kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চিল

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চিল

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘সুন্দরবনের প্রাণী’ প্রবন্ধে চিলের কথা উল্লেখ আছে]

চিল Kite Accipitridae গোত্রের,  Ciconiiformes বর্গের দিবাচর পাখি। আকারে ভিন্ন হলেও বেশির ভাগ চিলের গড়ন হালকা। ডানা দুটি বেশ সরু ও দীর্ঘ, পা দুর্বল ও খাটো। শঙ্খচিল, কালোডানা চিল, কালোকাঁধ চিল, ধলালেজি চিল, মুক্তো চিল, ভুবন চিলসহ পৃথিবীতে ২০ প্রজাতির চিল রয়েছে। বাংলাদেশে চার প্রজাতির চিল দেখা যায়। এর মধ্যে তিনটি স্থায়ী ও একটি পরিযায়ী। স্থায়ী তিন প্রজাতির চিল হচ্ছে— কালোকাঁধ চিল (ইংরেজি নাম Black-shouldered Kite, বৈজ্ঞানিক নাম Elanus caeruleus), শঙ্খচিল (ইংরেজি নাম Brahminy Kite, বৈজ্ঞানিক নাম Haliastur indus) ও ভুবন চিল (ইংরেজি নাম Black  Kite, বৈজ্ঞানিক নাম Milvus migrans)। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ঘুরেফিরে চিলের প্রসঙ্গ এসেছে। তাঁর বিখ্যাত ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় তিনি লিখেছেন,

‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে—এই বাংলায়

হয়তো মানুষ নয়—হয়তোবা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;’

চিল এক ধরনের শিকারি পাখি। এদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। শিকারের খোঁজে এরা আকাশে ডানা স্থির রেখে চক্রাকারে ঘুরপাক খায়। সাধারণত কীটপতঙ্গ, উভচর প্রাণী ও  সরীসৃপ শিকার করে। পানি ও জলাধারের কাছে থাকা শঙ্খচিলকে মাছ খেতেও দেখা যায়। চিল মৃত প্রাণীও খায়। ভুবন চিল বহু রকমের খাদ্য খায়; কিন্তু শব, মল ও অন্য বর্জ্যে তাদের রুচি কয়েক গুণ বেশি। একসময় বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই চিল দেখা যেত। এখন এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ খাদ্য ও প্রজনন সংকট। এখন আর আগের অবস্থায় প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো নেই। নেই পর্যাপ্ত খাবার; যেখানে তারা দলবদ্ধভাবে মাছ শিকার করে বেঁচে থাকতে পারে। বড় বড় প্রাকৃতিক গাছের সমাহারও এখন নেই; যেখানে তারা নির্বিঘ্নে বাসা তৈরি করে ছানা উৎপাদন করতে পারবে। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, শস্যক্ষেতে বিষটোপ, কীটনাশকের ব্যবহার, গবাদি পশু চিকিৎসায় প্রদাহরোধক ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ব্যবহার, খাদ্যের অপর্যাপ্ততা, বাসস্থানের অভাবের কারণে প্রজনন সমস্যায় চিল বিলুপ্তির পথে রয়েছে। সে কারণেই আগের মতো প্রকৃতিতে সেভাবে চিলের বিচরণ চোখে পড়ছে না।             

                     - পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা