kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অমাবস্যা

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ে ‘অমাবস্যা’র কথা উল্লেখ আছে]

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অমাবস্যা

জ্যোতির্বিদ্যা অনুসারে, অমাবস্যা হচ্ছে চন্দ্রকলার প্রথম ধাপ। এটি মূলত সেই সময়, যখন চাঁদ ও সূর্য একই বরাবর থাকে। ফলে পৃথিবী থেকে চাঁদকে তার কক্ষপথে দেখা যায় না। চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। মানুষ শুধু চাঁদের আলোকিত অংশই দেখতে পায়। চাঁদ দেখতে কখনো বড়, কখনো ছোট এবং কখনো গোলাকার বা অর্ধ গোলাকারের হয়। যখন চাঁদের আলোকিত অংশ একেবারেই দেখা যায় না, তখন একে অমাবস্যা বলে। আর যখন চাঁদের আলোকিত অংশ সম্পূর্ণ গোলাকার দেখা যায়, তখন তাকে পূর্ণিমা বা ফুল মুন বলে। অমাবস্যা থেকেই চাঁদের আকার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পূর্ণিমায় গিয়ে চাঁদ পায় পূর্ণতা। যদিও অমাবস্যার সময় চাঁদকে খালি চোখে দেখা যায় না; কিন্তু এই দশায় চাঁদ খুব চিকন রেখারূপে বিরাজমান থাকে। কারণ সূর্যগ্রহণ ছাড়া বাকি সময় চাঁদ সূর্যকে সরাসরি সম্পূর্ণরূপে অতিক্রম করে না। ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী প্রতি মাসে একটি পূর্ণিমা এবং একটি অমাবস্যা পাওয়া যায়। ২০১৩ সালের ৮ জুলাই, ফরাসি জ্যোতির্বিদ থিয়েরি লিগ্যাল সর্বপ্রথম অমাবস্যার ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই সময় চাঁদ খালি চোখে দৃশ্যমান ছিল না।

চান্দ্রমাস বলতে এক অমাবস্যা থেকে আরেক অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কালকে বোঝায়। চান্দ্রমাসের গড় সময়কাল ২৯ দিন, ১২ ঘণ্টা, ৪৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড। যদিও যেকোনো চান্দ্রমাস ২৯.২৬ দিন থেকে ২৯.৮০ দিন সময়কালের মধ্যে যেকোনোটাই হতে পারে। এর পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে চাঁদের ওপর সূর্যের আকর্ষণ। চন্দ্রপঞ্জিকা অনুসারে, প্রত্যেক মাস একটি নির্দিষ্ট চান্দ্রমাসকে নির্দেশ করে এবং প্রতিটি চন্দ্রচক্র একটি অনন্য চান্দ্রমাস সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত হয়। পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। পৃথিবী যখন চাঁদ ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে অর্থাৎ একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর আড়ালে চাঁদ ঢাকা পড়ে যায়। ফলে চন্দ্রগ্রহণ হয়। আর চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন সূর্য চাঁদের আড়ালে চলে যায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। সূর্যগ্রহণ হয় অমাবস্যার সময়। সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব কয়েক মিনিট হলেও চন্দ্রগ্রহণের স্থায়িত্ব ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণভাবে বললে, পূর্ণিমা মানে আলোকোজ্জ্বল অবস্থা আর অমাবস্যা হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা।

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা