kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

জ্বর

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে জ্বরের উল্লেখ আছে]

২৭ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জ্বর

মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৭.৭ থেকে ৯৯.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে, গা ম্যাজ ম্যাজ করতে শুরু করলে তাকে জ্বর বলা যায়। জ্বর কোনো রোগ নয়, বিভিন্ন রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়লেও সাধারণত ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।

বিজ্ঞাপন

নানা কারণে জ্বর হতে পারে। সামান্য ঠাণ্ডা লাগলে কিংবা শরীরের কোথাও জীবানুর সংক্রমণ বা  ইনফেকশন হলেও জ্বর হয়। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানেই জ্বর নয়। একজন সুস্থ মানুষ যখন ব্যায়াম করে, তখন তার দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে, কিন্তু তা জ্বর নয়। অন্যদিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রাও কারো জন্য জ্বর হিসেবে গণ্য হয়, যেমন—অসুস্থ রোগীর ৯৯.১৪ ফারেনহাইটই জ্বর হিসেবে গণ্য হবে।

শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঁপুনি, খিদের অভাব, ডিহাইড্রেশন, ডিপ্রেশন, হাইপারঅ্যালগেসিয়া বা অতি অল্পেই অতিরিক্ত যন্ত্রণাবোধ, লেথার্জি, ঘুম ঘুম রেশ থাকে। অনেক সময়ে জ্বর বাড়লে ডিলিরিয়াম বা প্রলাপ বকার মতো লক্ষণও দেখা যায়। তবে জ্বরের পাশাপাশি আনুষঙ্গিক লক্ষণই কিন্তু বলে দিতে পারে আসল উৎসটা কী।

কোনো ইনফেকশন, কাশতে কাশতে গলা চিরে যাওয়া, ফ্লু, চিকেন পক্স, নিউমোনিয়া, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হিট স্ট্রোক, অ্যালকোহল উইথড্রয়াল, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, করোনাভাইরাস নানা কারণে জ্বর আসতে পারে। জ্বরের তীব্রতা কেমন, তা নির্ভর করে সাধারণত দুটি বিষয়ের ওপর। একটি হলো তাপমাত্রা, অন্যটি সময়সীমা। শরীরের তাপমাত্রার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে জ্বরকে সাধারণত লো গ্রেড (১০০.৫ থেকে ১০২.১ ডিগ্রি ফারেনহাইট), মডারেট (১০২.২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট), হাই (১০৪.১ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ও হাইপার (১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে)—এই চার ভাগে ভাগ করা যায়। আবার সময়সীমার ওপর নির্ভর করে জ্বরকে ভাগ করা যায় তিনটি ভাগে। জ্বর সাত দিনের কম স্থায়ী হলে তাকে বলা হয় অ্যাকিউট ফিভার। তা বেড়ে যদি ১৪ দিন পর্যন্ত থাকে, তখন তা পরিচিত সাব-অ্যাকিউট ফিভার নামে। আর জ্বর ১৪ দিনেরও বেশি স্থায়ী হলে তাকে বলা হয় ক্রনিক বা পারসিস্ট্যান্স ফিভার।

যেকোনো রকমের জ্বর হলেই প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল খাওয়া শ্রেয়। এতে শরীরের তাপমাত্রা কমতে সাহায্য করে। কোনো ভাইরাস, ফাঙ্গাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করার জন্য শরীরের তাপমাত্রা কমানোও জরুরি। প্রয়োজন বুঝে দিনে তিন-চারবার পর্যন্ত প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে বাংলাপিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় জ্বর সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]

 



সাতদিনের সেরা