kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের অষ্টম অধ্যায়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কথা উল্লেখ আছে]

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ শিশু একাডেমি

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বাংলাদেশের শিশুদের জন্য জাতীয় একাডেমি। শিশুদের প্রতিভা, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই একাডেমি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই শিশু। এই শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ১৯৭৬ সালে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে ১৯৭৭ সালে ঢাকার পুরনো হাইকোর্ট এলাকায় এই একাডেমি স্থানান্তর করা হয় এবং প্রায় ৩.৬৯ একর জমির ওপর চারটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সেই ভবন চারটি হচ্ছে—প্রশাসনিক ভবন, মিলনায়তন, জাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি এবং প্রকাশনা ও লেকচার থিয়েটার ভবন। বর্তমানে এই চারটি ভবন থেকেই এই একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো হলো—জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে শিশুদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা, শিশুদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে শিশুদের সহায়তা করা, শিশুদের আইনগত অধিকার রক্ষার্থে সাহায্য করা প্রভৃতি। শুরুতে একাডেমির কার্যক্রম রাজধানীকেন্দ্রিক হলেও পরে এর শাখা সারা দেশে বিস্তৃত হয়। বর্তমানে সারা দেশে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৭০টি শাখা আছে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সনামে নিজস্ব প্রকাশনা বিভাগ আছে। এখান থেকে প্রতিবছর অসংখ্য মানসম্মত শিশুতোষ বই-পুস্তক  প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া এখান থেকে শিশুদের জন্য ‘শিশু’ নামে নিয়মিত একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বছরব্যাপী যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা। ১৯৭৮ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার ৬২টি বিষয়ে আঞ্চলিক, উপজেলা, জেলা ও জাতীয়—এ চারটি পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় প্রতিবছর সারা দেশের প্রায় তিন লাখ শিশু অংশ নেয় এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়।

১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছে। এসবের মধ্যে চিত্রাঙ্কন, সংগীত, নৃত্য, নাট্যকলা, আবৃত্তি, উচ্চারণ ও সরব পাঠ, তবলা, গিটার, স্পোকেন ইংলিশ ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষণ অন্যতম। দরিদ্র শিশুদের জন্য রয়েছে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এ ছাড়া শিশু একাডেমির তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ‘শিশুর বিকাশে প্রারম্ভিক শিক্ষা প্রকল্প’ এবং ‘সিসিমপুর আউটরিচ প্রকল্প’ নামে দুটি প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য