kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কৈবর্ত বিদ্রোহ

রিদওয়ান আক্রাম   

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৈবর্ত বিদ্রোহ

শিল্পীর চোখে কৈবর্ত বিদ্রোহ

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে কৈবর্ত বিদ্রোহের উল্লেখ আছে]

কৈবর্ত বিদ্রোহকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ। যদিও কৈবর্ত বিদ্রোহ শুধুই জনবিদ্রোহ ছিল না, বরং তাতে যুক্ত হয়েছিল তৎকালীন সামন্তদের একটি বড় অংশ। তার পরও বাংলার ইতিহাসে কৈবর্ত বিদ্রোহ একটি জনবিদ্রোহ হিসেবেই ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে। এ সময় পাল বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় মহীপাল, যাঁর রাজত্বকাল ধারণা করা হয় ১০৭৫ সাল থেকে ১০৮০ সালের মধ্যে। এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্যক বা দিব্য। তিনি খুব সম্ভব প্রথম দিকে পালদের একজন রাজকর্মচারী কিংবা সামন্ত ছিলেন। কৈবর্তদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করেন তিনি। অনেক সামন্তও তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

কৈবর্ত শব্দটি এসেছে ‘ক’ (পানি) এবং ‘বর্ত’ (জীবনযাপন) শব্দ দুটি থেকে। কৈবর্তরা জেলে সম্প্রদায় হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের জীবনযাপন ছিল পানিকেন্দ্রিক। তবে অনেকে এটাও বলে থাকেন, কৈবর্তের মধ্যে কৃষকও ছিল। বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষেরা পরিচিত ছিল শান্ত ও নিরীহ মানুষ হিসেবে। তবে কেন এই লোকগুলো বিদ্রোহ করে বসল?

কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় ধর্মীয় কারণকে। পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের। তাঁরা তাঁদের অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী এবং জীব হত্যার বিরোধী ছিলেন। কৈবর্তরা জেলে হওয়ায় মাছ ধরাই ছিল প্রধান পেশা। তবে শুধু কৈবর্তরা নয়, বরং বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাসকারী  বেশির ভাগ মানুষই মৎস্যভোজী ছিল। দ্বিতীয় মহীপালের সময় জীব হত্যার কথা তুলে তাদের এই পেশাকে নিরুৎসাহ এবং বাধাগ্রস্ত করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে নেমে আসে কঠোর শাস্তি। এসব কারণের পাশাপাশি মহীপাল তাঁর রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। ফলে অঞ্চলের মানুষের অসন্তোষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে সময় লাগেনি।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহের ডাক দেন দিব্য। কৈবর্তরা এতে সাড়া দেয় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যের বরেন্দ্র অংশ অধীনে আনতে সক্ষম হয়। কৈবর্তরা নৌকা চালাতে পারদর্শী ছিল বলে তারা নৌযুদ্ধকেই প্রাধান্য দেয়। রাজা দ্বিতীয় মহীপাল যুদ্ধে নিহত হন এবং এর ফলে কিছুদিনের জন্য হলেও পাল সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর মধ্যেই দিব্যর নেতৃত্বে বরেন্দ্রকে রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা হয়। দিব্যর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন তাঁর ছোট ভাই রুদোক এবং এর পরে রুদোকপুত্র ভীম।

 



সাতদিনের সেরা