kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

অষ্টম শ্রেণি ► বিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অষ্টম শ্রেণি ► বিজ্ঞান

অ ধ্যা য় ভি ত্তি ক  প্র শ্ন

দ্বিতীয় অধ্যায়

জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি

[গতকালের পর]

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

 

১৫। বংশগত বৈশিষ্ট্য কী?

            উত্তর : সন্তানরা পিতা-মাতার যেসব বৈশিষ্ট্য পায়, সেগুলো বংশগত বৈশিষ্ট্য।

 

১৬। DNA কী?

            উত্তর : DNA হলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক।

 

১৭। DNA-এর পূর্ণরূপ কী?

            উত্তর : DNA-এর পূর্ণরূপ হলো ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড।

 

১৮। RNA-এর পূর্ণরূপ কী?

            উত্তর : RNA-এর পূর্ণরূপ হলো রাইবো নিউক্লিক এসিড।

 

১৯। জিন কী?

            উত্তর : জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একককে জিন বলে।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১।        অ্যামিবার কোষ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয় কেন?

            উত্তর : অ্যামিবার মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। এ জন্য অ্যামিবার কোষ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়।

 

২।        মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বা ইকুয়েশনাল ডিভিশন বলা হয় কেন?

            উত্তর : মাইটোসিস বিভাজনে প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান থাকে। এ কারণে মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বা ইকুয়েশনাল ডিভিশন বলা হয়।

 

৩।        বহুকোষী জীবের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় কেন?

            উত্তর : বহুকোষী জীবের ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে একই আকৃতি ও গুণসম্পন্ন অপত্য কোষ সৃষ্টি করে থাকে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কারণেই বহুকোষী জীব দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়।

 

৪।        নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমগুলো কখন সবচেয়ে খাটো ও মোটা হয়—ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমগুলো কোষ বিভাজনের মেটাফেজ ধাপে সবচেয়ে খাটো ও মোটা হয়। এই ধাপে ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। তন্তু দিয়ে সেন্ট্রোমিয়ারের সঙ্গে আটকে থাকে। তখন ক্রোমোজোম সবচেয়ে খাটো ও মোটা হয়ে থাকে।

 

৫।        সব ট্র্যাকশন তন্তুই স্পিন্ডল তন্তু; কিন্তু সব স্পিন্ডল তন্তুই ট্র্যাকশন তন্তু নয়—ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডল যন্ত্রের একটি তন্তুর সঙ্গে সংযুক্ত হয়। স্পিন্ডল যন্ত্রের প্রতিটি তন্তুকে স্পিন্ডল তন্তু বলে। আর যে তন্তুর সঙ্গে সেন্ট্রোমিয়ার সংযুক্ত হয় তাকে ট্র্যাকশন তন্তু বলে। অর্থাৎ কোনো স্পিন্ডল তন্তুর সঙ্গে সেন্ট্রোমিয়ার সংযুক্ত তন্তুই স্পিন্ডল তন্তু; কিন্তু সব স্পিন্ডল তন্তুই ট্র্যাকশন তন্তু নয়।

 

৬।       মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?

            উত্তর : মিয়োসিস কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুইবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।

 

৭।        মিয়োসিস প্রয়োজন কেন?

            উত্তর : মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়। ফলে দুটি জনন কোষ একত্র হয়ে যে জাইগোট গঠন করে তার ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যার অনুরূপ থাকে। এতে নির্দিষ্ট প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা বজায় থাকে। মূলত এই বিভাজনের কারণেই প্রতিটি প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় টিকে থাকে বলে মিয়োসিস অতি প্রয়োজনীয়।

 

৮।        মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয় কেন?

            উত্তর : মেন্ডেল ১৮২২ সালে অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম যিনি বংশগতির ধারা সস্পর্কে সঠিক ধারণা দেন তাঁর নাম গ্রেগর জোহান মেন্ডেল। বর্তমানে বংশগতি সম্পর্কে আধুনিক যে তত্ত্ব প্রচলিত আছে তা মেন্ডেলের আবিষ্কারতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয়।

 

৯।  ক্রোমোজোম বংশগতিতে ভূমিকা রাখে—ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নির্দিষ্টসংখ্যক সুতার মতো ক্রোমোজোম নামের অংশগুলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। বংশগতির পরিবহনে ক্রোমোজোমের DNA জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ধারক এবং জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো পুরুষানুক্রমে বহন করে। এ জন্য ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।

১০। রাফির চুল তার বাবার মতো হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : রাফির চুল তার বাবার মতো হওয়ার কারণ হচ্ছে তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA-এর অংশ জিন। যে জিন রাফির বাবার বৈশিষ্ট্য ধারণ করে সেই জিন বংশানুক্রমে রাফির দেহেও রয়েছে এবং রাফির বাবার বৈশিষ্ট্য রাফির মধ্যেও রয়েছে। তাই রাফির চুল তার বাবার মতো হয়েছে।

 

১১। ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেন?

            উত্তর : নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নির্দিষ্টসংখ্যক সুতার মতো অংশগুলোকে ক্রোমোজোম বলে। বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। ক্রোমোজোম বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য কোষ বিভাজনের সময় জিনকে সরাসরি মাতা-পিতা থেকে বহন করে পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। এ জন্য ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা