kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

স্যাকরা

[সপ্তম শ্রেণির বাংলা আনন্দপাঠ বইয়ের ‘তোতাকাহিনী’ গল্পে স্যাকরার কথা উল্লেখ আছে]

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্যাকরা

স্যাকরা হচ্ছে স্বর্ণকার। স্বর্ণকার হচ্ছে সোনা বা রুপার অলংকার তৈরি করে জীবিকা নির্বাহকারী পেশাজীবী গোষ্ঠী। এরা চুড়ি, বাজুবন্দ, হার, হাঁসুলি, সীতাপাট, দুল, কানপাশা, নোলক, নথ, নাকছাবি, মল ইত্যাদি অলংকার তৈরি করে। এ শ্রেণির কারিগররা স্বর্ণের সঙ্গে খাদ মিশিয়ে নানা ডিজাইনের অলংকার প্রস্তুত করে থাকে। এরা নিজেদের কাজে কামারদের চেয়ে ছোট আকারের চুল্লি ও হাপর ব্যবহার করে।

সোনা বা রুপার টুকরা একটি মাটির পাত্রে রেখে কারিগররা পিতলের ফুকনি দিয়ে অগ্নিশিখা প্রবাহিত করে সোনা বা রুপা নরম করে বিভিন্ন ছাঁচে ফেলে বা চিমটার সাহায্যে হরেক রকম ডিজাইনের অলংকার তৈরি করে। ঐতিহাসিকভাবে ভারতে স্বর্ণকার সম্প্রদায় শাঁখরা বা স্যাকরা বা সাধু ভাষায় সুবর্ণকার নামে পরিচিত। বাংলায় তাদের ব্রাহ্মণদেশি, দক্ষিণ রাঢ়ি, খলঙ্গি ও উত্তর রাঢ়ি—এই চারটি অনুসম্প্রদায়ে ভাগ করা হয়েছে।

স্বর্ণকার সম্প্রদায়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার চল ছিল। বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান সম্পাদনে আজও অনেক প্রাচীন রীতি মান্য করা হয়। স্বর্ণকারদের মধ্যে বিধবা বিয়ের প্রচলন নেই। স্ত্রীর ব্যভিচারের ক্ষেত্রে বিয়েবিচ্ছেদের বিধান আছে। ধর্ম বিচারে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তর্গত শাক্ত অথবা বৈষ্ণব। বিশ্বকর্মা তাদের পূজনীয় দেবতা। স্বর্ণকার সম্প্রদায়ের মহিলাদের কুলাই নামে একটি বিশেষ উৎসব আছে। এটি কোনো পুরোহিত ছাড়াই বৃষ্টির দিনে অনুষ্ঠিত হয়।

আগেকার দিনে স্বর্ণকাররা শুধু নিজ নিজ পেশায়ই নিয়োজিত থাকত। এখন জীবনধারণের নিমিত্তে অনেক স্বর্ণকার ছোটখাটো নানা পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করছে। আধুনিক জুয়েলারির উন্নয়ন ইমিটেশন অলংকারের আবির্ভাব এবং অলংকার তৈরির আধুনিক প্রযুক্তিও স্বর্ণকারদের পেশাকে ক্রমাগত সংকুচিত করছে। বেশির ভাগ স্বর্ণকারই পুঁজির অভাব ও নানা জটিলতার কারণে এখন বর্তমানের বাজার থেকে ছিটকে পড়ছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণ পাচারকারীরা আজকাল এ ব্যবসায় প্রাধান্য বিস্তার করে চলছে। স্বর্ণকাররা তাদের অধীনে বেতনভুক কর্মচারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক জুয়েলারি ব্যবসায় এখন আর হিন্দু সম্প্রদায়ের একচেটিয়া দখলে নেই। অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও আজকাল এ ব্যবসায় অংশগ্রহণ করছে।

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা