন বাইরের একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে খানা আয়-ব্যয় জরিপের ফল নিয়ে কাজ করাতে হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক ড. দিপংকর রায় গত ২১ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অন্যবারের তুলনায় এবারের জরিপে আমরা বেশিসংখ্যক খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। তাই সেখানে কোনো ত্রুটি আছে কি না তা দেখতে ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ৩১ লাখ টাকা খরচ করে যে প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছে, সেটি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সংযোজন করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক বললেন, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সংযোজন করা হয়নি।’ মাঠে না গিয়ে অফিসে বসে জরিপের কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে দিপংকর রায় বলেন, ‘এ নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।’

সরকারি জরিপে সরকারেরই প্রশ্ন : সরকারি সংস্থা বিবিএসের খানা জরিপের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ সরকারেরই আরেক সংস্থা বিআইডিএস। চলতি বছরের শুরুতে বিআইডিএস ‘কয়েকটি অঞ্চলে কেন দারিদ্র্য বাড়ে’ শিরোনামে একটি গবেষণা করে সিনিয়র রিসার্চ ফেলো জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে। ২০০৫, ২০১০ ও ২০১৬ সালের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তৈরি করা গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিবিএস বলছে দেশে গড় দারিদ্র্যের হার কমে ২১.৮ শতাংশ হয়। গড় দারিদ্র্য কমলে ২৩ জেলায় দারিদ্র্যের হার বাড়ে কিভাবে’—এই প্রশ্ন তোলা হয় প্রতিবেদনে। বিশেষ করে গত ছয় বছরে খাগড়াছড়িতে দারিদ্র্যের হার না কমে বেড়েছে ২৭ শতাংশ, দিনাজপুরে ২৬ শতাংশ এবং কিশোরগঞ্জে ২৩ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণার অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুরকে বেছে নেয় বিআইডিএস। তাতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামে দারিদ্র্যের হার ৭০.৮ শতাংশ অথচ পাশের জেলা দিনাজপুরে দারিদ্র্যের হার ৬৪.৩ শতাংশ। পাশাপাশি দুটি জেলা যেখানে সম-অর্থনীতির এলাকা, সেখানে দারিদ্র্যের হারে এত ফারাক থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জুলফিকার আলী। জেলাওয়ারি দারিদ্র্যের হার নিয়েও প্রশ্ন আছে তাঁর।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ড. দিপংকর রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর জন্য একটি দারিদ্র্যসীমার লাইন তৈরি করা হয়েছে। সে আলোকেই দারিদ্র্যের হার নিরূপণ করা হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানের শেষ পর্যায়ে এসে জানা গেল, নতুন করে বিবিএস যে খানা আয়-জরিপ করতে যাচ্ছে, সেখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগেরবার যেখানে ৪৬ হাজার ৮০টি খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, এবার সেটা কমিয়ে ১৪ হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ভুল সবই ভুল : চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) প্রণয়ন করতে গিয়ে বিবিএসের কাছ থেকে খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য চেয়েছিল পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। কিন্তু দফায় দফায় যোগাযোগ করেও দেশে দারিদ্র্যের হার কত, মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কিংবা কোন জেলায় দারিদ্র্যের হার কত—এসব তথ্য জানতে পারেনি জিইডি। পরে ২০১০ সালের খানা জরিপের ভিত্তিতেই সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তারা। এসব তথ্য জানিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম বলেন, এভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা করলে ভুল হবেই।

সপ্তম পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রণয়নে কতটা গলদ ছিল তা জানা গেল গত ১৩ মে খানা আয়-ব্যয় জরিপের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর। সেখানে দেখা গেল, কুড়িগ্রামে দারিদ্র্যের হার ৭০.৮ শতাংশ। দিনাজপুরে ৬৪.৩ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (এসডিজি শাখা) যুগ্ম সচিব মনিরুল ইসলাম, যিনি বছর তিনেক আগে পরিকল্পনা কমিশনে কর্মরত ছিলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠকে বলেন, এই তথ্য যদি তিন বছর আগেই পাওয়া যেত তাহলে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া যেত এবং বিশেষ বরাদ্দের সুপারিশও করা যেত। কিন্তু তথ্য না পাওয়ায় সপ্তম পাঁচসালা পরিকল্পনায় চির অবহেলিত উত্তরাঞ্চল অবহেলিতই রয়ে গেল।

আরেক ভুলের নমুনা কৃষিতে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের নাম প্রকাশে নারাজ একজন কর্মকর্তা বলেন, চাল উৎপাদন, মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণ এবং জনসংখ্যার ভিত্তিতে নীতিকৌশল প্রণয়ন করতে গিয়েও খটকার মধ্যে পড়তে হয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিবিএসের কৃষি শাখা থেকে বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৬২ লাখ টন। এর মধ্যে অপচয়, বন্যায় নষ্ট, বীজ সংরক্ষণ, গরুর খাবার বাদ দিয়ে থাকে দুই কোটি ৮৪ লাখ টন। অন্যদিকে খানা আয়-ব্যয় জরিপের ফলে দেখা গেছে, একজন মানুষ দৈনিক ৩৬৭ গ্রাম ভাত গ্রহণ করে। তাহলে ১৬ কোটি মানুষ বছরে ভাত তথা চাল খায় দুই কোটি ১৪ লাখ টন। এখানে উদ্বৃত্ত থাকে ৭০ লাখ টন। এখান থেকে আরো ১৪ লাখ টন সরকারের আপৎকালীন মজুদ বাদ দিলে থাকে ৫৬ লাখ টন। কমিশনের কর্মকর্তা প্রশ্ন তোলেন, বছরে যদি ৫৬ লাখ টন চাল উদ্বৃত্তই থাকে, তাহলে দেশে চাল আমদানি করা হয় কী কারণে? আবার ৫৬ লাখ টন উদ্বৃত্ত, আরো আমদানি—এত চাল দেশে উদ্বৃত্ত হলে বাজারে তার প্রভাব নেই কেন? তাঁর জোরালো যুক্তি, এখানে হয় জনসংখ্যা তথা আদমশুমারির গণনায় ভুল আছে; না হয় চাল উৎপাদনের তথ্যে সমস্যা আছে, না হয় মাথাপিছু ভাত গ্রহণের পরিমাণের তথ্যে ঘাপলা আছে। একটিতে ঘাপলা থাকার কারণে পুরো বিষয়টাতেই ভজকট বেধে গেছে।

বিবিএসের মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েনকে গত ২২ সেপ্টেম্বর ফোন করে জরিপ-শুমারির অরাজকতার বিষয় তুললে তিনি সব অভিযোগ পাশ কাটিয়ে শুধু বলেন, ‘নানা কারণেই খানা জরিপের ফল দিতে দেরি হয়েছে। আগে দিতে পারলে ভালো হতো।’ কৃষ্ণা গায়েন গত ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে গেছেন।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলমের কাছে বিষয়গুলো তুললে গত ১২ অক্টোবর তিনি বলেন, ‘যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্য জরুরি। নইলে যত উঁচু মানের পরিকল্পনাই গ্রহণ করা হোক না কেন, সেটার বাস্তবায়ন ব্যর্থ হবে। আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সঠিক তথ্য আনতে যাঁরা মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন, তাঁদের দক্ষ হতে হবে; পেশাদারিত্ব থাকতে হবে।’

ড. শামসুল আলম বলেন, ‘বিবিএসে দক্ষ জনবল তৈরি করা জরুরি বলে আমি মনে করি। সেটি নিশ্চিত করতে না পারলে ভালো মানের জরিপ-শুমারি করা কখনোই সম্ভব হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা