kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দূর্বা ঘাস

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে দূর্বা ঘাসের উল্লেখ আছে]

৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দূর্বা ঘাস

দূর্বা ঘাসকে অনেকে অপ্রয়োজনীয় আগাছা মনে করলেও এটি মূলত ভেষজগুণসম্পন্ন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। আমাদের মানবদেহকে সুস্থ ও সবল রাখতে এই ঘাস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। দূর্বা সংস্কৃত শব্দ। এটি Poaceae পরিবারের অন্তর্গত।

বিজ্ঞাপন

এর বৈজ্ঞানিক নাম Cynodon dactylon। হিন্দি ও ওড়িশায় একে দুব এবং ইংরেজিতে এটি Bermuda grass ও Dove grass নামে পরিচিত। এ ছাড়া সহস্রবীর্য, শত পার্বিকা প্রভৃতি নামেও একে ডাকা হয়। দূর্বা ঘাসে টারপিনয়েড যৌগ যেমন—অরুনডেইন, লুপিনোন ইত্যাদির পাশাপাশি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং বেশ কিছু অর্গানিক এসিড পাওয়া যায়।

দূর্বা আমাদের দেশে অতি পরিচিত একটি ঘাস। এটি রাস্তার ধারে পতিত জমিসহ প্রভৃতি স্থানে প্রচুর জন্মে। প্রত্যেক পর্ব থেকে নিচে গুচ্ছমূল এবং ওপরে সবুজ পাতাযুক্ত একগুচ্ছ শাখা বের হয়। পাতা সরু, লম্বা, সবুজ ও মসৃণ এবং দুই সারিতে সজ্জিত। সাধারণত দূর্বা ঘাস দীর্ঘকাল প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে। আমাদের দেশে দূর্বা ঘাসের জন্য মূলত নির্দিষ্ট করে চাষাবাদের প্রয়োজন হয় না। বৈশাখের প্রথম বৃষ্টির পরপরই এই ঘাস মাঠে-ময়দানে, ঘরবাড়ির আনাচকানাচে আপনা-আপনি জন্মাতে শুরু করে। এদের মূল মাটির নিচে গুচ্ছ আকারে থাকে।

আয়ুর্বেদীয় মতে, দূর্বা ঘাস মহৌষধ। শরীরের কোনো স্থান কেটে গেলে দূর্বা ঘাস পিষে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দূর্বার শিকড় বেশি কার্যকর। চুল পড়া প্রতিরোধে নারকেল তেলের সঙ্গে দূর্বার রস মিশিয়ে চুলে দিলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। বমি বমি ভাব হলে এই রস খেলে বমির ভাব দূর হয়। ডালিম পাতা বা ডালিমের ছালের রসের সঙ্গে দূর্বা পাতার রস মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়। আমাদের দেহে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ হ্রাস করতে সক্ষম দূর্বার রস। এ ছাড়া এই ঘাস শুকিয়ে গুঁড়া করে সেই গুঁড়া দিয়ে দাঁত মাজলে মাড়ির পাইরিয়া রোগ সেরে যায়।

 

  ►   ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

[আরো বিস্তারিত জানতে উইকিএডুকেটর, উইকিপিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় দূর্বা ঘাস সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো। ]



সাতদিনের সেরা