kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

থানকুনি

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে থানকুনির উল্লেখ আছে]

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



থানকুনি

থানকুনি Apiaceae পরিবারের অন্তর্গত এক ধরনের ছোট একবর্ষজীবী লতাজাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতা গোলাকৃতির এবং পাতার কিনারায় খাঁজ রয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Centella asiatica।

আমাদের দেশে ঔষধি গাছ হিসেবে এই উদ্ভিদ খুবই পরিচিত। সাধারণত স্যাঁতসেঁতে ও লবণাক্ত আবহাওয়ায় থানকুনি ভালো জন্মে। বাংলাদেশ, ভারত, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া ও এশিয়ার অন্যান্য প্রান্তে এই উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের দেশে পুকুরপার বা জলাশয়ের পাশে এদের বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে, রাস্তার পাশে বা ক্ষেতের আলে এই উদ্ভিদের উপস্থিতি নজরে আসে। এ ছাড়া থানকুনি শহরাঞ্চলে বাড়ির ছাদে বা বারান্দার টবেও চাষ করা যায়।

অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি প্রভৃতি নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই চেনে। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো এসিড, বিটা ক্যারোটিন ও ফাইটোকেমিক্যাল ত্বকে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থানকুনি। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমায়।

থানকুনি পাতায় আছে প্রচুর ভিটামিন সি। তাই এই পাতা নিয়মিত খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। এই পাতার রস মুখে মাখলে ব্রণ দূর হয়। মুখে ঘা ও অন্যান্য ক্ষতে জন্যও এই রস উপকারী। এ ছাড়া সর্দি, আমাশয়, গলা ব্যথা বা সাময়িকভাবে কাশির প্রকোপ কমাতে এই পাতার রস সাহায্য করে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল



সাতদিনের সেরা